স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৩৩
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও সহজলভ্য করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাঁচামালের ওপর শুল্ক, ভ্যাট ও কর কমিয়েছে। ফলে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভালভ, পেসমেকার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসারের ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন— প্রতিটি জাতীয় সংকটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আহত ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দক্ষ চিকিৎসকই তৈরি করেনি, এখান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও রাষ্ট্রনায়কও তৈরি হয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অনন্য।

চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, একজন মানুষ সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে যান। তাই চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর মায়ের চিকিৎসার সময় দেশের চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবা ও মানবিকতা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুত নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের শূন্য পদ পূরণ করা হবে। এছাড়া ২৫ হাজার নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, রোগ প্রতিরোধেই সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা, পুষ্টি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে মানুষকে পরামর্শ দেবেন।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার চিকিৎসার জন্য বিদেশে ব্যয় হয়। চিকিৎসকদের দক্ষতা, মানবিকতা ও আন্তরিক সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করা গেলে বিদেশমুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ও হ্রাস পাবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত