ইরানযুদ্ধে ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার, শুনানিতে জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ২৩
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে করেছে পেন্টাগন। তবে এ যুদ্ধকে ‘জটিল ফাঁদ’ বলতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে হেগসেথ বলেন, এই অভিযানের সমালোচকেরাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছেন। শুনানিতে তিনি ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বানও জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানি এমন একটি আনুষ্ঠানিক সভা যেখানে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষা নীতি, সামরিক বাজেট এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ বা আলোচনা করেন।

শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পেন্টাগনের আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট জানান, যুদ্ধের ব্যয় গোলাবারুদ, সামরিক অভিযান, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ক্রমেই বাড়ছে।

দুই মাস আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের মেয়াদ চার থেকে ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন এ যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আইনপ্রণেতারা।

শুনানিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জন গ্যারামেন্ডি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি জটিল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান মাইক রজার্স প্রস্তাবিত বাজেটের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে ডেমোক্র্যাট সদস্য এডাম স্মিথ এত বড় ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শুনানিতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবিও করেন হেগসেথ। যদিও এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। একই সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসে বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনায় সরব, আর রিপাবলিকানদের বড় অংশ প্রশাসনের পাশে অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিনেট কমিটির সামনে হাজির হবেন হেগসেথ ও সামরিক নেতৃত্ব।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত