leadT1ad

মিরসরাইয়ে ভারতীয় প্রকল্পের বদলে ‘সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় একটি সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিলিটারি ইকোনমিক জোন) গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে নির্ধারিত ভারতীয় সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিবর্তে এই নতুন অঞ্চল স্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আশিক চৌধুরী জানান, বেজার গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি একই সঙ্গে বেজার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান।

আশিক চৌধুরী বলেন, ভারতীয় ইকোনমিক জোনটি সরকার-টু-সরকার কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জমি খালি রয়েছে। এই জমিতেই সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।

মিরসরাইয়ে প্রায় ৮৫০ একর জমিতে এই সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতিরক্ষা শিল্পের চাহিদা রয়েছে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশ এ খাতে অংশগ্রহণ শুরু করতে পারে।

আশিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের সময় সরবরাহ সংকট দেখা দিলে গোলাবারুদের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অনেক যুদ্ধে দেখা গেছে, সংকট উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রে নয়। সংকট দেখা দিয়েছে গুলি ও ট্যাংকের যন্ত্রাংশের মতো মৌলিক সরঞ্জামে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

আশিক চৌধুরী বলেন, মিরসরাইয়ের নির্ধারিত জমিকে বেজার মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে এই এলাকাকে প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আগে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পটি বাতিল হওয়ায় জমিটি খালি ছিল। সেই জমিই এখন সামরিক শিল্প এলাকার জন্য ব্যবহার করা হবে।

এ জন্য এখনো অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই প্রতিরক্ষা পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। সেসব দেশই এ ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।’

এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বেজা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত