leadT1ad

ইরানের মতোই অবস্থা রাশিয়ার, গুপ্ত হামলায় হারাচ্ছে শীর্ষ জেনারেলদের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭: ২৬
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গুপ্ত হামলার মুখে আছেন রুশ সামরিক কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের মতোই অবস্থা হয়েছে রাশিয়ার। কয়দিন পর পরই রাশিয়ার ভেতরে গুপ্ত হামলায় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণ হারাচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারা এসব অজ্ঞাত হামলা চালাচ্ছে তার খুব একটা হদিস পাচ্ছে না; যদি না কেউ নিজ থেকে হামলার দায় স্বীকার করে।

এই ক্ষেত্রে ইরান অবশ্যই একটু এগিয়ে। কারণ দেশটি অন্তত সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে, দেশটিতে চালানো হামলায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও দেশের অভ্যন্তরে থাকা দোসররা জড়িত। কিন্তু রাশিয়া সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। তবে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভের বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সর্বশেষ রুশ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে মস্কোতে বেশ কয়েকবার গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত এক বন্দুকধারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেস্কিয়েভ নামে ওই কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। তিনি রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জেনারেল স্টাফের প্রধান অধিদপ্তরের উপপ্রধান।

রাশিয়ান ইনভেস্টিগেটিভ কমিটির (আইসিআর) মুখপাত্র সেভেতলানা পেট্রেনকো জানান, একটি আবাসিক ভবনে অবস্থানকালে ভ্লাদিমির আলেস্কিয়েভের ওপর হামলা চালানো হয়।

সাংবাদিকদের পেট্রেনকো বলেন, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হত্যাচেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্র বহনের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। মস্কোর ভলোকোলামস্ক হাইওয়ের একটি ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ সেনা কর্মকর্তাকে শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তদন্তকারী এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা সিকিউরিটি ক্যামেরা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

উল্লেখ্য, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ওয়াগনার গ্রুপের নিহত নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে আলেক্সিয়েভও ছিলেন। ইয়েভজেনি প্রিগোজিন ২০২৩ সালে মস্কোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। অবশ্য এই ঘটনার জন্য অনেক পর্যবেক্ষক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করেন।

ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড

চার বছর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন রুশ কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে কিয়েভকে দায়ী করে আসছে মস্কো। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এসব হামলার দায়ও স্বীকার করেছে।

সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন জেনারেল স্টাফের আর্মি ট্রেনিং ডিরেক্টরেটের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফ্যানিল সারভারভ। গত ২২ ডিসেম্বর তাঁর গাড়ির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন।

এদিকে, গত জানুয়ারিতে এক উজবেক নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে রাশিয়ার একটি আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে রুশ সেনাবাহিনীর রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান জেনারেল ইগর কিরিলভকে হত্যার দায়ে তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

মস্কোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় পুঁতে রাখা বোমাটি বিস্ফোরণে জেনারেল ইগর কিরিলভ নিহত হন। এই ঘটনার পর কিয়েভ বলছিল, তাদের পরি কল্পনায় এই হামলাটি হয়েছিল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত