সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি

গ্যাসমুক্ত সনদ থাকলেও জাহাজের গ্যাসে ৯ প্রাণহানি

সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ১১
সীতাকুণ্ডে একটি শিপইয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাহাজটি পরিদর্শনের সময় বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে ১০.৮ পিপিএম মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় জাহাজের ভেতরে গ্যাসটির ঘনত্ব ১০০ পিপিএমের বেশি হয়ে থাকতে পারে। এত উচ্চমাত্রার হাইড্রোজেন সালফাইড মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জাহাজের ভেতর ও আশপাশের এলাকা থেকে বিষাক্ত গ্যাস সরাতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করবে বলে জানান বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিস্ফোরক পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জাহাজ ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপদ করতে যৌথভাবে বিষাক্ত গ্যাস অপসারণের কাজ শুরু হবে।

সকালে শিল্পসচিব আবদুন নাসের খানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ), সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে শিল্পসচিব বলেন, শিপব্রেকিং বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পের বিকাশে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে।

দুর্ঘটনার পর থেকে ইয়ার্ডটি সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। এর আগে বিএসবিআরএ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে।

কমিটিগুলো দুর্ঘটনার পেছনে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং নিরাপত্তা-ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবে।

বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আনার আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাসমুক্ত সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটিরও এমন সনদ ছিল। তারপরও জাহাজের ভেতরে কীভাবে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি তৈরি হলো, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহত ৯ শ্রমিকের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। মামলা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

গ্যাসমুক্ত সনদ থাকলেও জাহাজের গ্যাসে ৯ প্রাণহানি