১৯৯৯ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৯৭২ কর্মী জাপানে গেছেন।
তৌফিক হাসান

জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চার ক্যাটাগরির মধ্যে স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় (এসএলভি) জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে এই ভিসার বিপরীতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেবে সরকার।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় কর্মী পাঠানোর আগে ঢাকার জাপানিজ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (জুয়াব) মান যাচাই করা জরুরি। তাদের অতীত রেকর্ড ভালো হলে, যৌথ কার্যক্রমে জাপানের শ্রমবাজার বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, বর্তমানে স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় জাপানে বেশি কর্মী যাচ্ছে। এটি জুয়াব নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের সঙ্গে বিষয়তে সরকার যুক্ত থাকবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে জাপান যেসব কর্মী নিচ্ছে, অধিকাংশ ট্রায়াল হিসেবে। তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজ ভালো হলে জাপানের কোম্পানিগুলো কর্মী নেওয়া বাড়িয়ে দেবে।
জাপানের বাজার কেন হারাচ্ছে
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যে, ১৯৯৯ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৯৭২ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে গেছে। মূলত তারা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ (বোয়েসেল) ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানে গেছেন।
জাপানের শ্রমবাজারে দুই যুগেও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় সরকারকে দায়ী করছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, জাপানে কর্মী পাঠাতে নানা ঝক্কি পোহাতে হয়। সরকারকে বলার পরও এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয়।
এ বিষয়ে কেয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৭৫৩) কর্ণধার মোমেনুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘জাপানে জনশক্তি রপ্তানি থমকে থাকার পেছনে বড় দায় সরকারের। তাদের পক্ষ থেকে সঠিক সহায়তা করা হয় না। অন্যান্য দেশ যেখানে জাপান কর্মীর চাহিদা ইস্যুর পর ভিসাসহ যাবতীয় কাজ দুই মাসেই শেষ হয়, সেখানে আমাদের মাসের পর মাস কেটে যায়। ফলে কোম্পানিগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়। তাছাড়া জাপানের যে ক্যাটাগরির কর্মী দরকার, আমরা তা তৈরি করতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো প্রণোদনা নেই।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, জাপানে কর্মী পাঠানোর মূল শর্ত ভাষা শিক্ষা। কিন্তু আমাদের এখানে এই ভাষা শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় জাপানিজ প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ নেই। সরকার যদি জাপানিজ কোম্পানির মাধ্যমে আমাদের জনশক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারে, তবে কর্মী রপ্তানির হার বাড়বে।
স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসা কি, কেন এত আগ্রহ
বাংলাদেশ থেকে তিন ক্যাটাগরি ভিসায় কর্মী নেয় জাপান। এর মধ্যে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং (টিআইটিপি) ভিসায় শুধু জাপানের ভাষার ওপর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা যেতে পারেন এবং দেশটিতে তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। স্কিলড স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডাব্লিও) ভির অধীনে ভাষা ছাড়াও বিভিন্ন দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আর তৃতীয় ক্যাটাগরি ইন্টারন্যাশনাল ভিসার বিপরীতে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীরা যেতে পারেন।
এ সবের বাইরে এখন পর্যন্ত স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসা ক্যাটাগরিতে জাপানে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে। এই ভিসায় এইচএসসি পাসের পরই জাপানে কাজের সুযোগ পাবে। তবে তাদের বাংলাদেশেই জাপানি ভাষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় শিক্ষার্থীরা জাপানে গিয়ে আবারও ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর তারা জাপানি ভাষাসহ ওই দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। পড়ালেখার সময়ে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পান এবং বছরে দেড় থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারেন। দুই বছর শেষে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানিতে এসব শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারেন।
এই ভিসা নিয়ে কাজ করে জুয়াব। তারা দেশের বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার ওপর পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। এরপর উত্তীর্ণরা জাপানে যাওয়ার সুযোগ পান। জুয়াবও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এগিয়ে এলে আরও বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
জুয়াবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এখনো মন্ত্রণালয়ের আলাপ হয়নি। তবে সম্প্রতি জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর ফোন করে আমাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপর দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতও যোগাযোগ করে একই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সরকার সহায়তা করলে আমরাও বড় পরিসরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারব।’
২০২৫ সালের ২৮ মে জাপান সফরে গিয়ে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দেন। সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী নেবে জাপান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. ইউনূসের এই সফরের পরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান’ নামে আলাদা সেল খোলা হয়। নরসিংদীর মনোহরদী কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি পুরোপুরি জাপানি ভাষা ও কাজ শেখানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়। জাপানি কোম্পানি কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস) থেকে প্রশিক্ষক এনে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষ করা হচ্ছে।
যদিও বিএমইটির তথ্য বলছে, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে মাত্র ১ হাজার ৫৬৩ কর্মী জাপান গেছে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গেছে ২৩৯ জন।
গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারও জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, জাপানের সম্ভাব্য শ্রমবাজার ধরতে এখন থেকেই তারা ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছে। দ্রুত ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জানান, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসাকে টার্গেট করে তারা দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে এই ভিসার বিপরীতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী জাপান থেকে অফার লেটার নিয়ে এলেই ঋণ নিতে পারবেন। ভিসা পাওয়ার আগেই তিনি ঋণের টাকা পাবেন।

জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চার ক্যাটাগরির মধ্যে স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় (এসএলভি) জোর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে এই ভিসার বিপরীতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেবে সরকার।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় কর্মী পাঠানোর আগে ঢাকার জাপানিজ ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (জুয়াব) মান যাচাই করা জরুরি। তাদের অতীত রেকর্ড ভালো হলে, যৌথ কার্যক্রমে জাপানের শ্রমবাজার বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, বর্তমানে স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় জাপানে বেশি কর্মী যাচ্ছে। এটি জুয়াব নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের সঙ্গে বিষয়তে সরকার যুক্ত থাকবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে জাপান যেসব কর্মী নিচ্ছে, অধিকাংশ ট্রায়াল হিসেবে। তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজ ভালো হলে জাপানের কোম্পানিগুলো কর্মী নেওয়া বাড়িয়ে দেবে।
জাপানের বাজার কেন হারাচ্ছে
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যে, ১৯৯৯ থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার ৯৭২ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে গেছে। মূলত তারা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ (বোয়েসেল) ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপানে গেছেন।
জাপানের শ্রমবাজারে দুই যুগেও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় সরকারকে দায়ী করছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, জাপানে কর্মী পাঠাতে নানা ঝক্কি পোহাতে হয়। সরকারকে বলার পরও এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয়।
এ বিষয়ে কেয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৭৫৩) কর্ণধার মোমেনুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘জাপানে জনশক্তি রপ্তানি থমকে থাকার পেছনে বড় দায় সরকারের। তাদের পক্ষ থেকে সঠিক সহায়তা করা হয় না। অন্যান্য দেশ যেখানে জাপান কর্মীর চাহিদা ইস্যুর পর ভিসাসহ যাবতীয় কাজ দুই মাসেই শেষ হয়, সেখানে আমাদের মাসের পর মাস কেটে যায়। ফলে কোম্পানিগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়। তাছাড়া জাপানের যে ক্যাটাগরির কর্মী দরকার, আমরা তা তৈরি করতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো প্রণোদনা নেই।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, জাপানে কর্মী পাঠানোর মূল শর্ত ভাষা শিক্ষা। কিন্তু আমাদের এখানে এই ভাষা শেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় জাপানিজ প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ নেই। সরকার যদি জাপানিজ কোম্পানির মাধ্যমে আমাদের জনশক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারে, তবে কর্মী রপ্তানির হার বাড়বে।
স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসা কি, কেন এত আগ্রহ
বাংলাদেশ থেকে তিন ক্যাটাগরি ভিসায় কর্মী নেয় জাপান। এর মধ্যে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং (টিআইটিপি) ভিসায় শুধু জাপানের ভাষার ওপর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা যেতে পারেন এবং দেশটিতে তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। স্কিলড স্পেসিফাইড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডাব্লিও) ভির অধীনে ভাষা ছাড়াও বিভিন্ন দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আর তৃতীয় ক্যাটাগরি ইন্টারন্যাশনাল ভিসার বিপরীতে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীরা যেতে পারেন।
এ সবের বাইরে এখন পর্যন্ত স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসা ক্যাটাগরিতে জাপানে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে। এই ভিসায় এইচএসসি পাসের পরই জাপানে কাজের সুযোগ পাবে। তবে তাদের বাংলাদেশেই জাপানি ভাষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় শিক্ষার্থীরা জাপানে গিয়ে আবারও ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর তারা জাপানি ভাষাসহ ওই দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। পড়ালেখার সময়ে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৫৪ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পান এবং বছরে দেড় থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করতে পারেন। দুই বছর শেষে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানিতে এসব শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারেন।
এই ভিসা নিয়ে কাজ করে জুয়াব। তারা দেশের বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার ওপর পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। এরপর উত্তীর্ণরা জাপানে যাওয়ার সুযোগ পান। জুয়াবও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এগিয়ে এলে আরও বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
জুয়াবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এখনো মন্ত্রণালয়ের আলাপ হয়নি। তবে সম্প্রতি জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর ফোন করে আমাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপর দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতও যোগাযোগ করে একই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সরকার সহায়তা করলে আমরাও বড় পরিসরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারব।’
২০২৫ সালের ২৮ মে জাপান সফরে গিয়ে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দেন। সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী নেবে জাপান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. ইউনূসের এই সফরের পরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান’ নামে আলাদা সেল খোলা হয়। নরসিংদীর মনোহরদী কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি পুরোপুরি জাপানি ভাষা ও কাজ শেখানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়। জাপানি কোম্পানি কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস) থেকে প্রশিক্ষক এনে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষ করা হচ্ছে।
যদিও বিএমইটির তথ্য বলছে, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে মাত্র ১ হাজার ৫৬৩ কর্মী জাপান গেছে। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গেছে ২৩৯ জন।
গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারও জাপানের শ্রমবাজার নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, জাপানের সম্ভাব্য শ্রমবাজার ধরতে এখন থেকেই তারা ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছে। দ্রুত ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিককর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব জানান, স্টুডেন্ট ল্যাঙ্গুয়েজ ভিসাকে টার্গেট করে তারা দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে এই ভিসার বিপরীতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী জাপান থেকে অফার লেটার নিয়ে এলেই ঋণ নিতে পারবেন। ভিসা পাওয়ার আগেই তিনি ঋণের টাকা পাবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে দেশে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা আজ সময়ের দাবি।
৩৩ মিনিট আগে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
৪০ মিনিট আগে
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের চার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করেছে সরকার। বুধবার (২৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
২ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে একটি বাস। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল।
৩ ঘণ্টা আগে