ইউএনএফপিএর জরিপ

বিয়ে ও সন্তান নিতে আগ্রহী তরুণরা, বাধা আর্থিক অনিশ্চয়তা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বিশ্বের অধিকাংশ তরুণ এখনো বিয়ে করতে এবং অন্তত দুটি সন্তানের পরিবার গঠন করতে আগ্রহী। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

বৈশ্বিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিশ্বের অধিকাংশ তরুণ এখনো বিয়ে করতে এবং অন্তত দুটি সন্তানের পরিবার গঠন করতে আগ্রহী। তবে এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট ও আবাসন সমস্যা।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন ‘লাইভস, চয়েসেস অ্যান্ড ফিউচারস’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউএনএফপিএর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ সালে পরিচালিত ‘ডেমোগ্রাফিক ফিউচারস সার্ভে’র ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনটি ৭৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ১ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি ইন্টারনেট-সংযুক্ত তরুণের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী তরুণদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিয়ে করতে বা সঙ্গীর সঙ্গে একত্রে বসবাস করতে আগ্রহী। বিশ্বের সাতটি আঞ্চলিক ভাগের মধ্যে পাঁচটিতেই তরুণরা ‘দুই সন্তানের পরিবার’কে সবচেয়ে আদর্শ হিসেবে মনে করেন। তবে ঘর বাঁধার এই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ এবং সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা আর্থিক নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এছাড়া সন্তান নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ৮৭ শতাংশ তরুণ কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা এবং ৮৫ শতাংশ মানসিক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেছেন। আবাসন সংকটও পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অন্তরায় হিসেবে উঠে এসেছে।

যুদ্ধ-বিগ্রহ, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বৈষম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্বেগ থাকলেও জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ এখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে কমবেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

ইউএনএফপিএ বলছে, এই প্রতিবেদনটি মূলত ভবিষ্যৎ গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে অনুপ্রেরণা জোগাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সংস্থাটি মনে করে, জনসংখ্যা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি না করে বরং নীতিনির্ধারকদের উচিত তরুণদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো একটি স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তরুণরা তাদের স্বপ্নের জীবন ও পরিবার গড়ে তুলতে পারে।

ইউএনএফপিএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই জরিপ মূলত ইন্টারনেট-সংযুক্ত তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। তাই একে পুরো জনসংখ্যার প্রাক্কলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে তরুণদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন খাতে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন একটি উদ্ভাবনী, সহনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত