তৌফিক হাসান

‘রাজনীতি যাই করি কাকে ভোট দিবো তা নিয়ে এখনও সন্দিহান রয়েছি। ধরেন, আগে এখানে বিএনপির দুই জন প্রার্থী ছিল। এখন সেটা বাদ দিয়ে নতুন একজন আসছে। আবার স্বতন্ত্র যিনি আছেন তিনিও এই এলাকার সন্তান। জামায়াতের প্রার্থীও ভালো ভূমিকা রাখছে। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।’
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা-১২ আসনে অন্তর্ভুক্ত উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢালের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম স্ট্রিমকে এই দ্বিধার কথা জানান।
শুধু জাহাঙ্গীর আলম নয়, কারওরান বাজার, ট্রাকস্ট্যান্ড, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের কথায় এই দ্বিধায় দেখা গেছে।
ভোটাররা বলছেন, এই আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন ও কোদাল প্রতীকে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাইফুল আলম নীরবের জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানান ভোটাররা। কিন্তু জনপ্রিয়তা থাকলেও সাইফুল আলম নীরব ও সাইফুল হকের ভোট ভাগাভাগির সুবিধা জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন পেতে পারেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৮ জন। এছাড়া এই আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
এই ৩ লাখ ভোটারের এ আসনে অন্তর্ভুক্ত পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, বেগুনবাড়ি বিটাক মোড়, ফার্মগেট, বেগুনবাড়ি কুনিপাড়া ও উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢাল এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে স্ট্রিম।
পূর্ব রাজাবাজারের ভোটার মো. রাজিব হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখানে ৩ জন প্রার্থীই ভালো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী এতটা স্ট্রং নয়। আর বিএনপির এখন যেহেতু দুই জন প্রার্থী ফলে বিএনপির ভোট তো কিছুটা ভাগ হবে। তবে আমার কাছে মনে হয়, তিন জনের মধ্যেই লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
একই কথা জানান বেগুনবাড়ি বিটাক মোড় এলাকার বাসিন্দা মীর আহমেদ মিরন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ভোটের আবহাওয়া এখনও বোঝা যাচ্ছে না। ফুটবল মার্কায় যে দাঁড়িয়েছে সে ছোটোবেলা থেকে এ এলাকায় বড় হয়েছে। বিএনপি মনোনয়ন না দিলেও তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। আবার বিএনপি যাকে সমর্থন দিয়েছে সেও প্রচার-প্রচারণা করছে। জামায়াতও প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপির ভোট তো ভাগ হবে। তবে আমার মনে হয়, তিন জনের মধ্যেই কনটেস্ট হবে।’
উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢালের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে একজনের থাকার দরকার ছিল। তাহলে দুইজনের মধ্যে ভোট কাটাকাটি হইতো না। এখন যে কি হয় তা একমাত্র আল্লাই জানে।’
তিন জনের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক ভোটার দেখলেও বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সম্ভাবনা কিছুটা কম বলে জানালেন পশ্চিম তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা আশিকুর রহমান আবির। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমার ইকুয়েশনে সবগুলো প্রার্থীই ইকুয়েল আসছে। তবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে যিনি দাঁড়িয়েছেন তাঁর জন্য একটু চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়া জামায়াত থেকে সাইফুল আলম খান মিলন ও স্বতন্ত্র সাইফুল আলম নীরব একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে পারি আমরা। কারণ, নীরবের সাপোর্টটা একটু বেশি। বিষয় হচ্ছে, দুইজনেরই ৫০/৫০ চান্স। কাউকেই আপনি বাদ দিতে পারবেন না।’
অন্যদিকে সাইফুল হকের কারণে জামায়াত প্রার্থীর ভোট কমতে পারে বলে জানান বেগুনবাড়ি বিটাক মোড় এলাকার বাসিন্দা নূর নবী। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমার মতে এই আসন থেকে সাইফুল আলম নীরব জিতে আসবে। অন্য যে দুইজন প্রার্থী রয়েছে তাঁরা কিছু ভোট পেতে পারে। তবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা নেই। কারণ, সাইফুল আলম নীরব ভোলা জেলার সন্তান। আর এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই ভোলা জেলার বাসিন্দা। সেই জায়গা থেকে সাইফুল আলম নীরব সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে। আর সাইফুল হকের জন্য জামায়াতের ভোট কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে এই আসনে নারী ও শ্রমিক ভোটারের ওপর প্রার্থীর জয় নির্ভর করছে বলে জানান পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা রায়হান তাহরাত লিয়ন।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আসলে নির্বাচনের হাওয়া বোঝা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের সাড়া এবং তাদের প্রচার প্রচারণা মিলে যেটা মনে হচ্ছে যে, এখানে আসলে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে নারীরা। নারীদের ভোট যেদিকে পড়বে সেদিকেই জয়ের পাল্লা ভারী হবে। এছাড়া শ্রমিক অঞ্চলের মধ্যে বিএনপির এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে। সেই জায়গায় ধানের শীষের ভোটটা যদি ভাগ হয়ে যায় তাহলে ফলাফলটা ভিন্ন রকম হতে পারে।’
ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও তিন প্রার্থীই জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
আজ সকালে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় প্রচারণা চালাতে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি এই মাটির সন্তান, এই মাটিতে আমি বড় হয়েছি। এই মাটিতেই আমার শৈশব জীবন কাটিয়েছে। অন্য যারা এখানে নির্বাচন করতে আসছেন তাঁরা কিন্তু কেউই এই মাটির সন্তান না। আমি এই মাটির সন্তান হিসেবে বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে এই এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে ইনশাল্লাহ জয়যুক্ত করবেন।’
বিকেল ৩টায় ফার্মগেটে প্রধান নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করতে এসে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ১৭ বছর এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আমি ও আমার দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। আমি এ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাবো বলে মনে করছি।’
আর বিকেল সাড়ে ৪টায় বেগুনবাড়ির কুনিপাড়ার ফরিদ উদ্দিন স্কুলে এজেন্ট ও দায়িত্বশীল নারী সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. সাইফুল আলম খান মিলন স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আমাদের প্রত্যেক জায়গায় নারীকর্মী, পুরুষকর্মী এবং ছাত্রকর্মী রয়েছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। সেই যোগাযোগ করার কারণে আমরা মনে করি যে, আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অনেক উৎসাহে লোকেরা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাচ্ছে।’
শুধু জয়ের প্রত্যাশা নয়, পাশাপাশি এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বাধা প্রদানের অভিযোগও তুলেছেন।
অভিযোগের তীর তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ এতদিন ভালোই ছিল। কিন্তু আজকে ভোটের পরিবেশটা খারাপ হয়ে গেল। আপনারা জানেন যে খিলক্ষেতে আমাদের ১১ দলীয় জোটের যে ক্যান্ডিডেট রয়েছে, তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। এটা স্পষ্টভাবে বিএনপি করেছে। কাজেই আমরা খুব চিন্তিত। বিশেষভাবে আমি চিন্তিত এই জন্য যে, ঢাকা-১২ তে ইতোমধ্যে দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একজন ক্যান্ডিডেট জোর করে লোকদেরকে মিছিলে নিচ্ছেন। তাদেরকে টাকা দিচ্ছেন। বস্তিতে টাকা দিচ্ছে। যেটা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য খারাপ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন। সে কারণে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ আমাদেরকে অনেক রাত্রে বাসায় ফিরতে হয়, অনেক সকালে বের হতে হয়। সরকার কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত বলা যেতে পারে কিছু ঘটনা আছে, সংঘাতের ঘটনা, সংঘর্ষের ঘটনা। অপর পক্ষ থেকে ভোটারদেরকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের দুই একটা ওয়ার্ডের অফিস ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘আজকে দুই একটি দল মনে করছেন তাঁরা ক্ষমতায় চলে গিয়েছেন। তারা আমাদের লিফলেট বিতরণে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, আমাদের কর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। সাধারণ কর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। আমার প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে এই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দেওয়া প্রার্থীর তালিকার তথ্য বলছে, ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ১৫ জনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাইফুল আলম নীরব, সাইফুল আলম খান মিলন ও সাইফুল হক রয়েছেন। তবে তাঁদের ছাড়াও আরও ১২ জন প্রার্থী ভোটের আশায় এলাকায় এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা হলেন, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার চৌধুরী, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কল্লোল বনিক, মাথাল প্রতীকে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার, কলম প্রতীকে জনতার দলের ফরিদ আহমেদ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, ছড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মুনতাসির মাহমুদ, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছা. সালমা আক্তার, সিংহ প্রতীকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোমিনুল আমিন, কাঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাঈম হাসান, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজালাল, প্রজাপতি প্রতীকে আমজনতার দলের মো. তারেক রহমান ও লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

‘রাজনীতি যাই করি কাকে ভোট দিবো তা নিয়ে এখনও সন্দিহান রয়েছি। ধরেন, আগে এখানে বিএনপির দুই জন প্রার্থী ছিল। এখন সেটা বাদ দিয়ে নতুন একজন আসছে। আবার স্বতন্ত্র যিনি আছেন তিনিও এই এলাকার সন্তান। জামায়াতের প্রার্থীও ভালো ভূমিকা রাখছে। এ কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।’
আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা-১২ আসনে অন্তর্ভুক্ত উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢালের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম স্ট্রিমকে এই দ্বিধার কথা জানান।
শুধু জাহাঙ্গীর আলম নয়, কারওরান বাজার, ট্রাকস্ট্যান্ড, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের কথায় এই দ্বিধায় দেখা গেছে।
ভোটাররা বলছেন, এই আসনে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন ও কোদাল প্রতীকে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাইফুল আলম নীরবের জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে জানান ভোটাররা। কিন্তু জনপ্রিয়তা থাকলেও সাইফুল আলম নীরব ও সাইফুল হকের ভোট ভাগাভাগির সুবিধা জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন পেতে পারেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৮ জন। এছাড়া এই আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।
এই ৩ লাখ ভোটারের এ আসনে অন্তর্ভুক্ত পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, বেগুনবাড়ি বিটাক মোড়, ফার্মগেট, বেগুনবাড়ি কুনিপাড়া ও উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢাল এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে স্ট্রিম।
পূর্ব রাজাবাজারের ভোটার মো. রাজিব হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখানে ৩ জন প্রার্থীই ভালো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে জামায়াতের প্রার্থী এতটা স্ট্রং নয়। আর বিএনপির এখন যেহেতু দুই জন প্রার্থী ফলে বিএনপির ভোট তো কিছুটা ভাগ হবে। তবে আমার কাছে মনে হয়, তিন জনের মধ্যেই লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
একই কথা জানান বেগুনবাড়ি বিটাক মোড় এলাকার বাসিন্দা মীর আহমেদ মিরন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘ভোটের আবহাওয়া এখনও বোঝা যাচ্ছে না। ফুটবল মার্কায় যে দাঁড়িয়েছে সে ছোটোবেলা থেকে এ এলাকায় বড় হয়েছে। বিএনপি মনোনয়ন না দিলেও তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। আবার বিএনপি যাকে সমর্থন দিয়েছে সেও প্রচার-প্রচারণা করছে। জামায়াতও প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপির ভোট তো ভাগ হবে। তবে আমার মনে হয়, তিন জনের মধ্যেই কনটেস্ট হবে।’
উত্তর বেগুনবাড়ির সিদ্দিক মাস্টার ঢালের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেশি। তবে একজনের থাকার দরকার ছিল। তাহলে দুইজনের মধ্যে ভোট কাটাকাটি হইতো না। এখন যে কি হয় তা একমাত্র আল্লাই জানে।’
তিন জনের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক ভোটার দেখলেও বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের সম্ভাবনা কিছুটা কম বলে জানালেন পশ্চিম তেজতুরী বাজারের বাসিন্দা আশিকুর রহমান আবির। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমার ইকুয়েশনে সবগুলো প্রার্থীই ইকুয়েল আসছে। তবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে যিনি দাঁড়িয়েছেন তাঁর জন্য একটু চ্যালেঞ্জ হবে। এছাড়া জামায়াত থেকে সাইফুল আলম খান মিলন ও স্বতন্ত্র সাইফুল আলম নীরব একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে পারি আমরা। কারণ, নীরবের সাপোর্টটা একটু বেশি। বিষয় হচ্ছে, দুইজনেরই ৫০/৫০ চান্স। কাউকেই আপনি বাদ দিতে পারবেন না।’
অন্যদিকে সাইফুল হকের কারণে জামায়াত প্রার্থীর ভোট কমতে পারে বলে জানান বেগুনবাড়ি বিটাক মোড় এলাকার বাসিন্দা নূর নবী। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমার মতে এই আসন থেকে সাইফুল আলম নীরব জিতে আসবে। অন্য যে দুইজন প্রার্থী রয়েছে তাঁরা কিছু ভোট পেতে পারে। তবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা নেই। কারণ, সাইফুল আলম নীরব ভোলা জেলার সন্তান। আর এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই ভোলা জেলার বাসিন্দা। সেই জায়গা থেকে সাইফুল আলম নীরব সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে। আর সাইফুল হকের জন্য জামায়াতের ভোট কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে এই আসনে নারী ও শ্রমিক ভোটারের ওপর প্রার্থীর জয় নির্ভর করছে বলে জানান পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা রায়হান তাহরাত লিয়ন।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আসলে নির্বাচনের হাওয়া বোঝা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের সাড়া এবং তাদের প্রচার প্রচারণা মিলে যেটা মনে হচ্ছে যে, এখানে আসলে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে নারীরা। নারীদের ভোট যেদিকে পড়বে সেদিকেই জয়ের পাল্লা ভারী হবে। এছাড়া শ্রমিক অঞ্চলের মধ্যে বিএনপির এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে। সেই জায়গায় ধানের শীষের ভোটটা যদি ভাগ হয়ে যায় তাহলে ফলাফলটা ভিন্ন রকম হতে পারে।’
ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও তিন প্রার্থীই জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।
আজ সকালে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় প্রচারণা চালাতে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি এই মাটির সন্তান, এই মাটিতে আমি বড় হয়েছি। এই মাটিতেই আমার শৈশব জীবন কাটিয়েছে। অন্য যারা এখানে নির্বাচন করতে আসছেন তাঁরা কিন্তু কেউই এই মাটির সন্তান না। আমি এই মাটির সন্তান হিসেবে বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচনে এই এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে ইনশাল্লাহ জয়যুক্ত করবেন।’
বিকেল ৩টায় ফার্মগেটে প্রধান নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন করতে এসে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ১৭ বছর এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আমি ও আমার দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। আমি এ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাবো বলে মনে করছি।’
আর বিকেল সাড়ে ৪টায় বেগুনবাড়ির কুনিপাড়ার ফরিদ উদ্দিন স্কুলে এজেন্ট ও দায়িত্বশীল নারী সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. সাইফুল আলম খান মিলন স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আমাদের প্রত্যেক জায়গায় নারীকর্মী, পুরুষকর্মী এবং ছাত্রকর্মী রয়েছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। সেই যোগাযোগ করার কারণে আমরা মনে করি যে, আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অনেক উৎসাহে লোকেরা একটা পরিবর্তন চাচ্ছে। তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাচ্ছে।’
শুধু জয়ের প্রত্যাশা নয়, পাশাপাশি এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বাধা প্রদানের অভিযোগও তুলেছেন।
অভিযোগের তীর তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ এতদিন ভালোই ছিল। কিন্তু আজকে ভোটের পরিবেশটা খারাপ হয়ে গেল। আপনারা জানেন যে খিলক্ষেতে আমাদের ১১ দলীয় জোটের যে ক্যান্ডিডেট রয়েছে, তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। এটা স্পষ্টভাবে বিএনপি করেছে। কাজেই আমরা খুব চিন্তিত। বিশেষভাবে আমি চিন্তিত এই জন্য যে, ঢাকা-১২ তে ইতোমধ্যে দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একজন ক্যান্ডিডেট জোর করে লোকদেরকে মিছিলে নিচ্ছেন। তাদেরকে টাকা দিচ্ছেন। বস্তিতে টাকা দিচ্ছে। যেটা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য খারাপ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন। সে কারণে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। কারণ আমাদেরকে অনেক রাত্রে বাসায় ফিরতে হয়, অনেক সকালে বের হতে হয়। সরকার কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত বলা যেতে পারে কিছু ঘটনা আছে, সংঘাতের ঘটনা, সংঘর্ষের ঘটনা। অপর পক্ষ থেকে ভোটারদেরকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমাদের দুই একটা ওয়ার্ডের অফিস ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘আজকে দুই একটি দল মনে করছেন তাঁরা ক্ষমতায় চলে গিয়েছেন। তারা আমাদের লিফলেট বিতরণে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে, আমাদের কর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। সাধারণ কর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে। আমার প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে এই সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দেওয়া প্রার্থীর তালিকার তথ্য বলছে, ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ১৫ জনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাইফুল আলম নীরব, সাইফুল আলম খান মিলন ও সাইফুল হক রয়েছেন। তবে তাঁদের ছাড়াও আরও ১২ জন প্রার্থী ভোটের আশায় এলাকায় এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা হলেন, ট্রাক প্রতীকে গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার চৌধুরী, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কল্লোল বনিক, মাথাল প্রতীকে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার, কলম প্রতীকে জনতার দলের ফরিদ আহমেদ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, ছড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মুনতাসির মাহমুদ, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছা. সালমা আক্তার, সিংহ প্রতীকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোমিনুল আমিন, কাঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাঈম হাসান, মোমবাতি প্রতীকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজালাল, প্রজাপতি প্রতীকে আমজনতার দলের মো. তারেক রহমান ও লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি দল কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণা করছে, এটি প্রতিরণার প্যাকেজ। বাংলাদেশের সংকট এখন ফ্যামিলি কার্ড না, বাংলাদেশের সংকট এখন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদকে কারও ঘাড়ে ভর করে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম আদিবের নির্বাচনী সভায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপি।
৫ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনি প্রচারে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসবকে নির্বাচনের আগে কেন্দ্র দখল ও ভোটারকে ভয় দেখানোর প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
৫ ঘণ্টা আগে