হামের প্রকোপ: ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের জন্য ১৮ নির্দেশনা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৯: ০৪
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোগো

ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৮ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশে হামের উদ্বেগজনক সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বিবেচনায় হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের লক্ষণ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৮৯ জনের। এই পরিস্থিতিতে সব সরকারি হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকেল—এই দুই বেলা রাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংক্রমণ রোধে ভর্তি থাকা রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক অবস্থান করতে পারবেন। প্রতিটি রোগীর তথ্য প্রতিদিন এমআইএস (MIS) সার্ভারে আপলোড করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটির সময়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ দফা নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, ইমার্জেন্সি, ওটি, ল্যাবরেটরি, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে। হাসপাতালের বহিঃবিভাগ একনাগাড়ে ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। ২৬ ও ৩০ মে প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। ছুটি শুরুর আগেই পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, অক্সিজেন ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট স্টোরকিপারদের নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকেও নিবন্ধিত চিকিৎসকের অধীনে জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ এবং হাম ওয়ার্ড খোলা রাখতে হবে। কোনো রোগীকে রেফার করার আগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ছাড়া হাসপাতালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

ঈদের দিন রোগীদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন এবং তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের ছুটিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং হামের সংক্রমণ যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যেই এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সম্পর্কিত