জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার

খামেনিকে কেন হত্যা করতে চায় আমেরিকা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলা আলোচনা আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানে যেসব স্থানে হামলা হয়েছে, তাঁর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও টার্গেট ছিল।

কে এই খামেনি

৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালে নির্বাসন থেকে ফিরে ইরানে বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তিনি।

খামেনি সরকারের সব শাখা, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাখেন। পাশাপাশি তিনি দেশের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

খামেনির শাসনামলে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরূপ সম্পর্ক, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের ভেতরে অর্থনীতি ও অধিকার ইস্যুতে দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘এক নম্বর শত্রু’ বলেছেন আর ইসরায়েলকে দ্বিতীয়।

ইরানের দুটি প্রধান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী খামেনির ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠান দুইটির হাজার-হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাঁদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা বা জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা কোনো প্রমাণ পায়নি যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সদস্য এই অভিযোগ তুলেছেন।

খামেনিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কী বলেছে

দুই দেশের কর্মকর্তারাই আগে খামেনিকে হুমকি দিয়েছেন। গতবছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ১২ দিনের হামলা ও তেহরানের পাল্টা আক্রমণের পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান, তিনি বেঁচে থাকতে পারেন না।’

একই মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন, ‘খামেনিকে হত্যার চেষ্টা ইসরায়েল নাকচ করেনি। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের সমাপ্তি ঘটতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরানি নেতার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি জড়ো করছিল।’ অন্য এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন হলে সবচেয়ে ভালো হবে এবং নেতৃত্ব নেওয়ার মতো লোক আছে।’

গত বছর ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খামেনিকে সহজেই লক্ষ্যবস্তু করতে পারতো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ ঠিক কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু কিন্তু সেখানে নিরাপদে আছেন—আমরা তাকে সরিয়ে দেব না (হত্যা), অন্তত এখন নয়।’

সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য কী ছিল

হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে এবং তিনি ইরানিদের নিজেদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান।

তিনি ইরানীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শেষ করলে, তোমরা তোমাদের সরকার নিজেদের হাতে নাও। সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্মে এটাই তোমাদের একমাত্র সুযোগ।’

দীর্ঘদিন ইরানের কাজ করা আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাশেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। এটি কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।’

ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান খান সার্জিল

সম্পর্কিত