উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৩
ফ্যামিলি কার্ড। সংগৃহীত প্রতীকী ছবি

পাইলট প্রকল্প শেষে আগামী ১৬ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ সদরের লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্বোধন করবেন। এরপর চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যাতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি একটি চলমান বা ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হন। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে যে দুর্বলতা রয়েছে, তা কমানোই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এ জন্য এটি হবে একটি গতিশীল ব্যবস্থা, যেখানে নিয়মিত তথ্য সংশোধন চলবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ কর্মসূচিতে কোনো ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির আলোকে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করা হবে। একসঙ্গে সারা দেশে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বেশিও হতে পারে। চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর।

তিনি জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্য কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাইলট প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের খোঁজ নিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এখন থেকে অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, দারিদ্র্য কতটা কমছে—এসব বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণাও পরিচালনা করা হবে। তবে এ ধরনের গবেষণার জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, কারা সুবিধা পাবেন বা পাবেন না—সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। এগুলো কোনো গোপন নথি নয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এ কর্মসূচির অগ্রগতি তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে সারাদেশের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে কারও মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো পরিবর্তন দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হয়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। বাস্তবায়নের সময় নতুন কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত হলে সেটিও নিয়মিত সংশোধন করা হবে।

তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নয়, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি তথ্য যাচাই করবে। সেখানে আইসিটি ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকবেন। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের সমন্বয়ে কমিটি থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পর্যায়েও পৃথক কমিটি রয়েছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি একাধিক ভাতা না পান। একই ব্যক্তি বারবার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকারের সব নিয়ম, নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত