leadT1ad

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে পাকিস্তান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭: ৩১
মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

এক দশক পর মিয়ানমারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর। আর এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশ দুটি।

আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদ সফররত মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই অঙ্গীকার করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

এসব অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে—দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ উন্নয়নের জন্য ধর্মীয় ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দি ট্রিবিউন এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুরো বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করেছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়েও মতবিনিময় করেছে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের মধ্যে গভীরভাবে যোগাযোগ রাখার ব্যাপারে দুইজন সম্মত হয়েছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই পক্ষের বৈঠকের আগে সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতার বিষয়ে এসব মন্তব্য করেন ইসহাক দার। এ সময় তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। এর আগে গত শনিবার চার দিনের সরকারি সফরে আসেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইসহাক দার বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় পাকিস্তান এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকেও গভীরভাবে মূল্য দেয় ইসলাম। এ সময় মিয়ানমারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে মিয়ানমারের কোনো উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাকিস্তান সফর করেছিল। আর ২০১২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মিয়ানমার সফর করেছিলেন।

ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর তা পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর শুরুর দিকে কূটনৈতিক ভাববিনিময়ে শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, টেকসই, কাঠামোগত সম্পৃক্ততা, বাস্তবসম্মত, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর থেকে উভয় দেশের মধ্যেই সম্পর্ক আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান আন্তরিকভাবে মিয়ানমারের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি কামনা করে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিয়ানমারের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবদান রাখবে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ইসহাক দারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল অং সান—উভয় নেতার প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার পরপরই দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকিস্তান ও মিয়ানমার নতুন নতুন উপায়ে বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

বিষয়:

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত