ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

মৃত্যু অন্তত ২৩৫, ধ্বংসস্তূপে চাপাপড়াদের উদ্ধারের যুদ্ধ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে তৎপরতা। ছবি: বিবিসি

ভেনেজুয়েলায় পরপর আঘাত হানা দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৩৫ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি আহত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপাপড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে। উদ্ধারকর্মীরা তাই চালাচ্ছেন জোর তৎপরতা।

দেশটির রাজধানী কারাকাস এবং এর কাছাকাছি উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাতে ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে এখনও সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড পরই আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় (২০.৩ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার) ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা অনেক বেশি ছিল।

বুধবার ভেনেজুয়েলায় জাতীয় ছুটি থাকায় সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ নিজেদের ঘরে ছিলেন। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক হতে পারে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে অনেকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। বাকিদের মধ্যে হাজারো মানুষের বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোলা রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পের পরপরই দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশটি সহানুভূতি জানানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী ও সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, প্রায় ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরাতে। ওই রাজ্যে একটি ১০তলা হোটেল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ভিডিও বিবিসি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার সেখানে অনেককে প্রিয়জনের খোঁজ করতে দেখা গেছে।

দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি ১০তলা ভবন ছিল। ভূমিকম্পে এভাবেই অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ছবি: বিবিসি
দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি ১০তলা ভবন ছিল। ভূমিকম্পে এভাবেই অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ছবি: বিবিসি

হুয়ান ওরতিজ নামে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মারা গেছেন। আরেকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে তাঁর পরিচিত আরও প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

কারাকাসের এই শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্তব্ধ ও বিভ্রান্ত এবং কোনো সাহায্য করতে না পেরে চরম হতাশ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাসেও বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। এ ছাড়া ট্রুজিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া এবং মিরান্দা অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কারাকাসের অন্যতম বৃহৎ মেট্রোপলিটন এলাকা চাকায়োর মেয়র গুস্তাভো দুকে বৃহস্পতিবার একটি বিধ্বস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, সেখানে ১১ জন মারা গেছেন এবং ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তারা ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন যাতে যারা এখনও বেঁচে আছেন তাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জীবিত যত মানুষকে সম্ভব উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত