‘বিতর্কিত কর্মকর্তাদের’ নাম আসায় কি আটকে গেল পুলিশের পদক দেওয়া

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পুলিশ পদক

পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে আজ রোববার। এ দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই দেওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের পুলিশ পদকের বিপিএম, পিপিএম এবং আইজিপি ব্যাজ। তবে শেষ সময়ে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে এই পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, চলতি বছরের পদক তালিকায় বেশ কয়েকজন ‘বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার‘ নাম আসায় এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবারের পুলিশ সপ্তাহে সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের জন্য পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও ‘আইজি ব্যাজ’ (আইজিপি’স এক্সেমপ্লারি সার্ভিস ব্যাজ) দেওয়ার কথা ছিল। এরমধ্যে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার জন্য বিপিএম ও পিপিএম পদকে মোট ১০৭ সদস্য মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবে কর্মরত সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

আর ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ বা আইজিপি ব্যাজের জন্য মনোনীত হয়েছেন ৩৪১ সদস্য। এটি পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত। পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০৭ সদস্যকে পদক পরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ৩৪১ সদস্যকে ব্যাজ দেওয়ার কথা ছিল।

পদক দেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও কী কারণে এ স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, পদক প্রদানের বিষয়টি পিছিয়ে গেছে। কবে নাগাদ হবে, সেটিও চূড়ান্ত করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে এ পদক দেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। তবে তালিকায় থাকা পদকপ্রাপ্তদের নাম অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি পরিবর্তন হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’

এদিকে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, পদক কমিটির সিলেকশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং তালিকায় বিতর্কিতদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবারের পুলিশ পদক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম। পদক তালিকায় এমন কিছু কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে পঞ্চগড় জেলার এসপি মিজানুর রহমান এবং ফেনীর পুলিশ সুপার মাহবুবের নাম তালিকায় আসায় বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, যোগ্য অনেক কর্মকর্তা পদক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এসপি মিনা মাহমুদা অন্যতম। ‘দীর্ঘ সময় ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও’ তাকে কেন এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে পদক কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ পুলিশ সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, পদক কমিটির প্রধান এবং কমিটির আরও চার সদস্যের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দিতে গিয়ে প্রকৃত যোগ্য ও ত্যাগী কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এই পক্ষপাতদুষ্ট তালিকার কারণে অনেকের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই শেষ মুহূর্তে পদক প্রদানের সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অভিযোগ বা পদক স্থগিতের বিষয়ে পদক কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে সদর দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। আর তাঁর অধস্তন কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্পর্কিত