স্ট্রিম ডেস্ক

সকালে ঘুম থেকে উঠে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করতে করতে আমরা অসংখ্য ছবি, ভিডিও বা স্ট্যাটাস দেখি। কেউ হয়তো নিজের নতুন চাকরির খবর জানিয়েছেন, কেউ হয়তো পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ছবি দিয়েছেন, আবার কেউ হয়তো নিজের কোনো সাধারণ মতামত প্রকাশ করেছেন।
এসব পোস্টের নিচে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কিছু মন্তব্য খুবই আক্রমণাত্মক বা নেতিবাচক। সেখানে অভিনন্দন বা যুক্তির বদলে থাকে কটু কথা, ব্যঙ্গ বা সরাসরি আক্রমণ।
এর পেছনে থাকে মানুষের ‘ইগো’ বা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবার মানসিকতা। অনেকেই ইগো আর আত্মসম্মানকে এক মনে করেন, কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।
ইগো আর আত্মসম্মানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো দৃষ্টিভঙ্গির। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা, গুণ এবং দোষ—সবকিছু মেনেই নিজেকে ভালোবাসতে পারে। তারা জানে যে মানুষ হিসেবে কেউই নিখুঁত নয়, তাই নিজের কোনো ভুল থাকলে সেটা স্বীকার করতে তারা দ্বিধা করে না।
অন্যদিকে, ইগোর কাজ হলো মানুষের মনের ভেতরে নিজের সম্পর্কে একটি কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা তৈরি করা। ইগো মানুষকে সারাক্ষণ বোঝাতে থাকে যে সে-ই সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সে সবসময় সঠিক এবং তার চিন্তাভাবনাই সবার চেয়ে উন্নত। ইগোসম্পন্ন মানুষ নিজেকে এতটাই নিখুঁত মনে করে যে, সে অন্যের কোনো যৌক্তিক কথা বা পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে না।

এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায় ভুল স্বীকার করার ক্ষেত্রে। যার আত্মসম্মান আছে, সে নিজের ভুলকে শিক্ষা হিসেবে দেখে এবং চেষ্টা করে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়। সে নিজের সম্মান যেমন বোঝে, তেমনি অন্যের মর্যাদাকেও গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইগোসম্পন্ন মানুষের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করা মানে হলো ছোট হওয়া বা হেরে যাওয়া। তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করে এবং কোনো সমস্যা হলে সবসময় অন্যের ওপর দোষ চাপাতে চায়। ইগো মানুষকে একগুঁয়ে করে তোলে, যা প্রকারান্তরে মানুষকে অন্যের চোখে ছোট করে ফেলে।
শেখার মানসিকতার দিক থেকেও তফাৎ রয়েছে। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ নিজেকে অজেয় মনে করে না, তাই সে ছোট-বড় সবার কাছ থেকেই নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে। সে অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করে এবং গঠনমূলক সমালোচনা থেকে নিজেকে শুধরে নেয়।
কিন্তু ইগো মানুষের ভেতরে এমন এক দেয়াল তৈরি করে, যা তাকে নতুন কিছু শিখতে বাধা দেয়। ইগো থাকলে মানুষ মনে করে সে সবকিছুই জানে, তাই সে ভালো শ্রোতা হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, সুস্থ আত্মসম্মানবোধ মানুষকে ব্যক্তিত্ববান ও শ্রদ্ধেয় করে তোলে, আর ইগো মানুষকে সমাজ ও প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন করে একা করে দেয়।
ইগো আমাদের সবার ভেতরেই কমবেশি থাকে। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে একে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জীবনে বারবার ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ইগো সামলাতে চাইলে সবার আগে ভালো শ্রোতা হতে হবে। ইগোসম্পন্ন মানুষ নিজে বেশি বলতে চায়, অন্যের কথা শুনতে চায় কম। ইগো কমাতে চাইলে মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনার অভ্যাস করা জরুরি। অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে শিখতে হবে।
এর পাশাপাশি ভুল মেনে নেওয়ার সাহস রাখতে হবে। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না, বরং আত্মসম্মান বাড়ে।
সহমর্মিতা চর্চা করাও জরুরি। সবসময় নিজের জায়গা থেকে চিন্তা না করে, অন্যের জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে ভাবতে হবে। অন্যের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করলে ইগোর দেয়াল নিজে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখতে হবে। অন্যের ছোটখাটো সাহায্য বা ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ জানানো ভালো গুণ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস মানুষের ভেতরের অহংকার বা ইগোকে কমিয়ে বিনয়ী হতে সাহায্য করে।
তাই ইগোর খোলস ছেড়ে নিজের ভেতরে সুস্থ আত্মসম্মানবোধ গড়ে তুলুন। এতে জীবন আরও বেশি সুন্দর ও সহজ হয়ে উঠবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখা আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করতে করতে আমরা অসংখ্য ছবি, ভিডিও বা স্ট্যাটাস দেখি। কেউ হয়তো নিজের নতুন চাকরির খবর জানিয়েছেন, কেউ হয়তো পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ছবি দিয়েছেন, আবার কেউ হয়তো নিজের কোনো সাধারণ মতামত প্রকাশ করেছেন।
এসব পোস্টের নিচে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কিছু মন্তব্য খুবই আক্রমণাত্মক বা নেতিবাচক। সেখানে অভিনন্দন বা যুক্তির বদলে থাকে কটু কথা, ব্যঙ্গ বা সরাসরি আক্রমণ।
এর পেছনে থাকে মানুষের ‘ইগো’ বা নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবার মানসিকতা। অনেকেই ইগো আর আত্মসম্মানকে এক মনে করেন, কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।
ইগো আর আত্মসম্মানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো দৃষ্টিভঙ্গির। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা, গুণ এবং দোষ—সবকিছু মেনেই নিজেকে ভালোবাসতে পারে। তারা জানে যে মানুষ হিসেবে কেউই নিখুঁত নয়, তাই নিজের কোনো ভুল থাকলে সেটা স্বীকার করতে তারা দ্বিধা করে না।
অন্যদিকে, ইগোর কাজ হলো মানুষের মনের ভেতরে নিজের সম্পর্কে একটি কাল্পনিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা তৈরি করা। ইগো মানুষকে সারাক্ষণ বোঝাতে থাকে যে সে-ই সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সে সবসময় সঠিক এবং তার চিন্তাভাবনাই সবার চেয়ে উন্নত। ইগোসম্পন্ন মানুষ নিজেকে এতটাই নিখুঁত মনে করে যে, সে অন্যের কোনো যৌক্তিক কথা বা পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে না।

এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায় ভুল স্বীকার করার ক্ষেত্রে। যার আত্মসম্মান আছে, সে নিজের ভুলকে শিক্ষা হিসেবে দেখে এবং চেষ্টা করে যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়। সে নিজের সম্মান যেমন বোঝে, তেমনি অন্যের মর্যাদাকেও গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ইগোসম্পন্ন মানুষের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করা মানে হলো ছোট হওয়া বা হেরে যাওয়া। তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করে এবং কোনো সমস্যা হলে সবসময় অন্যের ওপর দোষ চাপাতে চায়। ইগো মানুষকে একগুঁয়ে করে তোলে, যা প্রকারান্তরে মানুষকে অন্যের চোখে ছোট করে ফেলে।
শেখার মানসিকতার দিক থেকেও তফাৎ রয়েছে। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ নিজেকে অজেয় মনে করে না, তাই সে ছোট-বড় সবার কাছ থেকেই নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে। সে অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করে এবং গঠনমূলক সমালোচনা থেকে নিজেকে শুধরে নেয়।
কিন্তু ইগো মানুষের ভেতরে এমন এক দেয়াল তৈরি করে, যা তাকে নতুন কিছু শিখতে বাধা দেয়। ইগো থাকলে মানুষ মনে করে সে সবকিছুই জানে, তাই সে ভালো শ্রোতা হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, সুস্থ আত্মসম্মানবোধ মানুষকে ব্যক্তিত্ববান ও শ্রদ্ধেয় করে তোলে, আর ইগো মানুষকে সমাজ ও প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন করে একা করে দেয়।
ইগো আমাদের সবার ভেতরেই কমবেশি থাকে। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে একে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জীবনে বারবার ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ইগো সামলাতে চাইলে সবার আগে ভালো শ্রোতা হতে হবে। ইগোসম্পন্ন মানুষ নিজে বেশি বলতে চায়, অন্যের কথা শুনতে চায় কম। ইগো কমাতে চাইলে মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনার অভ্যাস করা জরুরি। অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে শিখতে হবে।
এর পাশাপাশি ভুল মেনে নেওয়ার সাহস রাখতে হবে। আমরা কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না, বরং আত্মসম্মান বাড়ে।
সহমর্মিতা চর্চা করাও জরুরি। সবসময় নিজের জায়গা থেকে চিন্তা না করে, অন্যের জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে ভাবতে হবে। অন্যের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করলে ইগোর দেয়াল নিজে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে।
সবশেষে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখতে হবে। অন্যের ছোটখাটো সাহায্য বা ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ জানানো ভালো গুণ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস মানুষের ভেতরের অহংকার বা ইগোকে কমিয়ে বিনয়ী হতে সাহায্য করে।
তাই ইগোর খোলস ছেড়ে নিজের ভেতরে সুস্থ আত্মসম্মানবোধ গড়ে তুলুন। এতে জীবন আরও বেশি সুন্দর ও সহজ হয়ে উঠবে।

আটলান্টিক মহাসাগরে ঘুরতে বেরিয়েছিল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
আজ ১২ই মে। এই তারিখ এলেই অঞ্জন দত্তের ‘মালা’ গানের কথা মনে পড়ে যায় আমাদের। মনে প্রশ্ন জাগে, কে এই মালা? আজ কি তাঁর জন্মদিন! নাকি মালা-অঞ্জনের বিচ্ছেদের দিন!
২০ ঘণ্টা আগে
ফ্লাফি লোম, চাপা মুখ, বড় চোখ। দেখতে খুব কিউট। বর্তমানে আমাদের শহরের অ্যাপার্টমেন্টে, ইন্টারনেটে বা পোষা প্রাণীর দোকানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হলো ‘পার্সিয়ান বিড়াল’।
১ দিন আগে
সাদাত হাসান মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ নিয়ে কিছু লেখার আগে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়পর্বটা বলা প্রয়োজন। তিন-চার বছর আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, দেয়ালে বড় করে কোনো এক উক্তির পাশে লেখা—‘সাদাত হাসান মান্টো’। নামটা আগে কখনো শুনিনি। কৌতূহল নিয়ে গুগলে সার্চ করলাম। জানতে পা
২ দিন আগে