স্টেটাস সিম্বল: ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার প্রাসঙ্গিকতা

ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ে বামপন্থীদের আত্মসন্তুষ্টি ও রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা দেখা যাচ্ছে। যুক্তিতর্ক ও শালীনতা বিসর্জন দিয়ে তারা কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তি-আক্রমণে ব্যস্ত। লেখিকার মতে, বর্তমান প্রজন্মের একাংশের কাছে বামপন্থা আজ আর কোনো আদর্শ বা জনমানুষের লড়াই নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া বা টিভিতে ভেসে থাকার নিছক একটি ‘স্টেটাস সিম্বল’-এ পরিণত হয়েছে।

লেখা:
লেখা:
অনুরাধা অধিকারী

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১৭: ৫৮
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

মোদের হারের দলে বসিয়ে দিলে,

জানি আমরা পারব না।

হারাও যদি হারব খেলায়,

তোমার খেলা ছাড়ব না।

‘বুর্জোয়া কবি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন বামেরা। কিন্তু ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে ‘ছাপ্পা মারা’ বাম এবং স্বঘোষিত বামেদের অবস্থান বোঝাতে এর চেয়ে উপযুক্ত উপমা খুঁজে পাওয়া গেল না। শূন্যের গেরো কাটিয়ে একটি আসনে পাওয়া গিয়েছে। আর তাতেই সিলিং ছুঁয়েছে আত্মসন্তুষ্টি। ভাবখানা এমন যে বিজেপি নয়, তারাই পর্যুদস্ত করেছে তৃণমূলকে। বাম থেকে রামে যাওয়া ভোট নিয়ে মাথাব্যথা নেই তেমন। বরং তৃণমূল, সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের মধ্যেই প্রাপ্তি খুঁজতে ব্যস্ত তারা। সেই কারণেই মেজো-সেজো নেতা তো বটেই, জীবনে লাল পতাকা ছুঁয়ে না দেখা চুনোপুঁটিদের মুখেও যুদ্ধজয়ের হাসি। যুক্তিতর্কের বালাই নেই, মমতাকে গালমন্দ করেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। শালীনতা, সংযম, ডেটা—ধার ধারছেন না কিছুরই।

নিয়মিত রাজনীতির খবর রাখেন, ভোট নিয়ে যারা একটু হলেও ঘাঁটাঘাঁটি করেন, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে হিসেব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরও। ১০০টি আসনে ‘ভোটচুরি’ হয়েছে বলে তৃণমূল যে দাবি করছে, তা যদি বাড়াবাড়ি বলে মনে হয় কারও কারও, তারা সুষ্ঠ এবং গবেষণামূলক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত জাতীয় সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখতে পারেন। কারণ তাদের হিসেবও বলছে, বহু আসনের ফলাফল ‘অস্বাভাবিক’। নির্বাচন কমিশনের হিসেব বলছে, ‘absent’, ‘shifted’, ‘deleted এবং ‘displaced’ দেখিয়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে। ‘বিবেচনাধীন’ করে রাখা হয়েছে ২৭ লক্ষ ভোটারকে। আবার ১.৮৮ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়েছে তালিকায়।

The Wire জানিয়েছে, ওই ৫৮ লক্ষ এবং ২৭ লক্ষকে যোগ করলেই ২৯৪টির মধ্যে ১৫০টি আসনে তৃণমূলের থেকে বিজেপি-র জয়ের ব্যবধান মোট বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে কম। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, এমনকি উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতাও সেই তালিকায় রয়েছে। শুধু মাত্র ৫৮ লক্ষকেও যদি ধরা হয়, ১১০ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। এসআইআর নিয়ে শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বক্তব্য ছিল, “যদি ১০ শতাংশ ভোটার ভোট না দেন এবং জয়ের ব্যবধান ১০ শতাংশের বেশি হয়...কী হবে? জয়ের ব্যবধা হয় ২ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ হয়ত ভোট দিতে পারেননি। সেক্ষেত্রে হয়ত...আমরা কোনও মতামত জানাচ্ছি না, কিন্তু সেক্ষেত্রে বুদ্ধি খাটাতে হবে আমাদের।” আর তাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থেকে যাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল এবং কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও, বামেরা এব্যাপারে নিষ্পৃহ।

৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে। ‘বিবেচনাধীন’ করে রাখা হয়েছে ২৭ লক্ষ ভোটারকে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, এমনকি উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতাও সেই তালিকায় রয়েছে। শুধু মাত্র ৫৮ লক্ষকেও যদি ধরা হয়, ১১০ আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

আর তাই জানতে আগ্রহ হয় যে, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কি ভাবিত নন বামেরা? ভোটের মুখে এসআইআর-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে অন্য বিজেপি বিরোধী দলগুলি যেখানে সরব, সেখানে তাদের কি কোনও মাথাব্যথা নেই? মমতা জব্দ হয়েছেন ভেবেই যারা গদগদ, তারা কি প্রকারান্তরে নিজেদের জব্দ করছেন না? ‘আগে রাম, পরে বাম’ নীতিকে আঁকড়ে ধরেছেন যারা, পরে মাথা তোলার সুযোগ আদৌ থাকবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত তো তারা? গণতন্ত্র রক্ষা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলেন তারা, নিত্যদিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টুডিওয় বক্তৃতা করেন যারা, লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ দিয়ে হওয়া এই নির্বাচনকে বৈধ মনে করছেন কি তারা? তৃণমূলের আমলে কণ্ঠরোধ হয়েছিল, বিজেপি-র আমলে চোখ-কানও বন্ধ হয়ে যাবে না যে, সেব্যাপারে নিশ্চিত তো তারা? কারণ ৪ মে থেকে গত কয়েকদিনের ঘটনাক্রমের দিকে যদি নজর রাখা হয়, তাহলেই বোঝা যাবে, অধিকাংশ খবরের চ্যানেল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলকে দেখানোই কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। খাতায় কলমে ৮০টি আসন যাদের দখলে, সেই দলের নেতানেত্রীদের, রাজ্যের তিন বারের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হেরো’, ‘নির্লজ্জ’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিজেপি, কংগ্রেস বা সিপিএম-এর প্রতিনিধিরা নন, খবরের চ্যানেলগুলি এই কাজ করে চলেছে গত কয়েক দিন ধরে।

বামপন্থীরা সাম্যের আদর্শে বিশ্বাসী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মহিলা বলেই তাকে বাড়তি সম্মান দেখাতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু প্রশাসনিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তি, বিশেষ করে দেশ বা রাজ্যের প্রধানের ভূমিকায় থাকা কারও প্রতি এহেন শব্দপ্রয়োগ কাম্য কি না, তা বরং ভেবে দেখুন বামপন্থীরাই। লোকভবনে (রাজভবন) গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেননি মমতা। শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী লেখেননি। বরং নিজের তিনটি কার্যকালের উল্লেখ করেছেন শুধু। তাই অনেক বামপন্থীও মমতাকে ‘লোভী’, ‘নির্লজ্জ’ বলছেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তুলনা টানছেন অনেকে। কিন্তু ২০১১ এবং ২০২৬ সালের নির্বাচন কি কোনও ভাবেই এক? মমতা নিজের সিদ্ধান্তটুকু জানিয়েছেন শুধুমাত্র। সংবিধান বা আইন লঙ্ঘন করেননি। কার্যকালের মেয়াদ ফুরনোর সঙ্গে, আপনা আপনিই প্রাক্তন হয়ে গিয়েছেন তিনি। তাই তার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা গেলেও, এহেন ‘গুরুতর’ বিষয়টিকে ‘মিম কালচারে’ নামিয়ে আনা থেকে বিরত থাকতেই পারতেন বামপন্থী এবং স্বঘোষিত বামেরা। কারণ নির্বাচনে পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে না চান, তার রাস্তা রয়েছে সংবিধানে। অনুচ্ছেদ ১৭২ অনুযায়ী, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলে আপনাআপনিই মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, পরাজয়ের পর ইস্তফা না দিলেও। অর্থাৎ পরাজয়ের পর ইস্তফা দেওয়া দস্তুর হলেও, বাধ্যতামূলক নয়। মেয়াদ শেষে রাজ্যপাল মন্ত্রিসভা বাতিল করে দিতে পারেন।

কিছু ক্ষেত্রে ইস্তফা না দেওয়ার অর্থ ক্ষমতা ধরে রাখার অভীপ্সা নয়, তা প্রতীকী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে গণ্য হয়। ‘ভোটচুরি’, ‘জোর করে হারানো’র প্রতিবাদ স্বরূপই তার এই অবস্থান বলে গোড়াতেই জানান মমতা। অধিকাংশ বাংলা সংবাদমাধ্যম যদিও সেই ব্যাখ্যায় যায়নি। বামপন্থীরাও সেই সুযোগটি নিয়েছেন। এমনকি ২৫ বৈশাখ নতুন সরকারের শপথগ্রহণের পর মমতা যখন বাম, অতিবাম সকলকে বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে আহ্বান জানান, সেই সময়েও বাম শিবিরের মেজো-সেজো নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল দেখার মতো। মমতা জানিয়েছিলেন, তার অনুরোধ না মানলেও চলবে। কিন্তু বাম শিবিরের মেজো-সেজো নেতাদের জবাব ছিল। ‘আপনি চোর’, ‘আপনার মতো চোরকে নেব না’, ‘আপনি লায়াবিলিটি’। দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবিরে বামেরাও অন্যদের ‘লায়াবিলিটি’ রূপেই বিরাজ করছেন। পশ্চিমবঙ্গে একটি আসন পেয়ে বোধহয় সেকথা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। এমনকি কেরল হাতছাড়া হওয়ার পরও বিষয়টি খেলেনি মাথায়। সেই তুলনায় সিপিএম-এর বর্ষীয়ান নেতাগণের অবস্থান যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন। হাঁকডাক করছেন পাড়ার ভোটে গোহারা হয়ে ফিরে আসা কয়েক জন। সত্তরোর্ধ্ব মমতাকে অসম্মান করে, আবার তারই সমকক্ষ বলে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।

বাম জমানাতেও দুর্নীতি হয়েছিল। চিরকূটে চাকরি থেকে নিম্নমেধার ছেলেমেয়েদের ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঢোকানো, বাইপাসের ধারের বহুমূল্য জমি মাত্রা ১ টাকা দরে বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তর, অভিযোগ কম ছিল না। সেই সময় ২৪ ঘণ্টার খবরের চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। তাই মুখে মুখে চাউর হয়নি। কিন্তু সেই নিয়ে খবর করায় ‘বর্তমান’ পত্রিকার তদানীন্তন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। তার পরও জ্যোতিবাবু বা বুদ্ধদেবকে ‘চোর’ ডাকেননি মমতা। বরং দু’জনের শেষবেলাতেই মমতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধিতা, উষ্মা সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি লোকভবনে (রাজভবন) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুকে কেন পিছনে বসানো হয়েছে, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায় মমতাকে। বিমানবাবুকে সামনের আসনে এসে বসতে একরকম জোরই করেন তিনি। তখনও বিরোধী হননি, মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন মমতা।

মমতা জব্দ হয়েছেন ভেবেই যারা গদগদ, তারা কি প্রকারান্তরে নিজেদের জব্দ করছেন না? ‘আগে রাম, পরে বাম’ নীতিকে আঁকড়ে ধরেছেন যারা, পরে মাথা তোলার সুযোগ আদৌ থাকবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত তো তারা? গণতন্ত্র রক্ষা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তোলেন তারা, নিত্যদিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টুডিওয় বক্তৃতা করেন যারা, লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ দিয়ে হওয়া এই নির্বাচনকে বৈধ মনে করছেন কি তারা?

পশ্চিমবঙ্গে মমতা যদি বিজেপি-কে রাস্তা করে দিয়ে থাকেন, বিজেপি-র এই বাড়বাড়ন্তে বামেদের ভূমিকাও কিছু কম নয়। নিয়োগ দুর্নীতি হোক বা রেশন দুর্নীতি, চিটফান্ড কাণ্ড হোক বা আর জি কর কাণ্ড, কোনও ক্ষেত্রেই প্রকৃত বিরোধীর ভূমিকায় দেখা যায়নি তাদের। বরং আর জি কর কাণ্ড বাদ দিলে, প্রত্যেকটি ইস্যুকে কার্যত ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গিয়েছে বিজেপি। এমনকি যে আর জি করের ঘটনায় মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়, কলতান দাশগুপ্তরা অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন, রাজনীতি সচেতন বামপন্থায় বিশ্বাসী মানুষ থেকে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই নির্যাতিতার মা পরবর্তীতে সিপিএম নেতৃত্বের দিকে আঙুল তোলেন। নির্যাতিতার পরিবারের আস্থাভাজন হয়ে ওঠার পরিবর্তে, তাদের থেকে ক্রমশ দূরে সরে গিয়েছে সিপিএম। সেই জায়গায় ঢুকে পড়েছে বিজেপি।

আর জি কর মামলার তদন্তকারী সিবিআই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের নিয়ন্ত্রণে। সেই সিবিআই-ও সঞ্জয় রায় ছাড়া অন্য কাউকে দোষী বলে দেখাতে পারেনি। তার পরও নির্যাতিতার মাকে আস্থা জোগাতে সফল হয় বিজেপি-ই। ধানতলা-বানতলা কাণ্ড থেকে তাপসী মালিক হত্যাকাণ্ড, সবকিছু যদি বাদও দেওয়া যায়, আর জি কর নিয়ে পথে নামা বামেরা ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্রে ফিরহাদ হাকিমের মেয়ের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় একেবারে চুপ।

কিন্তু বামপন্থায় বিশ্বাসী সকলেই কি এক? উত্তর হল, সিংহভাগ, যারা আলিমুদ্দিন ভাঙিয়ে খবরের চ্যানেলে হাজিরা দেওয়ার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের ছবি ও রিল শেয়ার করে যারা বামপন্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। বামপন্থা কী, খায় না মাথায় দেয়, কিচ্ছু জানা নেই, প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টায় থাকা বামপন্থীদের। শেখার, জানার আগ্রহও নেই। বামপন্থা তাদের কাছে শুধুমাত্রই ‘স্টেটাস সিম্বল’, যা ভাঙিয়ে ভেসে থাকা যায়। তাই মমতার পরাজয়ে নিজেদের জয় দেখছেন তারা। ২০২১ সালের পর থেকে কেন রাজ্যের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হল, আদালতের নির্দেশের পরও কেন ১০০ দিনের কাজের টাকা এল না, ২১ হাজার-৫ হাজারে হিসেব থাকার পরও কেন ২৬ হাজারেরই চাকরি গেল, এসআইআর-এ কেন বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ গেল, লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাদ রেখে কেন ভোট হল, সেনা-সাঁজোয়া নামিয়ে কেন ভোট করাতে হল, জোড়াসাঁকোতে কেন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা গেল, কেন এই ভাঙচুর-খুনোখুনি, খবরের চ্যানেলে কেন বিরোধীদের খবর নেই, বইয়ের পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড কখন জায়গা করে নিল জীবনে, কিছু নিয়েই ভাবার অবকাশ নেই তাদের। রয়েছে শুধু জিগির। ভেসে থাকার।

সম্পর্কিত