‘৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি ও ৩৮ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ শিগগিরই’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংগৃহীত ছবি

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকারের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে খালি হতে যাওয়া পদসহ আরও ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগ ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩’ মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতার অবসান ঘটে মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণ অধিকার ফিরে পেয়েছে। ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধি ৯(১) চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট বিধানটি বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার পক্ষ আপিল করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) আদেশ দেওয়ায় সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯ বছর ধরে মামলাজনিত কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের নিয়ম রয়েছে। মামলার জট খোলায় এখন দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে।

ইতিমধ্যে প্রক্রিয়ায় থাকা ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাঁদের দ্রুত ট্রেনিংয়ে পাঠাব। ইমিডিয়েটলি তাঁদের এই প্রশিক্ষণ হবে ২ মাসের।’ তিনি জানান, শিক্ষকদের সেশন জট এড়াতে প্রচলিত ৯ মাসের পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) প্রশিক্ষণের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ২ মাসের ‘ওরিয়েন্টেশন’ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের সরাসরি বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিগত চার মাস ধরে আমরা এই জটিলতা থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ের কারণে আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করল।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত