কাজ করতে পারছি না অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা জাকসু নেতার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৪০
জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুহিবুল্লাহ শেখ (জিসান) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। কারণ হিসেবে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রথমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জিসান। আজ শুক্রবার বিকেলে এক দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। আগামীকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলেও জানান।

সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে পরিচিত জিসান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে দেওয়া পোস্টে জিসান লিখেছেন, স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে পদত্যাগ করবেন বলে শুরুতেই জানিয়েছিলেন। এরপরও গত প্রায় এক বছরে তার ওপর প্রশাসনিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগত হস্তক্ষেপের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ধরনের দুটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন জিসান। তিনি জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক নির্বাচন নিয়ে তাঁকে একাধিকবার বিব্রত করা হয়। ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে উপস্থাপকের তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েক দফায় তাতে পরিবর্তন আনে। এমনকি অনুষ্ঠান শুরুর দুই ঘণ্টা আগে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আরও দুজন উপস্থাপক যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মঞ্চে গিয়ে তিনি দেখেন, সাতজন উপস্থাপক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

তাঁর অভিযোগ, শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য এটি করা হয়। ওই ঘটনার কারণে একজন উপস্থাপক ভবিষ্যতে আর কোনো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন না বলে জানিয়েছেন। আরেকজন অপমানিত বোধ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

আরেকটি ঘটনার বিষয়ে জিসান বলেন, একটি অনুষ্ঠান চলার সময় তাঁকে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম ঘোষণা করতে বলে প্রশাসন। যাদের অধিকাংশকেই তিনি চিনতেন না। ওই নামগুলো ঘোষণার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে স্টেজের পেছনে এসে তাঁকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে চাপও দেওয়া হয়।

জিসানের অভিযোগ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করেনি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও জাকসু সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। জাকসু ও প্রশাসন থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত