শাহ মো. আহসান হাবিব

দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বড় বৈষম্য হলো, গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ আদায় করা, অথচ আমানতকারীদের তার তুলনায় নগণ্য মুনাফা দেওয়া। উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলাকালে আমানতের ওপর কম সুদ সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে নিরুৎসাহিত করছে। আবার ঋণের উচ্চ সুদের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।
এই শোষণমূলক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ‘স্প্রেড’ সর্বোচ্চ চার শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পরিসংখ্যান বলছে, একষট্টিটি তফসিলভুক্ত ব্যাংকের মধ্যে পঞ্চান্নটির স্প্রেড চার শতাংশ সীমার ওপরে অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে এই ব্যবধান নির্ধারিত পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে আমানতের সুদহার বাড়াতে হবে অথবা ঋণের সুদহার কমাতে হবে কিংবা উভয় ক্ষেত্রে যৌক্তিক সমন্বয় সাধন করতে হবে।
বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, স্প্রেড বলতে ব্যাংক তার আমানতকারীদের যে গড় সুদ দেয় এবং ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে যে গড় সুদ আদায় করে, এ দুইয়ের মধ্যকার গাণিতিক পার্থক্যকে বোঝায়। সাধারণত এই সুদের ব্যবধান থেকেই ব্যাংক তার যাবতীয় পরিচালন ব্যয় মেটায় এবং কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দক্ষ ও সুশাসিত ব্যাংকের স্প্রেড তিন থেকে চার শতাংশেই থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে আট থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্প্রেডের এমন ব্যবধান ব্যাংক খাতে এক চরম ভারসাম্যহীনতা ও অব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ব্যাংক খাতে স্প্রেড অস্বাভাবিক মাত্রায় কেন পৌঁছাল? এর মূল কারণ ব্যাংকগুলোর চরম অদক্ষতা এবং খেলাপি ঋণের পাহাড়। বছরের পর বছর রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিরা নানা কৌশলে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ব্যাংকগুলোতে তৈরি হচ্ছে বিশাল মূলধন ঘাটতি ও লোকসান। আর সেই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে সাধারণ আমানতকারী ও সৎ ঋণগ্রহীতাদের ওপর।
ব্যাংক তার নিজের আয় ঠিক রাখতে নিরীহ আমানতকারীদের ঠকিয়ে বাজারের তুলনায় কম সুদ দিচ্ছে, অন্যদিকে সৎ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে উচ্চ সুদের বোঝা চাপাচ্ছে। সহজ কথায়, মুষ্টিমেয় বড় খেলাপির দুর্নীতির দায়ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই অন্যায় থেকে আমানতকারীদের সুরক্ষার জন্য স্প্রেড চার শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, যা এই নির্দেশনার মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে স্প্রেড কমানোর নির্দেশনার পর ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে একটি পুরোনো যুক্তি শোনা যাচ্ছে। ব্যাংক মালিকদের দাবি, বড় কর্পোরেট ঋণের চেয়ে ক্ষুদ্র ঋণের তদারকি ও পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। স্প্রেড চার শতাংশে রাখা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ দেওয়া নাকি কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ব্যাংকারদের এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিংয়ের একটি আদর্শ নীতি হওয়া উচিত, ধনীদের কাছ থেকে বেশি আয় করে তা সাধারণের মাঝে বণ্টন করা তথা ক্রস সাবসিডি দেওয়া। বৃহৎ কর্পোরেট খাত থেকে কমিশন ও বড় ঋণের মাধ্যমে ব্যাংক যে বিপুল মুনাফা করবে, তা দিয়ে তারা অনায়াসেই ক্ষুদ্র খাতের বাড়তি পরিচালন ব্যয় সমন্বয় করতে পারে। আলাদা প্রতিটি খাত থেকেই সমান হারে মুনাফা করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনাই রয়েছে, ব্যাংকের মোট ঋণের নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষুদ্র খাতে বিতরণ করতে হবে।
অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেখানে বেশিরভাগ ব্যাংকের স্প্রেড আট থেকে দশ শতাংশের ঘরে, সেখানে মাত্র এক মাসের মতো সময়ে তা চার শতাংশে নামিয়ে আনা আদৌ কতটা সম্ভব? সত্য হলো, যেসব ব্যাংক দক্ষভাবে পরিচালিত এবং সুশাসন রয়েছে, তাদের জন্য এটি কঠিন নয়। মূলত সমস্যা হবে অদক্ষ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে। ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণকে হিসাবে আনলে চার শতাংশ তো দূরের কথা; দশ শতাংশ স্প্রেড দিয়েও অনেক ব্যাংক তাদের বিশাল লোকসানের গর্ত ভরাট করতে পারবে না।
তাই স্প্রেড কমানোর নির্দেশনার পাশাপাশি আমাদের ব্যাংক খাতের মূল ব্যাধির দিকে নজর দিতে হবে। সেই সমস্যাটি হলো বিপুল খেলাপি ঋণ ও আইনের প্রয়োগহীনতা। ব্যাংক খাতে সুশাসনের ভিত্তিই হলো আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ। টাকা ফেরত না দিলে ঋণখেলাপিদের আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠাতে হবে। আইনের কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগ ছাড়া অন্য কোনো পলিসি বা উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।
সবশেষে বলা যায়, ব্যাংক ব্যবসা করে সাধারণ আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে। অথচ লুটপাটের ফলে ব্যাংক লোকসানে পড়লে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আমানতকারীরাই। ব্যাংক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গেলেও শেয়ারহোল্ডাররা ঠিকই নানা উপায়ে লভ্যাংশ পকেটে ভরেন। আমরা বছরের পর বছর কথিত ব্যাংক মালিকদের বাঁচাতে গিয়ে সাধারণ আমানতকারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছি। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। স্প্রেড কমানোর উদ্যোগটি সেই অবসানের পথে একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। নইলে স্প্রেড কমানোর এই নির্দেশনা হয়তো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বড় বৈষম্য হলো, গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ আদায় করা, অথচ আমানতকারীদের তার তুলনায় নগণ্য মুনাফা দেওয়া। উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলাকালে আমানতের ওপর কম সুদ সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে নিরুৎসাহিত করছে। আবার ঋণের উচ্চ সুদের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।
এই শোষণমূলক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ‘স্প্রেড’ সর্বোচ্চ চার শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পরিসংখ্যান বলছে, একষট্টিটি তফসিলভুক্ত ব্যাংকের মধ্যে পঞ্চান্নটির স্প্রেড চার শতাংশ সীমার ওপরে অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে এই ব্যবধান নির্ধারিত পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে আমানতের সুদহার বাড়াতে হবে অথবা ঋণের সুদহার কমাতে হবে কিংবা উভয় ক্ষেত্রে যৌক্তিক সমন্বয় সাধন করতে হবে।
বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, স্প্রেড বলতে ব্যাংক তার আমানতকারীদের যে গড় সুদ দেয় এবং ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে যে গড় সুদ আদায় করে, এ দুইয়ের মধ্যকার গাণিতিক পার্থক্যকে বোঝায়। সাধারণত এই সুদের ব্যবধান থেকেই ব্যাংক তার যাবতীয় পরিচালন ব্যয় মেটায় এবং কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দক্ষ ও সুশাসিত ব্যাংকের স্প্রেড তিন থেকে চার শতাংশেই থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে আট থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। স্প্রেডের এমন ব্যবধান ব্যাংক খাতে এক চরম ভারসাম্যহীনতা ও অব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ব্যাংক খাতে স্প্রেড অস্বাভাবিক মাত্রায় কেন পৌঁছাল? এর মূল কারণ ব্যাংকগুলোর চরম অদক্ষতা এবং খেলাপি ঋণের পাহাড়। বছরের পর বছর রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিরা নানা কৌশলে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। ব্যাংকগুলোতে তৈরি হচ্ছে বিশাল মূলধন ঘাটতি ও লোকসান। আর সেই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়ত অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে সাধারণ আমানতকারী ও সৎ ঋণগ্রহীতাদের ওপর।
ব্যাংক তার নিজের আয় ঠিক রাখতে নিরীহ আমানতকারীদের ঠকিয়ে বাজারের তুলনায় কম সুদ দিচ্ছে, অন্যদিকে সৎ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে উচ্চ সুদের বোঝা চাপাচ্ছে। সহজ কথায়, মুষ্টিমেয় বড় খেলাপির দুর্নীতির দায়ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই অন্যায় থেকে আমানতকারীদের সুরক্ষার জন্য স্প্রেড চার শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, যা এই নির্দেশনার মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে স্প্রেড কমানোর নির্দেশনার পর ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে একটি পুরোনো যুক্তি শোনা যাচ্ছে। ব্যাংক মালিকদের দাবি, বড় কর্পোরেট ঋণের চেয়ে ক্ষুদ্র ঋণের তদারকি ও পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। স্প্রেড চার শতাংশে রাখা হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ দেওয়া নাকি কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ব্যাংকারদের এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিংয়ের একটি আদর্শ নীতি হওয়া উচিত, ধনীদের কাছ থেকে বেশি আয় করে তা সাধারণের মাঝে বণ্টন করা তথা ক্রস সাবসিডি দেওয়া। বৃহৎ কর্পোরেট খাত থেকে কমিশন ও বড় ঋণের মাধ্যমে ব্যাংক যে বিপুল মুনাফা করবে, তা দিয়ে তারা অনায়াসেই ক্ষুদ্র খাতের বাড়তি পরিচালন ব্যয় সমন্বয় করতে পারে। আলাদা প্রতিটি খাত থেকেই সমান হারে মুনাফা করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনাই রয়েছে, ব্যাংকের মোট ঋণের নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ক্ষুদ্র খাতে বিতরণ করতে হবে।
অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, যেখানে বেশিরভাগ ব্যাংকের স্প্রেড আট থেকে দশ শতাংশের ঘরে, সেখানে মাত্র এক মাসের মতো সময়ে তা চার শতাংশে নামিয়ে আনা আদৌ কতটা সম্ভব? সত্য হলো, যেসব ব্যাংক দক্ষভাবে পরিচালিত এবং সুশাসন রয়েছে, তাদের জন্য এটি কঠিন নয়। মূলত সমস্যা হবে অদক্ষ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে। ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণকে হিসাবে আনলে চার শতাংশ তো দূরের কথা; দশ শতাংশ স্প্রেড দিয়েও অনেক ব্যাংক তাদের বিশাল লোকসানের গর্ত ভরাট করতে পারবে না।
তাই স্প্রেড কমানোর নির্দেশনার পাশাপাশি আমাদের ব্যাংক খাতের মূল ব্যাধির দিকে নজর দিতে হবে। সেই সমস্যাটি হলো বিপুল খেলাপি ঋণ ও আইনের প্রয়োগহীনতা। ব্যাংক খাতে সুশাসনের ভিত্তিই হলো আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ। টাকা ফেরত না দিলে ঋণখেলাপিদের আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠাতে হবে। আইনের কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগ ছাড়া অন্য কোনো পলিসি বা উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে না।
সবশেষে বলা যায়, ব্যাংক ব্যবসা করে সাধারণ আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে। অথচ লুটপাটের ফলে ব্যাংক লোকসানে পড়লে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আমানতকারীরাই। ব্যাংক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গেলেও শেয়ারহোল্ডাররা ঠিকই নানা উপায়ে লভ্যাংশ পকেটে ভরেন। আমরা বছরের পর বছর কথিত ব্যাংক মালিকদের বাঁচাতে গিয়ে সাধারণ আমানতকারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছি। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। স্প্রেড কমানোর উদ্যোগটি সেই অবসানের পথে একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই। নইলে স্প্রেড কমানোর এই নির্দেশনা হয়তো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
.png)

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু—বিশেষ করে সংস্কার প্রশ্নে বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য চাপ সামলাতে সরকার আগেভাগেই নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে।
৪৩ মিনিট আগে
দেশে দ্রুত বাড়ছে চিকিৎসাভিত্তিক এসথেটিক সেবা। বোটক্স, ফিলার, লেজার থেরাপি, পিআরপি ও থ্রেড লিফটের মতো সেবার বাজার এখন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। একটি ক্লিনিকে বোটক্সের একেকটি সেশনের খরচ ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতে গত এক দশকে একের পর এক গণআন্দোলন কেন্দ্রীয় রাজনীতিকে নাড়া দিয়েছে। কখনো নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে শাহিনবাগের আন্দোলন, কখনও কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলন, আবার কখনও বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক ছাত্র প্রতিবাদ।
২ ঘণ্টা আগে
একটি রাজনৈতিক তুলনা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন দুই ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার অবস্থান, দেশত্যাগের কারণ এবং জন-প্রতিক্রিয়া সমমানের হয়। সাম্প্রতিক সময়ে একটি যুক্তি সামনে আনা হয় যে, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানের দেশত্যাগ এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ একই প্রকৃতির ঘটনা।
১৮ ঘণ্টা আগে