leadT1ad

শ্রমবাজারে সনদ জালিয়াতি রোধের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৩৮
অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। ছবি: পিআইডি

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা রয়েছে। দুঃখজনকভাবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিদেশি চাকরিদাতারা যদি আমাদের সনদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তবে দক্ষতা উন্নয়নের সকল উদ্যোগ বিফল হবে। তাই এই জালিয়াতি যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।‘

দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হতে হবে এমন, যেন চাকরিদাতারা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন যে বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা অবশ্যই ভালো করবে।‘ এসময় তিনি এনএসডিএর অভিন্ন সনদ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ জালিয়াতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি চমৎকার কাঠামো।

সভায় একটি ‘সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর জন্য অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা যাবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি এবং শ্রমশক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যসমূহও সভায় অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস’ করা, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র (আরপিএল) মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত