leadT1ad

ইইউ-র সঙ্গে ভারতের ‘মাদার অফ অল ডিলস’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৬
ভারত ও ইইউ-এর পতাকা। প্রতীকী ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে গাড়ি আমদানির শুল্ক কমাচ্ছে ভারত। বিদ্যমান ১১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। ভারত সরকার ইইউ-র ২৭টি দেশ থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু গাড়ির ওপর কর কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। আমদানি মূল্য ১৫ হাজার ইউরো বা ১৭ হাজার ৭৩৯ ডলারের বেশি এমন গাড়ি এই সুবিধার আওতায় থাকবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতে গাড়ি আমদানির ওপর ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ হারে শুল্ক রয়েছে। নতুন চুক্তির ফলে যা ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে এবং সময়ের সঙ্গে আরও কমিয়ে ১০ শতাংশে ঠেকানো হবে। এর ফলে ভক্সওয়াগন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং বিএমডব্লিউ-এর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজারে প্রবেশের পথ আরও সহজ হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই আলোচনা সফল হলে একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ (সব চুক্তির সেরা) বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে কেবল ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই লাভবান হবে না, বরং ভারতও তার টেক্সটাইল ও জুয়েলারি বা গয়না রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতের এই দুই খাতের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ভারত বর্তমানে আমেরিকা ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল বাজার। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে টেসলা প্রধান ইলন মাস্কের মতো বিশ্বের অনেক শীর্ষ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সমালোচনা করে আসছিলেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ দহন-ইঞ্জিন বা কম্বাশন-ইঞ্জিন গাড়ির জন্য এই শুল্ক ছাড় প্রযোজ্য হবে।

তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ক্ষেত্রে এখনই কোনো সুখবর নেই। প্রথম পাঁচ বছর বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে না। মূলত ভারতের দেশীয় অটোমেকার টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মতো কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর পর ইভি বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানোর বিষয় কার্যকর হতে পারে।

বর্তমানে ভারতের বছরে ৪৪ লাখ ইউনিটের গাড়ির বাজারে ইউরোপীয় নির্মাতাদের শেয়ার ৪ শতাংশেরও কম। এই বাজার মূলত জাপানের সুজুকি মোটরস এবং ভারতের দেশীয় ব্র্যান্ড টাটা ও মাহিন্দ্রার দখলে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের গাড়ির বাজার বছরে ৬০ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে। শুল্ক কমানোর ফলে রেনোঁর মতো কোম্পানিগুলো ভারতে নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে এবং ভক্সওয়াগন গ্রুপ তাদের স্কোডা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত