রানা প্লাজায় বাঁচলেও বাসডুবিতে গেল নাসিমার প্রাণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
দিনাজপুর

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৩২
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে প্রাণ হারান নাসিমা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়ার সময় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের চাকা বিস্ফোরিত হয়। অবশ্য নতুন করে কেউ আহত হননি।

নাসিমার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন হয়।

পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, স্বামীহারা নাসিমা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির সন্ধানে সাভারে তাঁর ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। এক মাস চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য ফরিদপুরে আজমিরার শ্বশুরবাড়ি যান।

ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নাসিমা, ভাগনি অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা, তাঁর চার বছরের ছেলে আব্দুর রহমান এবং স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলার সময় তাদের বহনকারী বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এ সময় তারা সবাই বাসেই ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের মধ্যে পানিতে ভেসে উঠে প্রাণে বেঁচে যান আব্দুল আজিজ। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, আজমিরা ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের চাকা বিস্ফোরিত হয়।

নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, নাসিমা রানা প্লাজায় কাজ করতেন। সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে চাকরির জন্য ঢাকায় ভাগনির বাড়িতে যান। সেই যাত্রাই তাঁর জীবনের শেষযাত্রা হলো।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

সম্পর্কিত