জি এইচ হাবীবের ধারাবাহিক অনুবাদ

রংবাহারি গ্রামীণ অভিজাত সমাজ: রায় সাহেব, খান্দান আর বেপারিদের সমাহার

মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের রোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ব্রিটিশ শাসনামলের ভারত, পকিস্তান ও বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশংসিত গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এই নিবন্ধটি ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই ‘আইডেন্টিটি অব আ মুসলিম ফ্যামিলি ইন কলোনিয়াল বেঙ্গল: বিটুইন মেমোরিজ অ্যান্ড হিস্ট্রি’-এর ষষ্ঠ অধ্যায়ের অনুবাদের একাংশ। বইটির বিভিন্ন অংশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলা স্ট্রিমের জন্য অনুবাদ করবেন জি এইচ হাবীব। এবার প্রকাশিত হলো ষষ্ঠ কিস্তি।

রংবাহারি গ্রামীণ অভিজাত সমাজ: রায় সাহেব, খান্দান আর বেপারিদের সমাহার। স্ট্রিম গ্রাফিক

তবে আমি খেয়াল করেছিলাম, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মতো আমাদের গ্রামেও প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাসের ঐতিহ্যবাহী একটি সমান্তরাল গ্রাম পঞ্চায়েত (পাঁচজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ নিয়ে তৈরি পরিষদ) ছিল। সেই পরিষদটির কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো না থাকলেও সেটার একটি নৈতিক স্বীকৃতি ছিল। বর্ষীয়ান নাগরিকরা বিভিন্ন পারিবারিক কলহ, ধর্মীয় সমস্যা, পারিবারিক উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিবাদ মিটিয়ে দিতেন; তবে সবসময় যে তাঁরা এ কাজে সফল হতেন এমন নয়।

সরকারের তৈরি স্থানীয় পরিষদ যেসব কাজ করত না, এই যেমন ঈদের নামাজের স্থান ঠিক নির্ধারণ, গ্রামের মসজিদের বার্ষিক মিলাদের ব্যবস্থা, বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল আয়োজন এবং মসজিদের ইমামকে অর্থ-কড়ি প্রদান, এসব কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তাঁরা বৈঠক করতেন। এ ধরনের সামাজিক কাজে তাঁদের ডাকে কেউ সাড়া না দিলে অন্য গ্রামবাসীরা তাকে একরকম একঘরে করে দেওয়ার হুমকি দিত। এসব বৈঠকে প্রায়ই এলাকার মৌলভি সাহেব উপস্থিত থাকতেন, যিনি মসজিদে নামাজ পড়াতেন। আমার মনে পড়ে, এই সভাগুলো সাধারণত আমাদের গ্রামের মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গায় অনুষ্ঠিত হতো।

গ্রামের প্রবীণ লোকজন ও ধর্মীয় উপদেষ্টাদের এই সমান্তরাল পরিষদকে —যার কোনো আইনি মর্যাদা ছিল না —আমার বাবা তেমন একটা গুরুত্ব দিতেন না। আমার মনে আছে, একবার আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতের এক স্বঘোষিত নেতার সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। বয়োজ্যেষ্ঠদের এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক গ্রামীণ পরিষদগুলো গ্রামের স্বীকৃত সীমানা বা গ্রামের কোনো পাড়ার বাইরে কোনো এখতিয়ার দাবি করত না। তবে, হিন্দুদের এমন প্রবীণ লোকজন নিয়ে গঠিত নিজস্ব পরিষদ ছিল। আমার বিশ্বাস খ্রিষ্টানদেরও এ রকম অনানুষ্ঠানিক পরামর্শের ব্যবস্থা ছিল, যেখানে স্থানীয় গীর্জার যাজকরা কর্তৃত্ব করতেন। তাছাড়া, শুনেছিলাম আমাদের গ্রামের যে অংশে কলু (তেল নিষ্কাশনকারী), ঢোলবাদক এবং ধাত্রীরা বাস করত, তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কলহ-বিবাদ মেটানোর জন্য প্রবীণদের নিজস্ব একটি ছোট দল ছিল।

১৯৩৭ সাল থেকে যখন বৃহত্তর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও কৃষক-কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যকর হতে শুরু করে, এবং যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তরের কারণে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন সারা বাংলা জুড়ে বহুসংখ্যক তরুণ (সেই সঙ্গে কিছু নারীও) সরকারি চাকরি লাভ করে।

আমি জানি এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক গ্রাম্য পরিষদগুলো একসময় ধীরে ধীরে পল্লী অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার স্কুল/কলেজের দিনগুলোতে যা দেখেছিলাম তা হচ্ছে, গ্রামাঞ্চলে এসব প্রাচীন ‘পাঁচ প্রবীণের সভা বা পরিষদের’ বিলীয়মান কাল। কিন্তু তারপরেও একথা বলতেই হয় যে, তাঁরা সেই সমস্ত বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ের সালিশ ও মীমাংসায় নিজেদের প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন যেগুলোর জন্য গ্রামের মানুষ আনুষ্ঠানিক, প্রকাশ্য ও আইনি প্রতিকার এড়িয়ে চলত। কেবল তাঁরা ছাড়া যাদের আদালতে আইনি বিরোধ-নিষ্পত্তির ব্যাপারে বিশেষ বা সহজাত প্রবণতা বা আগ্রহ ছিল।

সম্ভবত, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রায় এক বছর পরে, ১৯৪৮ সালে, এক স্থানীয় হিন্দু যৌনকর্মীর মুসলমান হয়ে যাওয়া এবং তাঁর প্রেমে-পড়া এক মুসলমান যুবককে সেই হিন্দু যৌনকর্মীর বিয়ে করার বিষয় এরকম একটি পঞ্চায়েত বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলেছিল বলে নানা কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। ধারণা করা হয়, মেয়েটি পতিতা ছিল; এবং কঠোর শরিয়া আইন অনুযায়ী বলা হয়েছিল, মুসলমান অনুরাগীকে বিয়ে করার আগে শাস্তি ও প্রায়শ্চিত্তের অংশ হিসেবে তাঁর কিছু বেত্রাঘাত প্রাপ্য। এটা ছিল আমাদের গ্রামবাসীদের জন্য একটি উভয়সংকট; এবং এটা নিয়ে নানা কানাঘুষা শুরু হয়। আমার কিছু সহপাঠী আর উপরের ক্লাসের ছাত্ররাও তাদের বাবা-মাকে এই নিয়ে কথা বলতে শুনেছিল; হতে পারে তাঁরা নিজেরাও এসব উড়ো কথা বলে বেড়াত। কয়েকজন মৌলভি সেই হিন্দু যৌনকর্মীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং একজন মুসলমানকে বিয়ে করার বিরোধিতা করেছিলেন, এবং তাঁরা এই বলে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, মেয়েটিকে যদি কেউ ধর্মান্তরিত এবং বিয়ে করে, সেক্ষেত্রে স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায় তাঁদের একঘরে করবে।

তারপর আমার কানে এলো, ধর্মীয় নির্দেশনা মোতাবেক পঞ্চায়েত এই শর্ত বেঁধে দিয়েছে যে, একটা গামছাকে দড়ির মতো পাকিয়ে সেটা দিয়ে তাঁকে প্রতীকী বেত্রাঘাত করা হবে। এরপর আমি জানতে পারি, বেত্রাঘাতের সঙ্গে তাঁকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে ভর্ৎসনাও করা হয়েছিল। পরে সে মুসলমান হয়ে যায় এবং তাঁর মুসলমান পাণিপ্রার্থীকে বিয়ে করে। সেই দম্পতি সম্পর্কে পরে আমি আর কিছুই শুনিনি, কিন্তু আমার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই এটি উপলব্ধি করেছিলেন যে, পঞ্চায়েতটি একটি সংবেদনশীল বিষয়কে স্পষ্টতই বেশ মানবিক ও সৃজনশীল উপায়ে সামাল দিয়েছিল।

এমনটা খুব দেখা যেত যে, তরুণ খানদানি মুসলমানরা হাইস্কুল শেষ করার পরপরই, বা স্রেফ স্কুলের পড়া চুকিয়ে দিয়ে অথবা কলেজ ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করে ফেলত। আর তারপর নিজেদের বিষয়-সম্পত্তির অবশেষটুকু দেখভাল করত। ধারণা করা হয়, এটা ছিল নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা (নাকি দুরবস্থা) বুঝতে না দেবার জন্য সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারগুলোর একটা উপায়। তাঁরা মাঝে মাঝে তাঁদের সম্প্রদায় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষঙ্গিক কাজ-কর্ম তদারকির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ভূসম্পত্তি দেখাশোনার ভার দিত। তবে, বহু কুলীনই বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতো কেবল আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে, আর তাতে করে তাঁদের সমান্তরাল পরিবারগুলো মাঝে মধ্যে আমাদের আশেপাশের গ্রামগুলো পেরিয়ে প্রতিবেশী জেলা অব্দি ছড়িয়ে পড়ত। তাঁরা এই নিয়ে গর্ব বোধ করত যে, কৃষক পরিবারের সঙ্গে তাঁরা বিয়ের সম্বন্ধ করত না, তা সেই পরিবার ধনী কৃষক হলেও; অবশ্য, দৃশ্যত নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ভেতর থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত কৃষকদেরকে স্বভাবসুলভভাবেই অবজ্ঞা করা ছিল মুসলিম অভিজাত শ্রেণির একটি পুরোনো প্রথা। তবে, মুসলিম গেরস্থ তথা কৃষক পরিবারের অল্পসংখ্যক শিক্ষিত ছেলে লোভনীয় সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে শুরু করলে এই অবস্থা বদলাতে শুরু করে। তাঁরা প্রায়ই খানদানি পরিবারে বিয়ে করত এবং সম্ভবত এটা ছিল উচ্চতর সামাজিক মর্যাদা অর্জনের একটি বিকল্প পথ।

গেরস্থ পরিবারগুলো থেকে আসা ছেলেদের মা-বাবারা আবার খুবই গর্বিত বোধ করত, যখন পুরোনো ও স্বীকৃত রইস পরিবারগুলোর সঙ্গে তাঁরা আত্মীয়তার সম্পর্কে জড়াত। এটা ছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ স্তরবিন্যাসে এক ধরনের ঊর্ধ্বমুখী গতিশীলতা। আমার বাবার অন্তত দুজন প্রাক্তন সহপাঠীও একই কাজ করেছিলেন। আমি শুনেছিলাম, আমার বাবার খুবই পরিচিত একজন স্থানীয় (মুসলমান) সরকারি কর্মকর্তা দ্বিতীয় বিয়ের সময় এক খানদানি রইস পরিবার বেছে নেন, কারণ তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন গেরস্থ পরিবারের মেয়ে। যদিও সেই ভদ্রলোকের কলেজ শিক্ষার ব্যয়ভার তাঁরাই খরচ বহন করেছিলেন। আমি যখন হাইস্কুল শেষ করে কলেজে যাই (১৯৫১), তখন শুনেছিলাম যে, সম্পন্ন কৃষকদের মেয়েদের দেউলিয়া মুসলমান ভদ্রলোকদের ছেলেদের সঙ্গে এই শর্তে বিয়ে দেওয়া হতো যে শ্বশুর জামাইয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করবেন। ছেলে বা মেয়েদের এ ধরনের বিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের মাধ্যমে ঠিক করা হতো।

আবার এমনও প্রা্য়ই দেখা যেত যে, কুলীন পরিবারগুলো কাছাকাছি এলাকায় উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী না পেয়ে তাঁদের ছেলেমেয়েদের দূরবর্তী শহরগুলোতে বিয়ে দিচ্ছে। আমার হাইস্কুলে আমি দূরবর্তী কিছু গ্রামের বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীকে চিনতাম--আমাদের স্কুলে পড়ার সময় তাঁদের স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনেরা বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। আমি যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করি, ততদিনে খানদানি পরিবারে বিয়ে করে সামাজিক মর্যাদা লাভের চল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। অভিভাবকরা বরং চাইতেন তাঁদের সফল ছেলেরা শহরের উচ্চপদস্থ আমলা বা ধনী ব্যবসায়ীদের মেয়েদের বিয়ে করুক।

মাঝে মাঝে বহু হিন্দু ভূস্বামী বাড়তি আয়ের জন্য মহাজনি কারবার ও স্থাবর সম্পত্তি কেনা-বেচার (রিয়েল এস্টেট) মতো ছোটখাটো ব্যবসায়িক উদ্যোগে এবং আইন, শিক্ষকতা, ডাক্তারি ও খাদ্য ব্যবসার মতো পেশায় নিযুক্ত হতেন। তাই রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার মতো যথেষ্ট সহায়-সম্পদ ও অবসর সময় তাঁদের থাকত। আর এটা তাদেরকে অতিরিক্ত মান-মর্যাদা, পরিচিতি ও স্কুল, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও গ্রামীণ পরিকাঠামোর জন্য সরকারি অনুদান বরাদ্দের ওপর একটা কর্তৃত্ব এনে দিয়েছিল। ১৯৩০-এর দশক থেকে ব্রিটিশ ভারত সরকার যোগাযোগ, পরিবহন, গ্রামীণ সমবায়, শিক্ষা, ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সরকারি ব্যয় প্রকল্প চালু করে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল; নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজের নীতি ছিল সম্ভাব্য সবখানে হিন্দু ও মুসলিম দুই গ্রামীণ অভিজাতদেরই ব্যবহার করা। তবে ১৯৪০-এর দশক অব্দি, গ্রাম পরিষদ নেতাদের তত্ত্বাবধানকারী সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই মুসলমান ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪০-এর দশকের শুরুর আগে আমাদের শহরে কোনো মুসলমান স্কুল পরিদর্শক ছিলেন বলে আমার বাবা মনে করতে পারেননি। ব্রিটিশ ভারত সরকার ১৯১৯ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ শুরু করে। তখন প্রাদেশিক পর্যায়ে নির্বাচিত বা কখনো কখনো মনোনীত রাজনীতিবিদদের দ্বারা পরিচালিত তথাকথিত ‘হস্তান্তরিত বিভাগ বা বিষয়’-গুলোর হাতে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অর্পণ করা হয়; এই রাজনীতিবিদদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়েরই মানুষ ছিলেন। এর ফলে, স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও আগের চাইতে বেশি গুরুত্ব লাভ করতে থাকেন।

১৯৩৭ সাল থেকে যখন বৃহত্তর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও কৃষক-কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংস্কার কার্যকর হতে শুরু করে। যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তরের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন সারা বাংলা জুড়ে বহুসংখ্যক তরুণ (সেই সঙ্গে কিছু নারীও) সরকারি চাকরি লাভ করে। আমার এলাকার সদ্য কলেজ পাশ করা কিছু ছাত্রও তখন উপকৃত হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই আমার বাবার কাছ থেকে এ ধরনের খবর পাওয়া যেত যে, পাশের গ্রামের কেউ কেউ সাব-ডেপুটি/ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা এমনকি সিভিল সাপ্লাই অফিসার বা সমবায় ব্যাংক পরিদর্শক অথবা পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর হয়েছে। দুই বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্বর্তীকালীন বছরগুলোতে ভারতে অসাংবিধানিক রাজনীতি যেমন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, সহিংসতা, ইত্যাদি ক্রমেই বেড়ে চলছিল। এ ধরনের জটিলতা সামাল দেওয়ার জন্য সরকার স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মুসলমান রাজনীতিবিদদেরকে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল। এটা গ্রামগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশলও ছিল অবশ্য, যা নিশ্চিতভাবেই গ্রামীণ অভিজাতদের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বৃদ্ধিতে যথেষ্ট অবদান রেখেছিল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত