খুলনায় মে‌য়ে‌ ‘হত্যায়’ মা কারাগারে, বাবা পলাতক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

মা-বাবার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার আরফানা হোসেন নির্জনা। ছবি: সংগৃহীত
মা-বাবার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের শিকার আরফানা হোসেন নির্জনা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার সোনাডাঙ্গায় কি‌শোরী মে‌য়ে হত্যার অভি‌যোগ উঠে‌ছে মা-বাবার বিরু‌দ্ধে। পুলিশের দাবি, ‌মে‌য়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পা‌রেন‌নি। হত্যার পর প্লাস্টিকের বস্তায় ভ‌রে লাশ নগরের প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে দিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন আলীম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতি।

শনিবার (১১ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মা-বাবা অভিযুক্ত হওয়ায় আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে নগরের প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ভিকটিমের ছবি, বেতার বার্তা প্রচার ও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় গত ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। পরে কিশোরীর মা লাশ শনাক্ত করেন। আরফানা হোসেন নির্জনা খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির একমাত্র মেয়ে।

জাহিদুল হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন সীমা। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানান। নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বাড়ি ছেড়ে একদিন পরে ফিরে আসে। সম্প্রতি অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বাড়ি ছেড়ে, তাঁকে বিয়ে করে। সেখান থেকে কয়েকদিন পরে ফেরত আনা হয়।

তিনি বলেন, বাড়ি এসে আবার প্রথম সম্পর্কের ব্যক্তির সঙ্গে চলে যেতে চাইলে, মা-বাবার সঙ্গে নির্জনার বিরোধ হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়েকে মারধর করেন মা। রাগের বশে পরে বাবা কাঠের ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নির্জনার মৃত্যু হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত