গুমের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। সংগৃহীত ছবি

গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত সংস্থার হেফাজতে (সেইফ হোম) পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন এবং আয়নাঘর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে শেখ মামুন খালেদের জড়িত থাকার তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শেখ মামুন খালেদ অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এর আগে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যায়নি। আজকে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হলে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আমরা তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার দেখানো) এবং জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলাম। আদালত দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেছেন।’

এ মামলার পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১৯ তারিখে একটি রুটিন ডেট নির্ধারিত রয়েছে। তবে যেহেতু আসামি টানা দুই দিন আমাদের হেফাজতে থাকবেন, সে ক্ষেত্রে ওই রুটিন তারিখের আগেই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, আসামিকে দুই দিনের জন্য সেইফ হোমে রাখার আদেশ পাওয়া গেছে। এই দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে। আর ১৯ তারিখের ডেটটি মূলত একটি নিয়মিত (রুটিন) তারিখ হিসেবে বহাল থাকবে।

এদিকে আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে এখন থেকে পরবর্তী দুই দিন তদন্ত সংস্থার হেফাজতে বা সেইফ হোমে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রুলস অনুযায়ী তাকে কোনো প্রকার থ্রেট (হুমকি) বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কোনো রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই তাঁকে সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুনরায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তাকে অন্য একটি হত্যা মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। সোমবার বিকেলে তাঁকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সম্পর্কিত