দেশের ১০ পয়েন্টে বন্যা, সাজেকে আটকা ৬০০ পর্যটক

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ২০: ৪৭
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী এলাকায় সড়ক দেবে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। সংগৃহীত ছবি

পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের ১০টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ‘মারাত্মক বন্যা’, আর ৬টি পয়েন্টে ‘বন্যা’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পানিতে সড়ক তলিয়ে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সাজেকে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন অন্তত ৬০০ পর্যটক। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির পাঁচ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের আজকের মানচিত্র অনুযায়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৪টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অনেকটা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সেখানে ‘মারাত্মক বন্যা’ দেখা দিয়েছে। এছাড়া আরও ৬টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় সেখানে বন্যা বা ফ্লাড (লাল রং) পরিস্থিতি নির্দেশ করা হয়েছে। বর্তমানে কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

বিশেষ করে খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ১৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

পানিবন্দী কয়েক লাখো মানুষ

টানা পঞ্চম দিনের মতো চলা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের দোহাজারীতে সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গুর পাশাপাশি পানি বেড়েছে ডলু, টঙ্কাবতী, মাইনী ও চেঙ্গী নদীর। এর ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হু হু করে পানি ঢুকছে।

এরই মধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী এবং খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, আটকা পড়েছেন পর্যটকেরা

চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানিতে একের পর এক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সোমবার থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকা পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বুধবার সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট এলাকাও তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি, কেরেঙ্গেনালা ও লিমুছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকেরা। রুইলুইপাড়াসহ সাজেকের বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকে পড়েছেন।

উত্তরাঞ্চলেও বন্যার শঙ্কা

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের মানচিত্রে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি পয়েন্টকে কমলা রঙে অর্থাৎ ‘সতর্কসীমায়’ দেখানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডালিয়া, কাউনিয়া ও কুড়িগ্রাম পয়েন্ট দিয়ে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই দিন সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে দমকা হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত না কমলে বন্যা পরিস্থিতির আরও ভয়াবহ অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত