স্ট্রিম প্রতিবেদক

হাইকোর্টে তথ্য গোপন ও জামিন আদেশে জালিয়াতি করে কুকি-চিনের জন্য তৈরি পোশাক জব্দের মামলার এক আসামির কারামুক্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের অভিযোগ আমলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে এ নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কারামুক্ত ওই আসামির নাম সাহেদুল ইসলাম (২৫)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের তৈরি পোশাক কারখানা ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলার অন্যতম আসামি।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা অথবা ফৌজদারি শাখার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা সত্য। তদন্ত চলছে। আপনারা দ্রুতই তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারবেন।’
যেভাবে প্রকাশ্যে এলো জালিয়াতি
রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস জানায়, উচ্চ আদালতে এই জালিয়াতির ঘটনা প্রায় সাত মাস আগে ঘটলেও চলতি সপ্তাহে তা প্রকাশ্যে আসে। মামলার অপর এক আসামি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে জামিন নিতে এসে মুখ্য আসামি সাহেদুল ইসলামের জামিন পাওয়ার উদাহরণ টানলে বিষয়টি সামনে আসে। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় খোঁজ নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং তা সরাসরি প্রধান বিচারপতির নজরে আনে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় কারাবন্দি সাহেদুল ইসলাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের দ্বৈত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে।
ওই দিনের অনলাইন কার্যতালিকা অনুযায়ী, সাহেদুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র নামে দুটি মামলা আসে, যার আইটেম নম্বর ছিল ১৩০ (টেন্ডার নম্বর ৭৫৯৯১) এবং ১৩২ (টেন্ডার নম্বর ৭৫৯৯৩)। অন্যদিকে, ১৩১ নম্বর আইটেমটি আসে ‘সৈয়দ মিয়া বনাম রাষ্ট্র’ নামে, যার টেন্ডার নম্বরও ছিল ৭৫৯৯৩। ১৩১ ও ১৩২ নম্বর আইটেমের টেন্ডার নম্বর হুবহু হওয়ার মধ্য দিয়েই মূল জালিয়াতির ছক কষা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আদালত সাহেদুল ইসলাম নামের যে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন, সেটির এজাহার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের কোনো অভিযোগ ছিল না। সেই ভিন্ন মামলার এজাহার উপস্থাপন করে আদালত থেকে জামিন আদেশ নেওয়া হয়, যেখানে দুই বিচারপতি স্বাক্ষর করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ওই জামিন আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় মামলার এজাহার, থানার নাম এবং অভিযোগের ধারা বদলে ফেলা হয়। সেখানে সুকৌশলে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের মামলার নম্বর ও ধারা বসিয়ে জাল আদেশটি কারাগারে দাখিল করে আসামি মুক্ত করা হয়।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম, পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দার (৩৯)। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২ কোটি টাকার বিনিময়ে মংহলাসিন মারমা ও কুকি-চিনের সদস্যদের কাছ থেকে মার্চ মাসে এসব পোশাক তৈরির কার্যাদেশ নেওয়া হয়েছিল। রিংভো অ্যাপারেলসের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে এ জব্দের ঘটনায় সাক্ষী করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরুর দিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে এই সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে এটি গঠনের কথা বলা হলেও সেখানে বম জনগোষ্ঠীর কিছু লোক থাকায় পাহাড়ে সংগঠনটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিতি পায়।

হাইকোর্টে তথ্য গোপন ও জামিন আদেশে জালিয়াতি করে কুকি-চিনের জন্য তৈরি পোশাক জব্দের মামলার এক আসামির কারামুক্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জালিয়াতির অভিযোগ আমলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের অভিযোগ আমলে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে এ নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কারামুক্ত ওই আসামির নাম সাহেদুল ইসলাম (২৫)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের তৈরি পোশাক কারখানা ‘রিংভো অ্যাপারেলস’-এর মালিক এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলার অন্যতম আসামি।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা অথবা ফৌজদারি শাখার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা সত্য। তদন্ত চলছে। আপনারা দ্রুতই তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারবেন।’
যেভাবে প্রকাশ্যে এলো জালিয়াতি
রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস জানায়, উচ্চ আদালতে এই জালিয়াতির ঘটনা প্রায় সাত মাস আগে ঘটলেও চলতি সপ্তাহে তা প্রকাশ্যে আসে। মামলার অপর এক আসামি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে জামিন নিতে এসে মুখ্য আসামি সাহেদুল ইসলামের জামিন পাওয়ার উদাহরণ টানলে বিষয়টি সামনে আসে। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় খোঁজ নিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং তা সরাসরি প্রধান বিচারপতির নজরে আনে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় কারাবন্দি সাহেদুল ইসলাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ সুমনের দ্বৈত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে।
ওই দিনের অনলাইন কার্যতালিকা অনুযায়ী, সাহেদুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র নামে দুটি মামলা আসে, যার আইটেম নম্বর ছিল ১৩০ (টেন্ডার নম্বর ৭৫৯৯১) এবং ১৩২ (টেন্ডার নম্বর ৭৫৯৯৩)। অন্যদিকে, ১৩১ নম্বর আইটেমটি আসে ‘সৈয়দ মিয়া বনাম রাষ্ট্র’ নামে, যার টেন্ডার নম্বরও ছিল ৭৫৯৯৩। ১৩১ ও ১৩২ নম্বর আইটেমের টেন্ডার নম্বর হুবহু হওয়ার মধ্য দিয়েই মূল জালিয়াতির ছক কষা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আদালত সাহেদুল ইসলাম নামের যে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন, সেটির এজাহার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের কোনো অভিযোগ ছিল না। সেই ভিন্ন মামলার এজাহার উপস্থাপন করে আদালত থেকে জামিন আদেশ নেওয়া হয়, যেখানে দুই বিচারপতি স্বাক্ষর করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ওই জামিন আদেশের প্রথম পৃষ্ঠায় মামলার এজাহার, থানার নাম এবং অভিযোগের ধারা বদলে ফেলা হয়। সেখানে সুকৌশলে কুকি-চিনের পোশাক জব্দের মামলার নম্বর ও ধারা বসিয়ে জাল আদেশটি কারাগারে দাখিল করে আসামি মুক্ত করা হয়।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানা রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম, পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দার (৩৯)। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২ কোটি টাকার বিনিময়ে মংহলাসিন মারমা ও কুকি-চিনের সদস্যদের কাছ থেকে মার্চ মাসে এসব পোশাক তৈরির কার্যাদেশ নেওয়া হয়েছিল। রিংভো অ্যাপারেলসের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে এ জব্দের ঘটনায় সাক্ষী করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরুর দিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে এই সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে এটি গঠনের কথা বলা হলেও সেখানে বম জনগোষ্ঠীর কিছু লোক থাকায় পাহাড়ে সংগঠনটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিতি পায়।

রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষা শেষে প্রথম অফিশিয়াল গান প্রকাশ করছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘গানপোকা’। পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ‘গতিজড়তা’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিও মুক্তি পাবে।
১ ঘণ্টা আগে
নিয়োগে অনিয়ম এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) সশরীরে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৯ মে তাঁকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবিতে কিছু সাজানো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। বিনোদনের জন্য বানানো এসব ভিডিও সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উসকানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য যাচাই সংস্থা ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে