leadT1ad

আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডের পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১০: ০৩
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ (ডানে) এবং জ্যারেড কুশনার (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

স্থায়ী চুক্তির আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর তুমুল লড়াইয়ে হরমুজ প্রণালি ফের চালু এবং তেল সরবরাহ স্থিতিশীল করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

গত শুক্রবার ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এরপরই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন অগ্রগতির এই তথ্য জানা গেল।

যুদ্ধ বন্ধে গত বৃহস্পতিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। ওই সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য জটিল বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করে একটি স্থায়ী চুক্তি করতে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তবে সমঝোতা না মেনে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালু রাখায় আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বাতিল হয় ভ্যান্সের সফর।

আলোচনায় অংশ নিতে উইটকফ সুইজারল্যান্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দেবেন। কুশনার ইতোমধ্যেই সেখানে অবস্থান করছেন বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। আরাগচি শনিবার সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে, উভয় পক্ষই একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। তবে উইটকফের এই সফর নিয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।

একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা জানান, লেবাননে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহায়তায় এটি করেছেন।

হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়টার্সের কাছে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি হিজবুল্লাহ আমাদের ওপর আক্রমণ না করে, তবে আমাদের জন্যও এটি যুদ্ধের সময় নয়। তবে তিনি জানান, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনা অবস্থান রাখবে।

লেবাননের দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ঘণ্টায় ইসরায়েল ডজনখানেক বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে বিকেল ৫টার পর আর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে একটি ঘটনায় তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

লেবাননের এই সংঘাত আলোচনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, সেখানে লড়াই বন্ধ হওয়াটা মার্কিন-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।

Ad 300x250

সম্পর্কিত