leadT1ad

আল জাজিরার প্রতিবেদন

টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবেও চলছে মাঠ দখলের লড়াই

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

স্ট্রিম গ্রাফিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে আজ থেকে। প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধি মেনেই প্রচার চালাতে হবে প্রার্থীদের। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের প্রচারে নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটর্ফম নির্বাচনি প্রচারের নতুন রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

কে কার চেয়ে এগিয়ে, কাদের কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, অনলাইন প্রচারণাও ভোটারদের মনোজগতে প্রভাব ফেলছে। তাই সেখানে এগিয়ে থাকাও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপ ফেকের ডামাডোলের কথা মাথায় রেখে ইসিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে একটি গান ভাইরাল হয়। গানটির লিরিক শুনলে মনে হতে পারে এতে গ্রামীণ জীবনের কথা বলা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত দুই তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত দুই তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

গানের কথাগুলো এমন— ‘নৌকা, ধানের শীষ আর লাঙলের দিন শেষ; দাঁড়িপাল্লায় গড়বে এবার নতুন বাংলাদেশ।’ গানটি আসলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সংগীত। গত নভেম্বরের শুরুতে এটি ভাইরাল হয়।

গানটিতে বাংলাদেশের পুরোনো শাসক দলগুলোর প্রতীকের কথা বলা হয়েছে। গানটিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশিরা এখন পুরোনোদের বর্জন করতে চায়। ‘নৌকা’ হলো ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রতীক। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। ‘ধানের শীষ’ হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতীক। আর ‘লাঙল’ হলো জাতীয় পার্টির। জামায়াতের নির্বাচনি প্রতীক হলো ‘দাঁড়িপাল্লা’।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের কথা। এই নির্বাচনে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মধ্যে। আজ থেকে মাঠপর্যায়ের প্রচারণা শুরু হলেও অনলাইনে কয়েক মাস আগে থেকেই এই যুদ্ধ চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো জেন-জি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে লড়ছে। হাসিনাকে হঠাতে এই জেন-জি মূল ভূমিকা পালন করেছিল। হাসিনা পরবর্তী এ সময়ে বাংলাদেশে কারা সরকার গঠন করবে তাতেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলগুলো যে অনলাইনে তাদের প্রচার-প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছে তাঁর উদাহরণ বলা যায় জামায়াতপন্থী ওই গানটিকে। ওই গান অনলাইন জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অন্য দলগুলোর মধ্যেও গান তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এখন গণসংযোগের একমাত্র উপায় কেবল বড় সমাবেশ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এখন সমান শক্তিশালী হাতিয়ার।

লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এইচএএল বান্না জামায়াতপন্থী গানটি সুর এবং গেয়েছেন। আল জাজিরাকে তিনি জানান, এটি প্রাথমিকভাবে ঢাকার এক প্রার্থীর জন্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যখন মানুষ এটি শেয়ার করতে শুরু করল, তখন অন্য প্রার্থীরাও বুঝতে পারে এটি সাধারণ ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারছে। তাঁরাও এখন এটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে।’

জনমত জরিপে জামায়াতের থেকে সামান্য এগিয়ে থাকা বিএনপিও প্রচারণার জন্য গান তৈরি করেছে। গানের কথায় দলটি নিজেদের চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দেয়—সেই বার্তা দিয়েছে। গানে বলা হয়েছে, ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ; ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ।’

২০২৪ সালের বিক্ষোভের সম্মুখসারিতে থাকা শিক্ষার্থীদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) তাদের নিজস্ব গান নিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে তা ভাইরালও হয়েছে। তবে গান অনলাইন প্রচারণার একটি অংশ মাত্র। এর পাশাপাশি ছোট নাটকীয় ভিডিও, আবেগপূর্ণ সাক্ষাৎকার এবং ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্টেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সয়লাব হয়ে গেছে।

ঢাকার একটি সেলুনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার একটি সেলুনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

এ বছরের অনলাইন যুদ্ধ শুধু সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংস্কার প্যাকেজের ওপর গণভোটের সিদ্ধান্তও দেবেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আসা পরিবর্তনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এটি অনুমোদন প্রয়োজন।

অনলাইন কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন। যা দেশের মোট ১৭৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ।

বৈশ্বিক ডিজিটাল গবেষণা এবং বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটর্ফম ডেটারিপোর্টালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ৬ কোটি ৪০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী আছেন। আর ইউটিউব ব্যবহার করেন ৫ কোটি ইউজার। টিকটক ব্যবহারকারী ৫ কোটি ৬০ লাখ। তবে এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। এ মাধ্যমের ব্যবহারকারী প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুলসংখ্যক উপস্থিতিই রাজনৈতিক দলগুলোর অনলাইনে সক্রিয় হওয়ার মূল কারণ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। এদের অনেকেই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। বিগত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও দমন-পীড়নের কারণে এই তরুণরা ভোট দিতে পারেননি। সেই অধিকার বঞ্চিত হওয়ার হতাশাই এখন তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ডিজিটাল কৌশল

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। আসন্ন নির্বাচনেও দলটির অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে নির্বাচন অনেকটা দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

একদিকে রয়েছে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা। তারা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিপরীতে নিজেদের শাসন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে। অন্যদিকে রয়েছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটে এনসিপিও রয়েছে।

বিএনপি নেতা মাহদী আমীন আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দলটির মূল লক্ষ্য হলো নীতিগত প্রস্তাবগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নেওয়া।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিটি খাতের জন্যই আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

অনলাইনে ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে তারা ম্যাচমাইপলিসি ডটকম (MatchMyPolicy.com) নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করেছে। এই ওয়েবসাইটে ভোটাররা দলটির বিভিন্ন নীতির সঙ্গে একমত বা দ্বিমত পোষণ করতে পারছেন। দলটি বলছে, ক্ষমতায় গেলে তারা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপির মতো জামায়াতে ইসলামীও জনতারইশতেহার ডট অর্গ (janatarishtehar.org) নামে ওয়েবসাইট চালু করেছে। এর মাধ্যমে ভোটারদের মতামত নিচ্ছে দলটি এবং এর ভিত্তিতেই দলের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করবে বলে জানিয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ও তরুণরা করা আন্দোলনের একটি দৃশ্য। ছবি: সংহগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ও তরুণরা করা আন্দোলনের একটি দৃশ্য। ছবি: সংহগৃহীত

জামায়াত নেতা জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা যে আদর্শ বিশ্বাস করি তা শেয়ারের বিষয়টিই অনলাইন প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছি।

অন্যান্য দল এবং তাদের প্রচেষ্টার সম্পর্কে জানতে চাইলে জুবায়ের বলেন, আমরা অন্যদের পর্যবেক্ষণ করি, কিন্তু কাউকে অনুসরণ করি না। আমাদের প্রতিযোগিতা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোবাশ্বার হাসান বলেন, জামায়াতপন্থী অনলাইন কন্টেন্টগুলোতে প্রায়ই আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ‘আলাদা কিছু নয়’ বলে আক্রমণে জোর দেওয়া হয়।

অনলাইন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে কে

বিশ্লেষকরা এখনই কাউকে জয়ী ঘোষণা করতে নারাজ। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোবাশ্বার হাসান বলেন, দুই দলের কৌশলে ভিন্নতা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির অনলাইন কন্টেন্টগুলোতে দলটির মূল প্রতিশ্রুতিগুলোকে ক্যাপশন দিয়ে ছোট ভিডিও এবং শেয়ার উপযোগী ফডোকার্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু পোস্টে দলটির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দলটি বলছে বিএনপি নির্বাচিত হলে এই কার্ডের আওতায় ৫০ লাখ নারী ও পরিবার প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাবে। অন্যান্য ভিডিও ক্লিপ এবং গ্রাফিক্সে ‘কৃষি কার্ডের’ পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিমা সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ফ্যাক্ট-চেক আউটলেট ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির বলেন, জামায়াতপন্থী প্রচারণায় ভারত-বিরোধী বার্তাও থাকছে। মিম এবং কপি ফরম্যাটের মাধ্যমে এই বার্তা জামায়াতের নিজস্ব গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ তরুণ ব্যবহারকারীদের মাঝেও ক্রমেই ছড়াচ্ছে।

তাঁর মতে, অন্যদিকে জামায়াতপন্থী অনলাইন কন্টেন্টগুলোতে প্রায়ই আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ‘আলাদা কিছু নয়’ বলে আক্রমণে জোর দিচ্ছে।

ফ্যাক্ট-চেক আউটলেট ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির বলেন, জামায়াতপন্থী প্রচারণায় ভারত-বিরোধী বার্তাও থাকছে।

তিনি বলেন, মিম এবং কপি ফরম্যাটের মাধ্যমে এই বার্তা জামায়াতের নিজস্ব গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ তরুণ ব্যবহারকারীদের মাঝেও ক্রমেই ছড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হাসিনা ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। ঢাকা থেকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গণভোটের প্রচারও অনলাইনে

এ বছরের অনলাইন যুদ্ধ শুধু দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বা ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর গণভোটকে কেন্দ্র করেও চলছে। সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা শুরু করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম আল জাজিরাকে বলেছেন, এই কৌশলটি গণমাধ্যমের পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন। প্রথাগত মাধ্যমগুলো সেখানে ক্রমশ প্রভাব হারিয়েছে।

প্রথাগত গণমাধ্যমের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব আরও বলেন, সংস্কারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জনসমর্থন নিশ্চিত করতে অনলাইন প্রচারণা জরুরি।

অনলাইন প্রচারণাগুলো অফলাইনে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দেয়। বাংলাদেশের মতো তরুণ ভোটার প্রধান দেশে তা-ই জয় এবং পরাজয়ের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনি কারচুপি রোধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত এনসিপিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষক এবং কন্টেন্ট নির্মাতারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনি মৌসুমে ভাইরাল সংগীতের ধারা শুরু হয় জামায়াতপন্থী গানটি দিয়ে। গানটির সুরকার এইচএএল বান্না বলেন, ‘যোগাযোগ ও প্রভাবের’ ক্ষেত্রে সরাসরি মাঠপর্যায়ের প্রচারণার এখনো কোনো বিকল্প নেই।

তবে তিনি এও বলছেন, অনলাইন প্রচারণাগুলো অফলাইনে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দেয়। বাংলাদেশের মতো তরুণ ভোটার প্রধান দেশে তা-ই জয় এবং পরাজয়ের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত