স্ট্রিম ডেস্ক

গলির মোড়ে বা রাস্তার পাশে শিশুরা বিড়ালছানাকে লাঠি দিয়ে তাড়া করছে, কিংবা কুকুরের লেজ ধরে টানছে—এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। আমরা অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভাবি, ছোট মানুষ একটু দুষ্টুমি বা খেলা করছে। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, এমন আচরণ দেখলে সব সময় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিশুদের এই প্রবণতা কোনো সাধারণ দুষ্টুমি না-ও হতে পারে।
ক্লিনিক্যাল ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট ড. জনি ই জনস্টন গবেষণায় দেখিয়েছেন, শৈশবে প্রাণীদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনো কোনো সময় পরবর্তী সহিংস বা অপরাধপ্রবণ আচরণের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। কিছু গবেষণায় শৈশবের প্রাণী নির্যাতনের আচরণের সঙ্গে পরবর্তী সহিংস আচরণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর এমন আচরণ যখন নিয়মিত রূপ নেয়, তখন তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ড. জনি ই জনস্টনের মতে, যেসব শিশুরা প্রাণীদের নিয়মিত অত্যাচার করে, তারা নিজেরা কোনো না কোনো সহিংসতা দেখেছে অথবা নিজেরা এমন ঘটনার শিকার হয়েছে। একে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় ‘পোস্ট-ট্রমাটিক প্লে’ বা নির্যাতনকারীর আচরণ অনুকরণ করা। এই যোগসূত্র এতটাই পরিচিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কমিউনিটিতে সমাজসেবা ও পশু নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা শিশুদের এমন আচরণকে বয়স এবং মানসিক বিকাশ অনুযায়ী প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত, ‘পরীক্ষক’ বা এক্সপেরিমেন্টার। এই দলে পড়ে ১ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সের শিশুদের প্রাণীর অনুভূতি বোঝার মতো মানসিক পরিপক্বতা থাকে না। তারা অনেক সময় খেলার বা মজার বিষয় মনে করে ভুল করে বসে। এমন শিশুদের জন্য মা-বাবা ও শিক্ষকদের দেওয়া ‘মানবিক শিক্ষা’ বা প্রাণীর প্রতি দয়াশীল হতে শেখানোই যথেষ্ট। এতে করে তাদের এই আচরণ ধীরে ধীরে শুধরে যাবে।
অন্যটি, ‘সাহায্যের আকুতি জানানো শিশু’। এই দলে পড়ে সাধারণত ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা। তারা বোঝে যে পশুকে কষ্ট দেওয়া অন্যায়, তবু এটা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শিক্ষার অভাব নয়, বরং কোনো মানসিক ট্রমা বা নির্যাতনের লক্ষণ। আমাদের দেশে অনেক শিশু পরিবারে, স্কুলে বা আশেপাশে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এ ধরনের আচরণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই আচরণ গভীর মানসিক চাপ বা ট্রমার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এমন শিশুদের জন্য প্রফেশনাল সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
আরেকটি ‘আচরণগত ব্যাধিতে আক্রান্ত কিশোর’। ১২ বছরের বেশি বয়সী যেসব কিশোর প্রাণীর ওপর অত্যাচার করে, তারা সমাজবিরোধী কাজেও লিপ্ত থাকতে পারে। তারা বন্ধুদের দলে হিরো সাজতে বা ক্ষমতা দেখাতে প্রাণীদের কষ্ট দিতেও পারে। তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষক ড. জনি ই জনস্টন জানিয়েছেন, পশুপাখির সঙ্গে দুষ্টামি করলে বা এদের ছোটখাটো ব্যথা দেওয়া মানেই সেই শিশু মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত—ব্যাপারটি এমন নয়। আপনার শিশুর অসচেতন ভুলকে ‘সাধারণ ভুল’ মনে করে তাকে ভালো-মন্দের শিক্ষা দেওয়া যায়। কিন্তু কোনো পশুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ জায়গায় আটকে রাখা, আঘাত করা কিংবা পশুর ছটফটানি ও কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়া, এসব মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। এগুলোকে বিশেষজ্ঞরা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে শিশুটির বোঝার বয়স হওয়ার পরও যদি দেখেন কোনো অন্যায় কাজ সে বারবার করে যাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে তাকে বোঝানো প্রয়োজন।
রাস্তার পশুপাখিকে আঘাত করাকে আমাদের সমাজে অনেক সময় হালকাভাবে নেওয়া হয়। কিন্তু এই নিষ্ঠুরতা অনেক সময় বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং প্রাণীদের প্রতি সহমর্মী মনোভাব গড়ে তুলতে শৈশবে পশুর প্রতি দয়াশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব।

গলির মোড়ে বা রাস্তার পাশে শিশুরা বিড়ালছানাকে লাঠি দিয়ে তাড়া করছে, কিংবা কুকুরের লেজ ধরে টানছে—এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। আমরা অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ভাবি, ছোট মানুষ একটু দুষ্টুমি বা খেলা করছে। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, এমন আচরণ দেখলে সব সময় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিশুদের এই প্রবণতা কোনো সাধারণ দুষ্টুমি না-ও হতে পারে।
ক্লিনিক্যাল ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট ড. জনি ই জনস্টন গবেষণায় দেখিয়েছেন, শৈশবে প্রাণীদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনো কোনো সময় পরবর্তী সহিংস বা অপরাধপ্রবণ আচরণের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। কিছু গবেষণায় শৈশবের প্রাণী নির্যাতনের আচরণের সঙ্গে পরবর্তী সহিংস আচরণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর এমন আচরণ যখন নিয়মিত রূপ নেয়, তখন তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ড. জনি ই জনস্টনের মতে, যেসব শিশুরা প্রাণীদের নিয়মিত অত্যাচার করে, তারা নিজেরা কোনো না কোনো সহিংসতা দেখেছে অথবা নিজেরা এমন ঘটনার শিকার হয়েছে। একে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় ‘পোস্ট-ট্রমাটিক প্লে’ বা নির্যাতনকারীর আচরণ অনুকরণ করা। এই যোগসূত্র এতটাই পরিচিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কমিউনিটিতে সমাজসেবা ও পশু নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা শিশুদের এমন আচরণকে বয়স এবং মানসিক বিকাশ অনুযায়ী প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত, ‘পরীক্ষক’ বা এক্সপেরিমেন্টার। এই দলে পড়ে ১ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সের শিশুদের প্রাণীর অনুভূতি বোঝার মতো মানসিক পরিপক্বতা থাকে না। তারা অনেক সময় খেলার বা মজার বিষয় মনে করে ভুল করে বসে। এমন শিশুদের জন্য মা-বাবা ও শিক্ষকদের দেওয়া ‘মানবিক শিক্ষা’ বা প্রাণীর প্রতি দয়াশীল হতে শেখানোই যথেষ্ট। এতে করে তাদের এই আচরণ ধীরে ধীরে শুধরে যাবে।
অন্যটি, ‘সাহায্যের আকুতি জানানো শিশু’। এই দলে পড়ে সাধারণত ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা। তারা বোঝে যে পশুকে কষ্ট দেওয়া অন্যায়, তবু এটা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শিক্ষার অভাব নয়, বরং কোনো মানসিক ট্রমা বা নির্যাতনের লক্ষণ। আমাদের দেশে অনেক শিশু পরিবারে, স্কুলে বা আশেপাশে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এ ধরনের আচরণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই আচরণ গভীর মানসিক চাপ বা ট্রমার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এমন শিশুদের জন্য প্রফেশনাল সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
আরেকটি ‘আচরণগত ব্যাধিতে আক্রান্ত কিশোর’। ১২ বছরের বেশি বয়সী যেসব কিশোর প্রাণীর ওপর অত্যাচার করে, তারা সমাজবিরোধী কাজেও লিপ্ত থাকতে পারে। তারা বন্ধুদের দলে হিরো সাজতে বা ক্ষমতা দেখাতে প্রাণীদের কষ্ট দিতেও পারে। তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষক ড. জনি ই জনস্টন জানিয়েছেন, পশুপাখির সঙ্গে দুষ্টামি করলে বা এদের ছোটখাটো ব্যথা দেওয়া মানেই সেই শিশু মানসিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত—ব্যাপারটি এমন নয়। আপনার শিশুর অসচেতন ভুলকে ‘সাধারণ ভুল’ মনে করে তাকে ভালো-মন্দের শিক্ষা দেওয়া যায়। কিন্তু কোনো পশুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বন্ধ জায়গায় আটকে রাখা, আঘাত করা কিংবা পশুর ছটফটানি ও কষ্ট দেখে আনন্দ পাওয়া, এসব মোটেও সাধারণ বিষয় নয়। এগুলোকে বিশেষজ্ঞরা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষ করে শিশুটির বোঝার বয়স হওয়ার পরও যদি দেখেন কোনো অন্যায় কাজ সে বারবার করে যাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে তাকে বোঝানো প্রয়োজন।
রাস্তার পশুপাখিকে আঘাত করাকে আমাদের সমাজে অনেক সময় হালকাভাবে নেওয়া হয়। কিন্তু এই নিষ্ঠুরতা অনেক সময় বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং প্রাণীদের প্রতি সহমর্মী মনোভাব গড়ে তুলতে শৈশবে পশুর প্রতি দয়াশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব।
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৩ ঘণ্টা আগে