বগুড়া ও শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর বড় জয়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া ও শেরপুর

মাহমুদুল হক রুবেল ও রেজাউল করিম বাদশা। সংগৃহীত ছবি

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া সংসদ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি। শেরপুরে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মাহমুদুল হক রুবেল। বগুড়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম বাদশা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেরপুরে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটসহ ১২৮টি কেন্দ্রে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এ ছাড়া বাসদ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন হলেও ভোট পড়েছে ৫২.১৯ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮৬টি ভোট।

শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে এ আসনে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট প্রদানের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনেই জামায়াত প্রার্থী এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাবের পাশাপাশি ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পোস্টাল ব্যালটসহ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তাঁকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম।

এর আগে বগুড়া সদর আসনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকালে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়তে থাকে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রসহ ১৫১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।

রেজাউল করিম বাদশা বগুড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। বগুড়াবাসী আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। বগুড়ার মানুষ আবারও প্রমাণ করেছেন, এই বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘাঁটি।’

সম্পর্কিত