জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গাবতলীতে ঘরমুখী মানুষের ভিড়

নির্বাচনী ছুটিতে পরিবহনে ভাড়ার নৈরাজ্য

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে টার্মিনালে অভিযান চালায় ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। স্ট্রিম ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজধানী ছাড়ছেন অসংখ্য মানুষ। নির্বাহী আদেশে বুধ-বৃহস্পতিবার ছুটি। পরের দুই দিন শুক্র ও শবিবার। ফলে কারও কারও মিলছে ৪ দিনের ছুটি। এই সুযোগে বাড়ি ফিরছেন তারা। তবে ফেরা মোটেও সুখকর হচ্ছে না। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাসে সিটসংকট এবং টিকিটের চড়া দামের পরও দল বেঁধে বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। যাত্রীদের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে পরিবহনগুলো দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া হাঁকছে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের যাত্রী আব্দুল্লাহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘যে বাসে যাচ্ছি, সেটার আগের ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, এখন চাচ্ছে ৬০০ টাকা। সব বাসেই ভাড়া বাড়িয়েছে, এরপরও সিট পাওয়া যাচ্ছে না।’

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ জীবনের প্রথম ভোট দিতে নিজ বাড়ি পাবনায় যাচ্ছেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সেলফি পরিবহনে করে পাটুরিয়া যাব। স্বাভাবিক ভাড়া ১৬০ টাকা হলেও চাইছে ৩০০ টাকা। এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি, ঈদেও এত ভিড় হয় না। একে তো ছুটি, তার ওপর নির্বাচন—দুইয়ে মিলেই অনেক মানুষ গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে।’

রংপুরের যাত্রী আবছার আলী স্ত্রী ও সন্তানের জন্য ‘রানী এন্টারপ্রাইজ’-এর দুটি টিকিট কেটেছেন ২৪০০ টাকায়। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতি টিকিটের দাম ৬০০ টাকা হিসেবে দুই টিকিটের দাম হওয়ার কথা ১২০০ টাকা। অর্থাৎ তার কাছ থেকে ঠিক দ্বিগুণ ভাড়া রাখা হয়েছে।

এদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে টার্মিনালে অভিযান চালায় ঢাকা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। আবছার আলীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রানী এন্টারপ্রাইজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই চিত্র দেখা যায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী ‘সেলফী পরিবহন’-এর ক্ষেত্রেও। গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ১৬০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগে সেলফী পরিবহনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকার উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ছয়টি টিম মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীর মতো এক্সিট পয়েন্টগুলোতে কাজ করছে। আমাদের জনবল ও সক্ষমতা সীমিত হলেও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। অধিকাংশ কাউন্টার ঠিক থাকলেও কিছু গাড়ি ঝামেলা করছে। আমরা সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনছি।’

তবে সব পরিবহনের বিরুদ্ধেই যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, তা নয়। এস আর ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার মেহেদী হাসান জয় জানান, ‘সব বাস বেশি ভাড়া রাখছে না। আমরা ঈদের সময়ও বাড়তি ভাড়া নিই না, এখনো নিচ্ছি না।’

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি থাকায় বাড়িফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত