সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে সরকার: বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৪০
‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে বর্তমান সরকার সুকৌশলে নস্যাৎ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেশকে পুনরায় ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি’ ও এনসিপির ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে দেশ আজ বিপন্ন। দুঃখজনকভাবে আমরা নিজেরাই নতুন সংকট তৈরি করছি—যেমন গণভোটের রায় নস্যাৎ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকারী অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা। ১৯৯০ সালে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে না থাকলেও অনেক কিছু হয়েছিল। আজ সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করা খোঁড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এ সময় তিনি তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য অহেতুক কারণে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে পর্যায়ে পৌঁছাতে ১৫ বছর সময় নিয়েছিল, বিএনপি খুব দ্রুতই সেই স্বৈরাচারী সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আলোচনার জেরে ১৮ জন বিচারককে শোকজ করা বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। এছাড়া ফেসবুক পোস্টের জন্য আবারও গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা ঘটছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ‘অ্যাবসলিউট পাওয়ার’ বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার লোভে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে উল্টো পথে হাঁটছে।

সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান মেনে গঠিত হয়নি, হয়েছিল গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে। এখন যারা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন, তারা মিথ্যাচার করছেন। এই সংসদ এখন ‘ডিবেট ক্লাব’ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

গোলটেবিল বৈঠক শেষে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ‘১১ দলীয় ঐক্য’-এর ব্যানারে চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেভাবে গণরায়কে অমান্য করছে এবং জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা করছে, তার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছি।’

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—৯ এপ্রিল সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ, ১০ এপ্রিল বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ, ১১ এপ্রিল ৬৪ জেলায় বিক্ষোভ মিছিল এবং পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের নিয়ে জাতীয় কনফারেন্স।

এনসিপি নেতা ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন আবু হেনা রাজ্জাকী, দিলারা চৌধুরী, ফাহিম মাশরুর, সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন ও সালেহউদ্দিন সিফাত প্রমুখ।

সম্পর্কিত