ইসরায়েল না থাকলেই অস্ত্র সমর্পণে রাজি হামাস

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০: ০২
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ। ছবি: সিএনএন।

গাজায় ইসরায়েলের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই জাতীয় কমিটির কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে সম্মতি জানিয়েছে হামাস। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আলোচনা দলের সদস্য গাজী হামাদ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গাজায় অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপ থাকবে না।

ফিলিস্তিনের জনগণকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুতি থেকে রক্ষা করতে হামাস এই ছাড় দিয়েছে উল্লেখ করে গাজী হামাদ বলেন, ‘অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের ইস্যুতে ইসরায়েল কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। এই কাজ পরিচালনার একমাত্র দায়িত্বে থাকবে জাতীয় কমিটি। “ন্যাশনাল কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার” (এনসিএজি) নির্ধারিত সময়ে অস্ত্রাগারের তালিকা তৈরি ও তা সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এটিই গাজায় অস্ত্র রাখা, জমা রাখা ও নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র অনুমোদিত সংস্থা হবে।’

দীর্ঘ ছয় মাসের আলোচনার পর এই চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে বলে জানান গাজী হামাদ। তিনি জানান, গাজায় জাতীয় কমিটির প্রবেশ, এলাকাভিত্তিক পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং সার্বিক পুনর্গঠন কাজের সঙ্গে অস্ত্র সংরক্ষণ সরাসরি যুক্ত।

হামাস এখন মধ্যস্থতাকারী দলগুলোর সঙ্গে আগামী ১৪ দিন বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি ও সময়সূচি ঠিক করবে।

তবে ইসরায়েলের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে গাজী হামাদ বলেন, ‘চুক্তিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে যে ইসরায়েলকে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি ইসরায়েল শর্ত ভঙ্গ করে, তবে আমরাও চুক্তি বাস্তবায়ন করব না।’

গাজায় প্রশাসনিক শাসন জোরদার করতে দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা হামাস সম্প্রতি তাদের নিজস্ব শাসন পরিচালনা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।

চুক্তি পর্যালোচনা করে সামরিক বিশেষজ্ঞ নিদাল আবু জায়েদ বলেন, সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ‘অস্ত্র কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক নিরস্ত্রীকরণ’ এবং ‘তৃতীয় পক্ষের কাছে অস্ত্র তালিকাভুক্ত করে জমা রাখা’র মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েল সরাসরি অস্ত্র কেড়ে নিতে চাইলে ফিলিস্তিনিরা তা কখনোই মেনে নিত না, তবে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় কমিটির কাছে জমা রাখার বিষয়টি ভিন্ন।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে ফিলিস্তিনি পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পরে পর্যায়ক্রমে ভারী অস্ত্রগুলো জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে দাবি করেছেন, অস্ত্র জমা সম্পন্ন হলে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে ফিলিস্তিনি পুলিশ ও একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী, যাতে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের সেনারা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ২১৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৯৭৭ জন আহত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Ad 300x250

সম্পর্কিত