স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিন থেকেই শুরু হয় ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত বিশেষ সময়কাল। তখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং একটি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। সরাসরি সামরিক শাসন না হলেও এ সময়টি ছিল গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক ধারার বাইরে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। প্রায় দুই বছর চলা এ সময়কাল বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারণায় গভীর প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি
২০০৬ সালের শেষ দিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী জোট নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে আপত্তি তোলায় আন্দোলন ও অবরোধে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যাপক সহিংসতা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। পরে ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়। বিরূপ পরিস্থিতিতে দেশ কার্যত এক রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছিল। এরই মধ্যে ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করেন। ফলে নির্বাচন স্থগিত হয় এবং বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার সরে দাঁড়ায়। নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এর পেছনে সেনাবাহিনীর সক্রিয় সমর্থন ছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।
যা বলছেন মঈন ইউ আহমেদ
সেদিন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ একদল সেনা কর্মকর্তা দুপুরের দিকে বঙ্গভবনে যান।
সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ একটি বই লিখেছেন। ‘শান্তির স্বপ্নে: সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামের সেই বইতে তিনি তখনকার রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে কীভাবে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি উঠে এসেছিল, তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বইতে মঈন ইউ আহমেদ বর্ণনা করেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা সবিস্তারে বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হন।’
সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়া জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী উপস্থিত ছিলেন। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কী ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা গোয়েন্দা দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে বোঝানো হয়। সার্বিক বিবেচনায় সামরিক কর্মকর্তারা জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
জরুরি অবস্থা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
জরুরি অবস্থা জারির ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড সীমিত করা হয়। প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে।
এ সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও আটক হন। রাজনীতিতে ‘সংস্কার’ ও তথাকথিত ‘মাইনাস টু’ ধারণা আলোচনায় আসে। এর লক্ষ্য ছিল দুই প্রধান নেতাকে রাজনীতির বাইরে সরিয়ে দেওয়া। যদিও বাস্তবে এ ধারণা কার্যকর হয়নি, তবু এটি এক-এগারো পর্বের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে।
সংস্কারের উদ্যোগ
এক-এগারো সরকারের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হয় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালু করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়।
অনেকের মতে, এসব উদ্যোগ পরবর্তী নির্বাচনি ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেয়। বিশেষ করে ডিজিটাল ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র চালু হওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তবে এক-এগারো পর্ব কেবল সংস্কারের আবর্তে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসে।
সমালোচকরা বলেন, জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে অনির্বাচিত শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে। প্রশ্ন ওঠে—সংস্কারের জন্য কি এত দীর্ঘ সময় জরুরি অবস্থা বজায় রাখা অপরিহার্য ছিল?
নির্বাচনে প্রত্যাবর্তন
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইতিবাচক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় এবং জরুরি অবস্থার অবসান ঘটে।
এই নির্বাচনকে অনেকেই এক-এগারো পর্বের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরও দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা সম্ভব।
এক-এগারোর উত্তরাধিকার
এক-এগারো বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি জটিল ও দ্বিমুখী উত্তরাধিকার রেখে গেছে। একদিকে এটি নির্বাচনব্যবস্থায় কিছু কাঠামোগত সংস্কারের সূচনা করেছে। অন্যদিকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারায় সাময়িক ছেদ ঘটিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সংকট গভীর হলে রাষ্ট্রের ভেতর বিকল্প শক্তি কীভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
আজও এক-এগারো নিয়ে আলোচনা হলে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন সামনে আসে। কারও কাছে এটি ছিল রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় অধ্যায়। আবার কারও কাছে এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
ইতিহাসের পাঠ
এক-এগারো সময়কাল বাংলাদেশের রাজনীতিকে আত্মপর্যালোচনার সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এ অধ্যায় নতুন করে সামনে এনেছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এক-এগারো ইতিহাসে রূপ নিচ্ছে। তবে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তখন উঠেছিল, সেগুলোর গুরুত্ব আজও পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিন থেকেই শুরু হয় ‘এক-এগারো’ নামে পরিচিত বিশেষ সময়কাল। তখন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং একটি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। সরাসরি সামরিক শাসন না হলেও এ সময়টি ছিল গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক ধারার বাইরে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। প্রায় দুই বছর চলা এ সময়কাল বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারণায় গভীর প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি
২০০৬ সালের শেষ দিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী জোট নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে আপত্তি তোলায় আন্দোলন ও অবরোধে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যাপক সহিংসতা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। পরে ওই নির্বাচন স্থগিত করা হয়। বিরূপ পরিস্থিতিতে দেশ কার্যত এক রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছিল। এরই মধ্যে ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করেন। ফলে নির্বাচন স্থগিত হয় এবং বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার সরে দাঁড়ায়। নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এর পেছনে সেনাবাহিনীর সক্রিয় সমর্থন ছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।
যা বলছেন মঈন ইউ আহমেদ
সেদিন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ একদল সেনা কর্মকর্তা দুপুরের দিকে বঙ্গভবনে যান।
সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ একটি বই লিখেছেন। ‘শান্তির স্বপ্নে: সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামের সেই বইতে তিনি তখনকার রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে কীভাবে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি উঠে এসেছিল, তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
বইতে মঈন ইউ আহমেদ বর্ণনা করেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসংঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসংঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা সবিস্তারে বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হন।’
সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়া জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী উপস্থিত ছিলেন। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কী ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা গোয়েন্দা দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে বোঝানো হয়। সার্বিক বিবেচনায় সামরিক কর্মকর্তারা জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
জরুরি অবস্থা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
জরুরি অবস্থা জারির ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড সীমিত করা হয়। প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে।
এ সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও আটক হন। রাজনীতিতে ‘সংস্কার’ ও তথাকথিত ‘মাইনাস টু’ ধারণা আলোচনায় আসে। এর লক্ষ্য ছিল দুই প্রধান নেতাকে রাজনীতির বাইরে সরিয়ে দেওয়া। যদিও বাস্তবে এ ধারণা কার্যকর হয়নি, তবু এটি এক-এগারো পর্বের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে।
সংস্কারের উদ্যোগ
এক-এগারো সরকারের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু হয় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালু করা হয়। এ ছাড়া নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়।
অনেকের মতে, এসব উদ্যোগ পরবর্তী নির্বাচনি ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেয়। বিশেষ করে ডিজিটাল ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র চালু হওয়াকে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তবে এক-এগারো পর্ব কেবল সংস্কারের আবর্তে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসে।
সমালোচকরা বলেন, জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে অনির্বাচিত শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে। প্রশ্ন ওঠে—সংস্কারের জন্য কি এত দীর্ঘ সময় জরুরি অবস্থা বজায় রাখা অপরিহার্য ছিল?
নির্বাচনে প্রত্যাবর্তন
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইতিবাচক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় এবং জরুরি অবস্থার অবসান ঘটে।
এই নির্বাচনকে অনেকেই এক-এগারো পর্বের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরও দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা সম্ভব।
এক-এগারোর উত্তরাধিকার
এক-এগারো বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি জটিল ও দ্বিমুখী উত্তরাধিকার রেখে গেছে। একদিকে এটি নির্বাচনব্যবস্থায় কিছু কাঠামোগত সংস্কারের সূচনা করেছে। অন্যদিকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারায় সাময়িক ছেদ ঘটিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, রাজনৈতিক সংকট গভীর হলে রাষ্ট্রের ভেতর বিকল্প শক্তি কীভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
আজও এক-এগারো নিয়ে আলোচনা হলে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন সামনে আসে। কারও কাছে এটি ছিল রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় অধ্যায়। আবার কারও কাছে এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
ইতিহাসের পাঠ
এক-এগারো সময়কাল বাংলাদেশের রাজনীতিকে আত্মপর্যালোচনার সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এ অধ্যায় নতুন করে সামনে এনেছে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এক-এগারো ইতিহাসে রূপ নিচ্ছে। তবে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তখন উঠেছিল, সেগুলোর গুরুত্ব আজও পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি।

কারাগারে ল্যাপটপ নিয়ে প্রবেশে বাধা এবং আসামির সঙ্গে ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ বা আইনি পরামর্শের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আইনজীবী। অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
৪ ঘণ্টা আগে
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. শাকিল (৩০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আঘাত করে তাঁকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রবিবার সকালে নিহতের বাবা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী মারা গেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে রান্না করার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ সাক্ষরিত পৃথক আদেশ দেন।
৫ ঘণ্টা আগে