নারীর জীবনযুদ্ধ

যে হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সেখানেই হলেন চিকিৎসক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৮: ০৩
স্ট্রিম কোলাজ

জীবন কাকে কোথায় নিয়ে যায়, তা কেউই বলতে পারে না। যেমন শায় টেইলর অ্যালেন এখন ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে চিকিৎসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ তিনি এখানে টানা ১০ বছর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেছেন। মজার বিষয়– এই হাসপাতালেই জন্ম অ্যালেনের।

৩২ বছর বয়সী অ্যালেনের অদম্য মেধা আর নিরন্তর সংগ্রাম উঠে এসেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, টানা ১০ বছর ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালের বারান্দায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ট্রলি ঠেলেছেন শায় টেইলর অ্যালেন। রোগীদের কক্ষ মোছা, মেঝে জীবাণুমুক্ত করা আর আবর্জনা ফেলাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। তবে শিগগির তিনি এই হাসপাতালের বারান্দায় আবার হাঁটবেন। তবে এবার আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পোশাকে নয়, চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়িয়ে।

অ্যালেন সম্প্রতি ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে ‘অবেদনবিদ’ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট) পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এই বিষয়ে তিনি উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন। নিজের সাফল্যে অভিভূত শায় বলেছেন, ‘এটি আমার জন্য দারুণ এক অনুভূতি। সত্যিই আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি।’

১৯৯৩ সালের অক্টোবরে এই ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে অ্যালেন জন্মগ্রহণ করেন। কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনে সিঙ্গেল মাদারের সংসারে বড় হওয়া অ্যালেন ২০১০ সালে হাইস্কুল শেষ করেন। কলেজে ভর্তির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন– এমন কাউকে তখন পাশে পাননি তিনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইয়েল হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নেন অ্যালেন।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অ্যালেন জানান, কাজের সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে আলাপ করতে পছন্দ করতেন। রোগীরা চিকিৎসক ও নার্সের চেয়ে অনেক সময় সাধারণ কর্মীর সঙ্গে মনের কথা বেশি বলতেন। তবে নিজের জীবনের এই মোড় ঘুরে যাওয়ার পেছনে অ্যালেন তাঁর মায়ের অসুস্থতাকে সামনে আনেন। বলেন, মায়ের শ্বাসকষ্ট। কিন্তু চিকিৎসকরা সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আমি হাসপাতালের তৎকালীন সিইও মারনা পি. বোরগস্ট্রমকে ইমেইল করি। এরপর তাঁর সহায়তায় মায়ের সঠিক চিকিৎসা শুরু হয়। আমার চিকিৎসক হওয়ার পেছনে এই ঘটনা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

যদিও চিকিৎসক হওয়ার যাত্রা সহজ ছিল না অ্যালেনের। ২০১৩ সালে কলেজে ভর্তি হয়েও তিনি পূর্ণকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। ২০১৯ সালে প্রথমবার মেডিকেল স্কুলে ভর্তির আবেদন করেন। ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ফিরিয়ে দেয়। তবে হাল ছাড়েননি অ্যালেন। অবশেষে ২০২১ সালে ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনে পড়ার সুযোগ পান তিনি।

গত ২০ মার্চ অ্যালেন জানতে পারেন তিনি নিজের প্রিয় শহর ও কর্মস্থল ইয়েল হাসপাতালেই চিকিৎসক হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন। মুহূর্তে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে অ্যালেন দিলে ভাইরাল হয়। ইতোমধ্যে টিকটকে ভিডিওটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন।

হাসপাতালের জীবনঘনিষ্ঠ অতীত অভিজ্ঞতা তাঁকে মানবিক চিকিৎসক হতে সহায়তা করবে মনে করেন অ্যালেন। স্বপ্ন দেখেন সাধারণ কর্মীর সঙ্গে চিকিৎসকের সেতুবন্ধনের, ‘আমি যখন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলাম, তখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেতাম। তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরের মনে হতো। আমি সেই ধারণা বদলে দিতে চাই।’

সম্পর্কিত