জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সেনা কর্মকর্তাদের বিচার ‘আর্মি অ্যাক্টে’ করার দাবি আসামিপক্ষের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৩৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্ট্রিম ছবি

গুম, খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তার বিচার প্রচলিত ‘সেনা আইনে’ করার দাবি জানিয়েছে আসামিপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন করে তাদের বিচার শুরু করাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তাদের আইনজীবী।

আসামিপক্ষের দাবি, চাকরিরত অবস্থায় এসব কর্মকর্তার বিচার কেবল আর্মি অ্যাক্ট-১৯৫২- এর অধীনেই হওয়া সম্ভব। মামলাগুলো পুনর্তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ এসব কথা বলেন।

হামিদুল মিসবাহ জানান, ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তিনজন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ১০ জন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে দুটি গুম ও খুন বিষয়ক এবং অপরটি জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। তিন মামলাতেই সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। কিছু সাক্ষীর জেরাও শেষ হয়েছে।

আদালতের অধিক্ষেত্র বা জুরিসডিকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আইনজীবী বলেন, মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার সময় এবং এখনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

তিনি যুক্তি দেখান, ‘গুম বা খুনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ‘রোম স্ট্যাচিউট’-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। এক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন বিবেচনা করলেই হবে না, সেনা আইনের প্রয়োগও দেখতে হবে। চাকরিরত কর্মকর্তা হওয়ায় প্রচলিত সেনা আইনেই তাদের বিচার হওয়া সম্ভব এবং আইনে এখনও সেই সুযোগ রয়েছে।’

আইসিটি আইনের সাম্প্রতিক সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘সেনা আইন থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালের আইনকে ঘষামাজা করে এতে সংশোধন আনা হয়েছে, যা অনেক পুরোনো সেনা আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আমরা মনে করি, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনাটা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এবং ২০২৫ সালে দুই দফায় আইসিটি আইন সংশোধন করা হয়েছে কেবল এই বিচার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ‘রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট’ বা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে আইন প্রয়োগ করা ‘নজিরবিহীন’ এবং এটি সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশনায় মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে পুনর্তদন্তের দাবিও জানান হামিদুল মিসবাহ। তিনি বলেন, ‘কার গুলিতে কে মারা গেছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই কেবল মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচারকার্য চালানো ফেয়ার ট্রায়ালের (ন্যায়বিচার) অন্তরায়।’

সেনাবাহিনীর কাঠামোগত শৃঙ্খলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা যখন র‍্যাব, ডিবি বা ডিজিএফআইতে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) কাজ করেন, তখনও তাদের ‘মাদার অর্গানাইজেশন’ থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ফলে তাদের যেকোনো অপরাধ বা শৃঙ্খলার বিচার আর্মি অ্যাক্টেই হওয়া সমীচীন।

সম্পর্কিত