‘ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আপনাকেও নারীরা ঘিরে ধরেছিল’, হাসনাতকে প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ১৬
সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে
সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয়ের ধরন ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ জানিয়েছেন তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। জবাবে কর্মসূচিটিকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।

কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার নির্বাচনী এলাকাতেও আপনাকে মহিলারা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য।’

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে জানলাম যে ২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষকে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের অধীনে নিয়ে আসব। যাতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন—এই পদক্ষেপগুলো নিঃসন্দেহে মানুষকে সংযুক্ত করেছে। মানুষ এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমরা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা প্রত্যেক বছরে যদি একটা নির্ভরশীল অর্থনীতির খাতে বিনিয়োগ করি, সেক্ষেত্রে এটা কতটা আমাদের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করবে?’

ফ্যামিলি কার্ডের পেছনে ব্যয় করা এই অর্থটা ‘সোশ্যাল সেফটিনেস’ খাতগুলো থেকে কেটে এনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে নাকি নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তা জানতে চান কুমিল্লার এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘যদি নতুন করে দেই, সেক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে কিনা, সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা।’

প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে, সেটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকাতেও আপনাকে মহিলারা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, যেই মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড সরকার দেবে, আপনি চেষ্টা করবেন তাদের ফ্যামিলি কার্ড ডিস্ট্রিবিউট করার জন্য। মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনি নিশ্চয়ই এটি অনুধাবন করতে পারবেন যে ৪ কোটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিব। পর্যায়ক্রমিকভাবে সরকার এটা দেবে।’

পৃথিবীর কোনো সরকারের পক্ষেই একবারে এটি করা সম্ভব না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ডাটাগুলো কালেক্ট করতে হবে। কার কী অবস্থা, প্রত্যেকটা ফ্যামিলির ডাটা কালেক্ট করা হবে। পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা দিব এবং প্রথম স্টেজে আমরা যারা ভালনারেবল ফ্যামিলি, তাদের এই কার্ডগুলো দিব। কাজেই ধীরে ধীরে আমরা বাজেটটি তৈরি করব এবং ধীরে ধীরেই আমরা কার্ড দেওয়ার সংখ্যাটা বাড়াব।’

এজন্য প্রয়োজনীয় ‘হিসাব-নিকাশ’ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাতে করে বাজেটের ওপরে কোনো চাপ পড়ার তেমন কোনো কারণ নেই।’

সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্পগুলো থেকে অর্থ আছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে যেসব ডিফারেন্ট কাইন্ডের এই ধরনের প্রোগ্রাম আছে, আপনি যদি সবগুলোর অর্থ সহযোগিতা অ্যাড করেন দেখবেন যে ফ্যামিলি কার্ডে যে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, সবগুলো অ্যাড করলে সেটার পরিমাণ অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ডে যেই সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে টাকার ভলিউমে সেটা সবচেয়ে বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি দেখুন যেই মানুষগুলো কার্ড পাচ্ছে, এরা কিন্তু কোনো ব্র্যান্ডেড জিনিস ব্যবহার করে না। আমরা সবাই একটু এফোর্ড করতে পারলে ব্র্যান্ডের বিদেশি জিনিস ব্যবহার করি, এই মানুষগুলো কিন্তু যেসব জিনিস ব্যবহার করে সেগুলো কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস। তারা যেই জিনিসগুলো ব্যবহার করে অধিকাংশই দেশীয় কল-কারখানায় দেশেই উৎপাদিত হয়। কাজেই এই টাকাটা যখন তার কাছে যাচ্ছে, সে যখন খরচ করছে, এই টাকাটা কিন্তু গ্রামীণ ইকোনমিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সে হয়তো মুরগি কিনছে অথবা হয়তো থালাবাসন কিনছে, সে হয়তো গামছা কিনছে। যেই সবগুলো জিনিস, সে তার বাচ্চার যে কাপড় কিনছে, সে তার বাচ্চার জন্য যে বই কিনছে, সবগুলো জিনিস লোকালি প্রডিউস হচ্ছে। তার ফলে যেটা হবে, আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলো ধীরে ধীরে এই যে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার কথা আপনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে যাবে। লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে এগুলো হেল্প করবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত