মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদায় উল্লম্ফন, কতটা দায়ী ব্যাটারিরিকশা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্ট্রিম গ্রাফিক

সাধারণত রাত ১২টার পর বিদ্যুতের ‘পিক আওয়ার’ (সর্বোচ্চ চাহিদা) শেষ হয়। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কমে আসে। কিন্তু এখন উল্টো এই সময়ে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতে বিদ্যুতের এই চাহিদার উল্লম্ফনের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চার্জ দেওয়াকে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও বলেছেন, অধিকাংশ রিকশা মধ্যরাতে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুতের পিক আওয়ারের সময় বদলে গেছে। মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট হচ্ছে।

মন্ত্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, রাত ১২টার পর বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশায় চার্জ দেওয়া। আগে এমনটি দেখা যেত না।

সরকারি নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা নেই। তবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতে চলাচল করছে প্রায় ২০ লাখ।

ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তার সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে সিপিডির তথ্যে, এসব যানবাহনে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। এর পরিমাণ দৈনিক প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘ইন্টিগ্রেটিং ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারস ইনটু আরবান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক’ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় সিপিডি জানায়, কৃষিজীবী, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিকরা আয়ের অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং শারীরিক পরিশ্রম কমাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তার সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে সিপিডির তথ্যে, এসব যানবাহনে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। এর পরিমাণ দৈনিক প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট।

নিবন্ধনের আওতায় না এলেও, এসব যানবাহন চার্জের অনুমতি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। রাজধানীতে প্রায় তিন হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশন অনুমোদন পেয়েছে। এর বাইরে অনেক অবৈধ পয়েন্ট রয়েছে। সিপিডি জানায়, ঢাকায় অননুমোদিত চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজারের বেশি। এসব পয়েন্টে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রতি রাতে এই খাতে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। তবে এসব যানকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা সমাধান হিসেবে বলছেন, অটোরিকশা বিকল্প জীবিকা তৈরি করেছে। তবে চালকদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্সের আওতায় আনা উচিত।

এদিকে, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল (এআই সিগন্যাল) ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র এসব রিকশা তৈরি বন্ধে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ লক্ষ্যে সচিবালয়ে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন-সংক্রান্ত সভা হয়।

সভা শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশোধিত আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণে প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদায় উল্লম্ফন, কতটা দায়ী ব্যাটারিরিকশা