মাহজাবিন নাফিসা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই মায়েদের ‘ব্রেস্টফিডিং’ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, নানা কারণে মায়েরা তাদের শিশুদের ব্রেস্টফিডিং করান না। ফলে শিশুরা সংক্রামকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এই দুটি ধারণাই ভুল।
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে সংগ্রাম করা বহু নারীর মাতৃত্বের শুরুর সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধনী দেশগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ মা বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করলেও, তাদের এক-চতুর্থাংশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেন। এর প্রধান কারণ হলো—তাদের মনে হয়, শিশুর প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট দুধ তারা উৎপাদন করতে পারছেন না।
বহু বছর ধরে চিকিৎসকেরা মনে করতেন, প্রকৃত অর্থে দুধের স্বল্পতা খুবই বিরল। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত দুধ দিতে পারেন না। তাই ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন মায়েদের সাধারণত পরামর্শ দিত—শিশুকে আরও ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে অথবা ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করতে হবে। এতে করে দুধ নিঃসরণ বাড়ে।
তবে অনেক মা-ই খেয়াল করলেন এই পরামর্শ তেমন কাজে লাগছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক শ নারীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন করতে না পারা মায়ের সংখ্যা আগে যা ধারণা করা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি—প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
এই সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই শিশু দুধ না পাওয়ার কারণ বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতিতে নয়, বরং স্তন্যগ্রন্থির বিশেষ ধরনের কোষের গঠন ও কার্যকারিতায়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়ারডেন গোলান মাওর বলেন, ‘গত দশ বছরে আমরা এর পেছনে জৈবিক কারণ আছে বলে প্রমাণ পেয়েছি। এটি মায়ের চেষ্টার ওপর নির্ভর করে না।’
এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে স্তন্যগ্রন্থিতে থাকা ‘ল্যাক্টোসাইট’ নামের কোষ। গর্ভাবস্থায় এই কোষ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং সন্তান জন্মের প্রায় তিন দিন পর বুকের দুধ নিঃসরণ শুরু করে। আগে এসব কোষ নিয়ে গবেষণা করতে হলে স্তন্যদানকারী নারীর শরীর থেকে টিস্যু বায়োপসি নিতে হতো, যা জটিল ও কঠিন একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, মায়ের বুকের দুধে প্রচুর পরিমাণে স্তনকোষ থেকে আসা মাইক্রো আরএনএ অণু থাকে, যা ওই কোষগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য বহন করে। ফলে বুকের দুধকেই নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
এসব গবেষণায় দেখা গেছে, সমস্যার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে। কিছু নারীর শরীরে ল্যাক্টোসাইটের সংখ্যা কম। আবার কারও ক্ষেত্রে ল্যাক্টোসাইট থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে কাজ করে না ফলে খুব কম দুধ নিঃসরণ হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিন্ডসে হিঙ্ক বলেন, গর্ভাবস্থায়ই এই সমস্যার শুরু হতে পারে, যখন প্রতিটি ল্যাক্টোসাইট বিভাজিত হয়ে নিজেদের মতো নতুন কোষ তৈরি করে। কিছু ল্যাক্টোসাইট ভিন্নভাবে কাজ করে। নতুন কোষ তৈরির বদলে তারা নিজেদের ভেতরে ডিএনএর একাধিক কপি জমা করে রাখে, যা তাদের আরও বেশি দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
এই দুই ধরনের কোষেই এলোমেলো ডিএনএ মিউটেশনের কারণে মারা যায় বা কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। ২০২৪ সালে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত ইঁদুরের ওপর করা এক গবেষণায় ড. হিঙ্কের দল দেখায়, ‘ডব্লিউইইওয়ান’ নামের একটি এনজাইমের মাত্রা কম থাকলে এই কোষের মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে কার্যকর ল্যাক্টোসাইটের সংখ্যা কমে যায় এবং দুধ উৎপাদনও হ্রাস পায়। ড. হিঙ্কের মতে, মানুষের ক্ষেত্রেও ডব্লিউইইওয়ান-এর ঘাটতি কম ল্যাক্টোসাইটের জন্য দায়ী হতে পারে।
পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির র্যাচেল ওয়াকার আরেকটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। ল্যাক্টোসাইটকে বৃদ্ধি ও স্তন্যদান প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া বেশ কিছু হরমোন তৈরি হয় প্লাসেন্টায়। প্রাণীদের ওপর কিছু গবেষণায় প্লাসেন্টার ক্ষতির সঙ্গে কম দুধ উৎপাদনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ড. ওয়াকার ও তার দল এখন পরীক্ষা করছেন মানুষের ক্ষেত্রেও এটি সত্য কি না। তারা উগান্ডার নতুন মায়েদের প্লাসেন্টা পরীক্ষা করছেন, বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ কম দুধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কি না তা দেখার জন্য। এর সত্যতা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সন্তান জন্মের সময়ই কম দুধ উৎপাদনের ঝুঁকি আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হতে পারে।
ল্যাক্টোসাইট কেন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না তার সম্ভাব্য একটি কারণ হলো স্তন্যগ্রন্থিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি। এসব পুষ্টি ল্যাক্টোসাইটকে শক্তি জোগায় এবং বুকের দুধ তৈরির উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। গবেষকেরা মনে করেন, পুষ্টির ঘাটতি হলে ল্যাক্টোসাইট হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, নয়তো শক্তি হারিয়ে ফেলে। উভয় ক্ষেত্রেই তারা কম দুধ উৎপাদন করতে পারে।
এই ঘাটতির জন্য সবসময় মায়ের খাদ্যাভ্যাস দায়ী নয়। কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য ও প্রদাহজনিত অণুও (শরীরে সংক্রমণ, আঘাত, স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা অটোইমিউন রোগ থাকলে তার সংকেত ব্যবহার করে) ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিছু নারীর শরীরে এমন একটি জিনগত পরিবর্তন থাকে, যা রক্ত থেকে বুকের দুধে জিংক যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। জিংক শুধু শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিই নয়, স্তন্যগ্রন্থির বিকাশেও ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা বলছেন, এই জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে কম দুধ উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে।
গরুর ওপর জিনগত গবেষণায় এমন কিছু জিন পাওয়া গেছে, যা দুধের প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করে। এর কিছু সংস্করণ মানুষের মধ্যেও থাকতে পারে। যেসব নারীর এই জিন আছে, তারা ল্যাক্টোসাইট সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যায় পড়েন। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জিনগত কারণে কম দুধ উৎপাদনের ঘটনা সম্ভবত বিরল, কারণ এ ধরনের মিউটেশন স্বাভাবিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, জিনগত কারণই পুরো ব্যাখ্যা নয়।
আরেকটি বড় সন্দেহভাজন কারণ হলো স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। ২০২২ সালে ড. ওয়াকার ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় দেখেন প্রদাহ বা অটোইমিউন রোগ রক্তের ফ্যাটি অ্যাসিডকে স্তন্যগ্রন্থিতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, ফলে বুকের দুধ পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ হয় না।
এছাড়াও, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া—যা প্লাসেন্টার একটি রোগ এবং প্রায় ৪ শতাংশ নারীর হয়—তাও বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে অর্ধেক পর্যন্ত কম দুধ উৎপাদনের সমস্যায় পড়তে পারেন।
কিছু গবেষণা বলছে, শৈশবে স্থূলতা স্তন্যগ্রন্থির বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তবে ড. গোলান মাওরের ভাষায়, ‘এখনো সবই অনুমান। স্পষ্ট হওয়ার জন্য আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন।’
স্তন্যদানের জৈবিক প্রক্রিয়া ভালোভাবে বুঝতে পারলে তা নতুন মায়েদের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। কম দুধ উৎপাদন শনাক্ত করার পরীক্ষা চালু হলে ব্যক্তিভেদে উপযোগী পরামর্শ ও সম্ভাব্য চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ধরনের কিছু পরীক্ষা ইতোমধ্যে তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা বুকের দুধে সোডিয়ামের মাত্রা নির্ভুলভাবে মাপার জন্য হাতে ব্যবহার করা যায় এমন বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছেন। এটি অকার্যকর ল্যাক্টোসাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সাধারণত দুধ নিঃসরণ শুরু হলে স্তন্যগ্রন্থির কোষগুলোর মাঝের ফাঁক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সোডিয়াম বুকের দুধে ঢুকতে পারে না। কিন্তু যেসব মায়ের দুধ কম উৎপাদন হয়, তাদের দুধে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সোডিয়াম পাওয়া গেলে তা কোনো জৈবিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকরা জানান, দ্রুতই আরও নতুন উদ্ভাবন বাজারে আসবে। ফলে কোনো শিশু কেন বুকের দুধ পাচ্ছে না বা মা প্রকৃতই কেন দুধ দিতে পারছেন না, তা পরিষ্কারভাবে জানা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যাবে, তেমনি ব্রেস্টফিডিং নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও বিতর্কের অবসান ঘটবে।
(ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরেই মায়েদের ‘ব্রেস্টফিডিং’ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, নানা কারণে মায়েরা তাদের শিশুদের ব্রেস্টফিডিং করান না। ফলে শিশুরা সংক্রামকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এই দুটি ধারণাই ভুল।
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে সংগ্রাম করা বহু নারীর মাতৃত্বের শুরুর সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধনী দেশগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ মা বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করলেও, তাদের এক-চতুর্থাংশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেন। এর প্রধান কারণ হলো—তাদের মনে হয়, শিশুর প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট দুধ তারা উৎপাদন করতে পারছেন না।
বহু বছর ধরে চিকিৎসকেরা মনে করতেন, প্রকৃত অর্থে দুধের স্বল্পতা খুবই বিরল। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত দুধ দিতে পারেন না। তাই ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন মায়েদের সাধারণত পরামর্শ দিত—শিশুকে আরও ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে অথবা ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করতে হবে। এতে করে দুধ নিঃসরণ বাড়ে।
তবে অনেক মা-ই খেয়াল করলেন এই পরামর্শ তেমন কাজে লাগছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক শ নারীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন করতে না পারা মায়ের সংখ্যা আগে যা ধারণা করা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি—প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
এই সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই শিশু দুধ না পাওয়ার কারণ বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতিতে নয়, বরং স্তন্যগ্রন্থির বিশেষ ধরনের কোষের গঠন ও কার্যকারিতায়। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়ারডেন গোলান মাওর বলেন, ‘গত দশ বছরে আমরা এর পেছনে জৈবিক কারণ আছে বলে প্রমাণ পেয়েছি। এটি মায়ের চেষ্টার ওপর নির্ভর করে না।’
এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে স্তন্যগ্রন্থিতে থাকা ‘ল্যাক্টোসাইট’ নামের কোষ। গর্ভাবস্থায় এই কোষ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং সন্তান জন্মের প্রায় তিন দিন পর বুকের দুধ নিঃসরণ শুরু করে। আগে এসব কোষ নিয়ে গবেষণা করতে হলে স্তন্যদানকারী নারীর শরীর থেকে টিস্যু বায়োপসি নিতে হতো, যা জটিল ও কঠিন একটি প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, মায়ের বুকের দুধে প্রচুর পরিমাণে স্তনকোষ থেকে আসা মাইক্রো আরএনএ অণু থাকে, যা ওই কোষগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য বহন করে। ফলে বুকের দুধকেই নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
এসব গবেষণায় দেখা গেছে, সমস্যার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে। কিছু নারীর শরীরে ল্যাক্টোসাইটের সংখ্যা কম। আবার কারও ক্ষেত্রে ল্যাক্টোসাইট থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে কাজ করে না ফলে খুব কম দুধ নিঃসরণ হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিন্ডসে হিঙ্ক বলেন, গর্ভাবস্থায়ই এই সমস্যার শুরু হতে পারে, যখন প্রতিটি ল্যাক্টোসাইট বিভাজিত হয়ে নিজেদের মতো নতুন কোষ তৈরি করে। কিছু ল্যাক্টোসাইট ভিন্নভাবে কাজ করে। নতুন কোষ তৈরির বদলে তারা নিজেদের ভেতরে ডিএনএর একাধিক কপি জমা করে রাখে, যা তাদের আরও বেশি দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
এই দুই ধরনের কোষেই এলোমেলো ডিএনএ মিউটেশনের কারণে মারা যায় বা কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। ২০২৪ সালে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত ইঁদুরের ওপর করা এক গবেষণায় ড. হিঙ্কের দল দেখায়, ‘ডব্লিউইইওয়ান’ নামের একটি এনজাইমের মাত্রা কম থাকলে এই কোষের মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে কার্যকর ল্যাক্টোসাইটের সংখ্যা কমে যায় এবং দুধ উৎপাদনও হ্রাস পায়। ড. হিঙ্কের মতে, মানুষের ক্ষেত্রেও ডব্লিউইইওয়ান-এর ঘাটতি কম ল্যাক্টোসাইটের জন্য দায়ী হতে পারে।
পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির র্যাচেল ওয়াকার আরেকটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। ল্যাক্টোসাইটকে বৃদ্ধি ও স্তন্যদান প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া বেশ কিছু হরমোন তৈরি হয় প্লাসেন্টায়। প্রাণীদের ওপর কিছু গবেষণায় প্লাসেন্টার ক্ষতির সঙ্গে কম দুধ উৎপাদনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ড. ওয়াকার ও তার দল এখন পরীক্ষা করছেন মানুষের ক্ষেত্রেও এটি সত্য কি না। তারা উগান্ডার নতুন মায়েদের প্লাসেন্টা পরীক্ষা করছেন, বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ কম দুধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কি না তা দেখার জন্য। এর সত্যতা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সন্তান জন্মের সময়ই কম দুধ উৎপাদনের ঝুঁকি আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হতে পারে।
ল্যাক্টোসাইট কেন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না তার সম্ভাব্য একটি কারণ হলো স্তন্যগ্রন্থিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি। এসব পুষ্টি ল্যাক্টোসাইটকে শক্তি জোগায় এবং বুকের দুধ তৈরির উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। গবেষকেরা মনে করেন, পুষ্টির ঘাটতি হলে ল্যাক্টোসাইট হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, নয়তো শক্তি হারিয়ে ফেলে। উভয় ক্ষেত্রেই তারা কম দুধ উৎপাদন করতে পারে।
এই ঘাটতির জন্য সবসময় মায়ের খাদ্যাভ্যাস দায়ী নয়। কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য ও প্রদাহজনিত অণুও (শরীরে সংক্রমণ, আঘাত, স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা অটোইমিউন রোগ থাকলে তার সংকেত ব্যবহার করে) ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিছু নারীর শরীরে এমন একটি জিনগত পরিবর্তন থাকে, যা রক্ত থেকে বুকের দুধে জিংক যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। জিংক শুধু শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিই নয়, স্তন্যগ্রন্থির বিকাশেও ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা বলছেন, এই জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে কম দুধ উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে।
গরুর ওপর জিনগত গবেষণায় এমন কিছু জিন পাওয়া গেছে, যা দুধের প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করে। এর কিছু সংস্করণ মানুষের মধ্যেও থাকতে পারে। যেসব নারীর এই জিন আছে, তারা ল্যাক্টোসাইট সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যায় পড়েন। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জিনগত কারণে কম দুধ উৎপাদনের ঘটনা সম্ভবত বিরল, কারণ এ ধরনের মিউটেশন স্বাভাবিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, জিনগত কারণই পুরো ব্যাখ্যা নয়।
আরেকটি বড় সন্দেহভাজন কারণ হলো স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ। ২০২২ সালে ড. ওয়াকার ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় দেখেন প্রদাহ বা অটোইমিউন রোগ রক্তের ফ্যাটি অ্যাসিডকে স্তন্যগ্রন্থিতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, ফলে বুকের দুধ পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ হয় না।
এছাড়াও, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া—যা প্লাসেন্টার একটি রোগ এবং প্রায় ৪ শতাংশ নারীর হয়—তাও বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের মধ্যে অর্ধেক পর্যন্ত কম দুধ উৎপাদনের সমস্যায় পড়তে পারেন।
কিছু গবেষণা বলছে, শৈশবে স্থূলতা স্তন্যগ্রন্থির বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তবে ড. গোলান মাওরের ভাষায়, ‘এখনো সবই অনুমান। স্পষ্ট হওয়ার জন্য আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন।’
স্তন্যদানের জৈবিক প্রক্রিয়া ভালোভাবে বুঝতে পারলে তা নতুন মায়েদের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। কম দুধ উৎপাদন শনাক্ত করার পরীক্ষা চালু হলে ব্যক্তিভেদে উপযোগী পরামর্শ ও সম্ভাব্য চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ধরনের কিছু পরীক্ষা ইতোমধ্যে তৈরি হচ্ছে। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা বুকের দুধে সোডিয়ামের মাত্রা নির্ভুলভাবে মাপার জন্য হাতে ব্যবহার করা যায় এমন বিশেষ যন্ত্র তৈরি করেছেন। এটি অকার্যকর ল্যাক্টোসাইটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সাধারণত দুধ নিঃসরণ শুরু হলে স্তন্যগ্রন্থির কোষগুলোর মাঝের ফাঁক বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সোডিয়াম বুকের দুধে ঢুকতে পারে না। কিন্তু যেসব মায়ের দুধ কম উৎপাদন হয়, তাদের দুধে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সোডিয়াম পাওয়া গেলে তা কোনো জৈবিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকরা জানান, দ্রুতই আরও নতুন উদ্ভাবন বাজারে আসবে। ফলে কোনো শিশু কেন বুকের দুধ পাচ্ছে না বা মা প্রকৃতই কেন দুধ দিতে পারছেন না, তা পরিষ্কারভাবে জানা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যাবে, তেমনি ব্রেস্টফিডিং নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও বিতর্কের অবসান ঘটবে।
(ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা)

বিশ্বায়নের যুগে বর্তমানে শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল, ট্যাবলেট ও টিভি যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন অধিকাংশ পরিবারই শিশুকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে শান্ত রাখা পর্যন্ত নানা কাজে স্ক্রিন ব্যবহার করে। খেলার মাঠ, বই কিংবা সামাজিক মেলামেশার পাশাপাশি স্ক্রিনও এখন তাদের শেখা ও বিনোদনের প্রধান মাধ্যম।
১ ঘণ্টা আগে
ভোজনরসিকদের খুবই প্রিয় একটি খাবার ‘লবস্টার’। ইদানীং ‘লাক্সারি ফুড’ হিসেবে ফাইন ডাইন রেস্টুরেন্টগুলোতে এর চাহিদা ব্যাপক।
২ দিন আগে
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিটির দায়িত্ব নেবেন তিনি।
২১ এপ্রিল ২০২৬
কক্সবাজার বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনে স্থাপিত ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) এই সেবা পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন
১১ এপ্রিল ২০২৬