নাজিয়া আফরিন

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি সপ্তাহ খানেক আগে ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তা দেন। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান নাকি রাতবিরেতে তাকে ফোনে বিরক্ত করতেন, র্যাব-পুলিশ-এনএসআই-ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিতেন। তিনি যাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তাদের উত্তর ছিল একটাই বাক্য—"উনি তো মন্ত্রী, আমরা কী করব?"
মাহিয়া মাহি, পরীমনি, স্নিগ্ধা চৌধুরী—নাম পাল্টায়, প্রেক্ষাপট পাল্টায়, কিন্তু কাঠামোটা বিস্ময়করভাবে একই থেকে যায়।
গত রোববার রাতে খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা অভিযোগে মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেছেন, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া একটি বিজ্ঞাপনী চুক্তির কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান; এরপর তাকে অন্য একজনের সাথে গুলিয়ে ফেলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর করেন, মুখে ছুঁড়ে দেন গরম কফি, কাঁচি দিয়ে মুখ বিকৃত করার হুমকি দেন। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটায় সুযোগ বুঝে তিনি পালান। আশিয়ান গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, মামলা তদন্তাধীন।
স্নিগ্ধা সংবাদ সম্মেলন করে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে এখন আলোচনায় তিনি নিজেকে নিয়ে কী কী বলেছেন, কী পরে গিয়েছিলেন; অপরাধের বিবরণ নয়, অভিযোগকারীর ভাষা ও ভঙ্গিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, গুরুতর মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত একজন মানুষ সবসময় গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, একটা অপরাধ ঘটেছে আর সেটার দিকে মনোযোগ দেয়া, সেটার বিচার হওয়া জরুরি।
চার বছর আগে পরীমনির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছিলেন তিনি।
মামলা হলো, আসামিরা গ্রেপ্তারও হলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই র্যাব তার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদ-মাদক উদ্ধারের কথা জানাল, তার বন্ধু-মেকআপম্যান গ্রেপ্তার হলেন, গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যম মিলে গল্পটাই ঘুরিয়ে দিল। মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল পরীমনি "কেমন মেয়ে", তার জীবনযাপন কতটা "শালীন"। আউটলুক ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন এই ঘটনাকে ভারতের রিয়া চক্রবর্তীর মিডিয়া ট্রায়ালের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিল, পুলিশ অপ্রমাণিত অথচ রগরগে তথ্য ফাঁস করছিল আর গণমাধ্যম সেটা নিয়ে মেতে উঠেছিল। মূল অভিযোগ সেই হইচইয়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।
মাহিয়া মাহির ঘটনায় ক্ষমতার চেহারাটা আরও স্পষ্ট। কারণ এখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ। মাহি নিজেই বলেছেন, তিনি একা নন, চলচ্চিত্র, সংবাদ উপস্থাপনা ও সংগীতাঙ্গনের আরও অনেক নারী একই ব্যক্তির দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস দেখাননি, কারণ ভয়টা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক—মন্ত্রিত্বের পেছনে থাকা রাষ্ট্রযন্ত্রের। মাহি যখন অবশেষে মুখ খুললেন, তখনও আলোচনার একাংশ ঘুরে গেল তার ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে, ডিভোর্স নিয়ে মন্তব্যের দিকে।
এই সরে যাওয়াটা আকস্মিক নয়, পুনরাবৃত্তির কাঠামো। একজন অভিনেত্রীর "ব্যক্তিগত জীবন" জনপরিসরে আগে থেকেই অর্ধ-প্রকাশ্য সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। ফলে অভিযোগ যাচাইয়ের বদলে তাকে ব্যক্তি হিসেবে বিচার করাটাই সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত, ক্ষমতাবান পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানে একটা প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সেই কাঠামো নিজেকে রক্ষা করতে জানে, প্রয়োজনে অভিযোগকারীর অতীত ঘেঁটে খুঁত বের করে। তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির চটকদার বিবরণ গণমাধ্যমের জন্য বিচারের ধীর প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি লাভজনক। আর চতুর্থত, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করাটা একধরনের মনস্তাত্ত্বিক আত্মরক্ষাও। যদি বলা যায় "সে নিজেই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে", তাহলে বাকিদের মনে স্বস্তি জন্মায় যে এই বিপদ তাদের ছোঁবে না।
হার্ভি ওয়াইনস্টেইনের ঘটনায়ও বিচারের প্রক্রিয়া মসৃণ ছিল না। ২০২০ সালের রায় আপিলে বাতিল হয়েছে, ২০২৫ সালের পুনর্বিচারে মিশ্র রায় এসেছে। কিন্তু একটা মৌলিক তফাত হলো, #মিটু আন্দোলনে আশি জনেরও বেশি নারী একযোগে মুখ খোলার ফলে এককভাবে কারো চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে সেই সম্মিলিত কণ্ঠস্বরের বদলে প্রতিটি অভিযোগ একা লড়ে যায়।
মাহি, পরীমনি, স্নিগ্ধা—প্রত্যেকেই একা দাঁড়িয়েছেন, আর প্রতিবারই একই প্রশ্ন ফিরে এসেছে অপরাধ নয়, অভিযোগকারীর দিকেই। যতদিন এই ক্রম না পাল্টাবে, ততদিন এই বৃত্ত ভাঙবে না।

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি সপ্তাহ খানেক আগে ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তা দেন। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান নাকি রাতবিরেতে তাকে ফোনে বিরক্ত করতেন, র্যাব-পুলিশ-এনএসআই-ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিতেন। তিনি যাদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তাদের উত্তর ছিল একটাই বাক্য—"উনি তো মন্ত্রী, আমরা কী করব?"
মাহিয়া মাহি, পরীমনি, স্নিগ্ধা চৌধুরী—নাম পাল্টায়, প্রেক্ষাপট পাল্টায়, কিন্তু কাঠামোটা বিস্ময়করভাবে একই থেকে যায়।
গত রোববার রাতে খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা অভিযোগে মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেছেন, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া একটি বিজ্ঞাপনী চুক্তির কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান; এরপর তাকে অন্য একজনের সাথে গুলিয়ে ফেলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মারধর করেন, মুখে ছুঁড়ে দেন গরম কফি, কাঁচি দিয়ে মুখ বিকৃত করার হুমকি দেন। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটায় সুযোগ বুঝে তিনি পালান। আশিয়ান গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, মামলা তদন্তাধীন।
স্নিগ্ধা সংবাদ সম্মেলন করে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে এখন আলোচনায় তিনি নিজেকে নিয়ে কী কী বলেছেন, কী পরে গিয়েছিলেন; অপরাধের বিবরণ নয়, অভিযোগকারীর ভাষা ও ভঙ্গিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ বিজয়ী জেসিয়া ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, গুরুতর মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত একজন মানুষ সবসময় গুছিয়ে কথা বলতে পারেন না। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, একটা অপরাধ ঘটেছে আর সেটার দিকে মনোযোগ দেয়া, সেটার বিচার হওয়া জরুরি।
চার বছর আগে পরীমনির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছিলেন তিনি।
মামলা হলো, আসামিরা গ্রেপ্তারও হলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই র্যাব তার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদ-মাদক উদ্ধারের কথা জানাল, তার বন্ধু-মেকআপম্যান গ্রেপ্তার হলেন, গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যম মিলে গল্পটাই ঘুরিয়ে দিল। মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল পরীমনি "কেমন মেয়ে", তার জীবনযাপন কতটা "শালীন"। আউটলুক ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন এই ঘটনাকে ভারতের রিয়া চক্রবর্তীর মিডিয়া ট্রায়ালের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিল, পুলিশ অপ্রমাণিত অথচ রগরগে তথ্য ফাঁস করছিল আর গণমাধ্যম সেটা নিয়ে মেতে উঠেছিল। মূল অভিযোগ সেই হইচইয়ের মধ্যে হারিয়ে গেল।
মাহিয়া মাহির ঘটনায় ক্ষমতার চেহারাটা আরও স্পষ্ট। কারণ এখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ। মাহি নিজেই বলেছেন, তিনি একা নন, চলচ্চিত্র, সংবাদ উপস্থাপনা ও সংগীতাঙ্গনের আরও অনেক নারী একই ব্যক্তির দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস দেখাননি, কারণ ভয়টা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক—মন্ত্রিত্বের পেছনে থাকা রাষ্ট্রযন্ত্রের। মাহি যখন অবশেষে মুখ খুললেন, তখনও আলোচনার একাংশ ঘুরে গেল তার ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে, ডিভোর্স নিয়ে মন্তব্যের দিকে।
এই সরে যাওয়াটা আকস্মিক নয়, পুনরাবৃত্তির কাঠামো। একজন অভিনেত্রীর "ব্যক্তিগত জীবন" জনপরিসরে আগে থেকেই অর্ধ-প্রকাশ্য সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। ফলে অভিযোগ যাচাইয়ের বদলে তাকে ব্যক্তি হিসেবে বিচার করাটাই সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত, ক্ষমতাবান পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানে একটা প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ—সেই কাঠামো নিজেকে রক্ষা করতে জানে, প্রয়োজনে অভিযোগকারীর অতীত ঘেঁটে খুঁত বের করে। তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির চটকদার বিবরণ গণমাধ্যমের জন্য বিচারের ধীর প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি লাভজনক। আর চতুর্থত, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করাটা একধরনের মনস্তাত্ত্বিক আত্মরক্ষাও। যদি বলা যায় "সে নিজেই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে", তাহলে বাকিদের মনে স্বস্তি জন্মায় যে এই বিপদ তাদের ছোঁবে না।
হার্ভি ওয়াইনস্টেইনের ঘটনায়ও বিচারের প্রক্রিয়া মসৃণ ছিল না। ২০২০ সালের রায় আপিলে বাতিল হয়েছে, ২০২৫ সালের পুনর্বিচারে মিশ্র রায় এসেছে। কিন্তু একটা মৌলিক তফাত হলো, #মিটু আন্দোলনে আশি জনেরও বেশি নারী একযোগে মুখ খোলার ফলে এককভাবে কারো চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ করাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে সেই সম্মিলিত কণ্ঠস্বরের বদলে প্রতিটি অভিযোগ একা লড়ে যায়।
মাহি, পরীমনি, স্নিগ্ধা—প্রত্যেকেই একা দাঁড়িয়েছেন, আর প্রতিবারই একই প্রশ্ন ফিরে এসেছে অপরাধ নয়, অভিযোগকারীর দিকেই। যতদিন এই ক্রম না পাল্টাবে, ততদিন এই বৃত্ত ভাঙবে না।
.png)

আমাদের মোট আর্থিক ব্যবস্থার ৯০ শতাংশের বেশিই ব্যাংকনির্ভর। বাকি ১০ শতাংশের কম জুড়ে রয়েছে শেয়ারবাজার, বিমা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, এমন একটি ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলোকে ভালো অবস্থানে না নিতে পারলে নিশ্চিতভাবেই দেশের পুরো আর্থিক কার্যক্রমই স্থবির হয়ে পড়বে।
৩ ঘণ্টা আগে
গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটের বাস্তবায়ন কঠিন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন আরও কমবে, সেটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের বছরের চাইতেও এডিপির কম বাস্তবায়ন হয়েছে পরবর্তী অর্থবছরে।
১৭ ঘণ্টা আগে
একটু হিসাব করলেই বোঝা যায় এই লক্ষ্যটা কত বড়। পাঁচ বছরে দিন থাকে মোট ১ হাজার ৮২৫টি। এই সময়ে ৫০ কোটি গাছ লাগাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার চারা রোপণ করতে হবে। ঘণ্টার হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার ৪০০টিতে!
২১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। আগের ঋণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেটি প্রত্যাশামতো এগোয়নি। এবার আইএমএফের মূল জোর দুটি বিষয়ে—এক. রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি; দুই. সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।
৩০ জুলাই ২০২৬