নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান বালেন্দ্রর

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালের সিরাহায় দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের পর একটি শপিং মলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি এ আহ্বান জানান। খবর আলজাজিরার।

গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন বালেন্দ্র শাহ। তিনি দেশবাসীকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে অশান্তির মেঘ দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার ভারতের সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চস্বরে গান বাজানো ও ধর্মীয় পতাকা নিয়ে কিছু হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন বলে পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানান।

এরপর কারফিউ জারি থাকা অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে দেশের নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সব সম্মানিত নেতা, সব রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন এবং শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে। দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করছে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সব পুলিশ সদস্যকে মাঠে সতর্ক অবস্থায় রেখেছি। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে জনসম্পদ রক্ষা এবং যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।’

নেপালের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু। তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিমের বসবাস।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত