leadT1ad

বেলুচিস্তানে সমন্বিত হামলা: ৯২ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কুয়েটার কিছু সড়ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ‘সমন্বিত ও প্রাণঘাতী’ হামলার পর অভিযান চালিয়ে অন্তত ৯২ জন ‘জঙ্গিকে’ হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এসব হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্য এবং ১৮ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসি

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, এসব হামলার পেছনে ভারতের সমর্থন রয়েছে। তবে দিল্লি বরাবরের মতো এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ-ঘোষিত বিদ্রোহী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, এতে ডজনখানেক সেনা নিহত হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এই সহিংসতা বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দরিদ্র প্রদেশে জাতিগত বিদ্রোহ দমনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা ও আশপাশের শহরগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায় জঙ্গিরা। এর জবাবে বেলুচিস্তানজুড়ে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালানো হয় এবং বিদ্রোহীদের ‘অশুভ পরিকল্পনা সফলভাবে নস্যাৎ’ করা হয়েছে।

দিনভর কোয়েটার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন ও আশপাশের সড়ক সিলগালা করে দেওয়া হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করা হয় এবং আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে শনিবার গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা প্রদেশটির অন্তত ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনা, কারাগার এবং সরকারি ভবন।

বিএলএর অভিযোগ, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশটির বিপুল খনিজ সম্পদ কেন্দ্রীয় সরকার শোষণ করলেও স্থানীয় জনগণ কোনো সুফল পাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তুলেছেন, যা ইসলামাবাদ অস্বীকার করে আসছে।

ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্য থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বেলুচ জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়।

ইরান ও তালেবান-নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বেলুচিস্তানের আরব সাগরজুড়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে বসবাস করে আসা বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর নামেই এই অঞ্চলের নামকরণ। প্রদেশটিতে বেলুচরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও পশতুনরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী।

দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত বেলুচিস্তান দেশটির মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ হলেও এখানে বসবাস করে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ, যা ২৪ কোটির বেশি। প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত