ইরান যুদ্ধে ধাক্কার পর এবার কূটনৈতিক সাফল্যের সন্ধানে চীন সফরে ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৯: ৩৬
২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় জি–২০ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে একসময় বড় ধরনের সাফল্যের আশা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তার ধারণা ছিল, উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে চীনকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা যাবে। তবে নানা আইনি জটিলতা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে এবার সীমিত লক্ষ্য নিয়েই বেইজিং সফরে যাচ্ছেন তিনি। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

আগামী ১৪ ও ১৫ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি, ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের কাঠামো এবং ইরান যুদ্ধের সমাধানে চীনের সহায়তা চাইবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গত অক্টোবরে বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িক স্থগিতের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছেন দুই নেতা। তবে বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেক কম। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থান শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, এখন চীনের চেয়ে ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন। তার মতে, ট্রাম্প এমন একটি কূটনৈতিক সাফল্য চান, যা তাকে বিশ্বে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পক্ষের নেতা হিসেবে তুলে ধরবে।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে চীনা পণ্যের ওপর দেওয়া উচ্চ শুল্ক স্থগিত করেছিল ট্রাম্প। চীনও বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি না করার ইঙ্গিত দেয়। এরপর থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল আরও জোরদার করেছে।

ট্রাম্পকে শুল্কবিরোধী আদালতের রায় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

চীনের রাজধানীতে বেইজিংয়ে এবারের বৈঠককে ঘিরে বড় আয়োজন রাখা হয়েছে। দুই নেতা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ইউনেসকোর ঐতিহ্যবাহী স্থান টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করবেন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন।

তবে কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। বাণিজ্যযুদ্ধের বর্তমান বিরতি বাড়ানো হবে কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের টিম কুকসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী। তবে ২০১৭ সালের সফরের তুলনায় এবারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ছোট।

বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি ও কারাবন্দী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিমি লাইয়ের বিষয়ও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে চীনে দীর্ঘদিন ধরে আটক দুই মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিষয়েও ওয়াশিংটনের ওপর চাপ রয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, আগের প্রেসিডেন্টদের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমরা চীনের সঙ্গে ভালো অবস্থানে আছি। আমি শিকে সম্মান করি, আশা করি তিনিও আমাকে সম্মান করেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনও এই বৈঠক থেকে বড় কিছু আদায় করতে চাইবে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও পরিষ্কার করতে আগ্রহী বেইজিং।

সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উ শিনবো বলেন, ট্রাম্পের উচিত স্পষ্ট করে বলা যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করবে না।

এদিকে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, চীন চায় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে প্রযুক্তি রপ্তানিতে নতুন বিধিনিষেধ না দিক এবং বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করুক।

বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়িয়েছে। চীন থেকে সরবরাহব্যবস্থা সরিয়ে নিতে চাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন করেছে দেশটি। পাশাপাশি বিরল খনিজ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণও আরও কঠোর করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আগের তুলনায় বেশি মার্কিন নাগরিক এখন চীনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের পক্ষে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি বজায় রাখাকেই ট্রাম্প বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।

ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক স্কট কেনেডির ভাষায়, শেষ পর্যন্ত এটি হয়তো একটি ভাসাভাসা যুদ্ধবিরতি হিসেবেই থেকে যাবে। চীন যার সুবিধা বেশি পাবে।

সম্পর্কিত