leadT1ad

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাগিং

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন, তদন্তে কমিটি

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ২২: ৪২
অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ান। সংগৃহীত ছবি

ঢাকার আশুলিয়ার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) এক শিক্ষার্থীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা। সেখানে অনুসারীদের নিয়ে হুমকি দেন অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ান।

এদিকে, ওই শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং ও নির্যাতনের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারাহ ইকবাল সভাপতি ও প্রভাষক কাউসারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুল আলম।

এর আগে সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকায় একটি ভাড়া মেসে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গতকাল বিকেলে ওই এলাকায় আশরাফুলের বাসা ডেকে নেওয়া হয় তাঁকে। ভোরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন সহপাঠীরা।

এ ঘটনায় অন্তু দেওয়ান (২২), মেহেদী হাসান (২১), আশরাফুলসহ (২২) কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ ব্যাচের আইন বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী একই বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাঁর বন্ধুরা জানান, আশরাফুলের বাসায় কয়েক বন্ধুসহ ভুক্তভোগীকে ডেকে নেন অভিযুক্তরা। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁকে হুমকি দিলে বাসায় ফিরে যান। পরে রাতে খিঁচুড়ি খাওয়ার কথা বলে আবারও তাদের ডেকে নেওয়া হয়। খাওয়ার শেষে অন্যদের বিদায় দিলেও ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। এমনকি তাঁকে বিবস্ত্র করে মানসিক নির্যাতনও করা হয়। সবার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে ভোরে ছাড়া পান তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মাথা, মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। চিকিৎসক জানান, পুরোপুরি সেরে উঠতে তাঁর কয়েকদিন সময় লাগবে।

ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া মাহিম খান বলেন, ‘চোখে সমস্যার কারণে ভুক্তভোগী পেঁয়াজ ছিলতে পারেন না বলায় আশরাফুল তাঁকে আরেক কক্ষে ডেকে নেন। খানিক পরে চিৎকারের আওয়াজ পাই। এরপর সে বাসায় চলে যায়। পরে আমাকে আর এক বন্ধুকে দিয়ে আবার তাঁকে রাত ৯টার দিকে ডেকে আনেন তারা। ও (ভুক্তভোগী) এসে বড় ভাইদের কাছে মাফ চায়। রাতে খাওয়ার পর সবাই চলে যায়। কিন্তু ওকে তাঁরা রেখে দেন।’

দ্বিতীয় দফায় ডেকে নেওয়ার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জানান, খিঁচুড়ি খেয়ে সবাইকে যেতে বলার পর তাঁকে আটকে রাখেন অভিযুক্তরা। এরপর একপায়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। যৌন নিপীড়নমূলকপ্রশ্ন করে উত্তর না পেলে চড়থাপ্পড় মারেন অন্তু দেওয়ান। পরনের পোশাক খুলতে না চাইলে মারধর করেন তরিকুল। এক পর্যায়ে জোর করে বিবস্ত্র করে পেটে লাথি মারেন অন্তু। তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাপ্পড় দেন ৩২ ব্যাচের মেহেদি ও আশরাফুল। মারধরে জড়িতদের শাস্তি চান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ান সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে হেরে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানার মামলার অন্যতম আসামি তিনি। এ ছাড়া গকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মৃদুল দেওয়ানের আপন চাচাতো ভাই অন্তু।

অভিযোগের বিষয়ে অন্তু দেওয়ান বলেন, ‘জুনিয়রকে আমরা শাসন করতেই পারি। সে বেয়াদবি করায় শাসানো, বকাবকি করা হয়। কিন্তু শারীরিক আঘাত বা এ ধরনের কিছু করা হয়নি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনা। আমরা সিনিয়ররাই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু জুনিয়ররা প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েছে, এখন সমাধান প্রশাসনকেই করতে হবে।’

গকসু ভিপি মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘উভয়পক্ষের কথা শুনেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আন্দোলনকারীদের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ছাত্র সংসদ আছি, আমাদের কাছে আগে আসেনি। সকালে দেখি তারা প্রতিবাদ করছে। প্রশাসন ঘেরাও করে, বিচার দাবি করে। এতে বাগ্বিতণ্ডা হয়।’ তদন্তে অভিযুক্তদের নাম এলে ছাত্র সংসদ থেকে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হবে জানান মৃদুল।

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নকিব জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রাতেই ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যসচিব কনক চন্দ্র রায় বলেন, ‘হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত