‘চিকিৎসা পেতে যেন ফাতেমার আত্মীয় হতে না হয়’, ইউএইচএফপিওদের প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইউএইচএফপিও-র সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (বামে), ফাতেমা বেগমের ফাইল ছবি (ডানে)

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের সেবিকা ফাতেমা বেগমের এক স্বজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসাপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারকে সাহায্য করুন, যেন (চিকিৎসা পেতে) কাউকে ফাতেমার আত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। যেকোনও মানুষ যেন ন্যুনতম চিকিৎসা সুবিধা পান।’

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ফাতেমা বেগমের স্বজন সীমাকে দেখতে ঢামেকে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ফাতেমা বেগমের স্বজনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন

পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গতকাল খবর পেয়েছি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী সন্তান প্রসবের পর সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে রেখে মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নবজাতককে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ফাতেমার স্বজনের সেই চিকিৎসাপ্রাপ্তির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি শুরুতেই ফাতেমার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘একটি নামের সঙ্গে মনে হয় আপনারা সবাই না হলেও বেশ কিছু মানুষ পরিচিত আছেন, ফাতেমা। এই মেয়েটি আমার আম্মার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে জেলেও ছিলেন। যেহেতু আম্মা অসুস্থ ছিলেন। সে অনেকদিন অনেক বছর ধরে আছে, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছে সে। দুদিন আগে তাঁর এক আত্মীয়, বাড়ি বরিশালের দিকে; তার একটা কমপ্লিকেসি দেখা দেয়। পরে তাঁকে বরিশাল হাসপাতালে নেওয়া হলো।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সেখানে চিকিৎসার অপ্রতুলতার কারণে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনছি, আমি তো আর ডাক্তার না। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর কাছে শুনলাম, যে সেখানে সামান্য বেসিক জিনিসটা (চিকিৎসা) ওখানে দেওয়া সম্ভব হয়নি বা দিচ্ছে না। রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফাতেমা স্বাভাবিকভাবে আমার ওয়াইফকে বলেছে, উনিও দুয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেজন্য ফাতেমার সেই আত্মীয় খুব স্বাভাবিকভাবে বেটার চিকিৎসা পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি যেটা সেটা হচ্ছে, সবাই তো ফাতেমা না বা সবাই ফাতেমার আত্মীয় না।’

চিকিৎসকরা আরেকটা দায়িত্বশীল হলে আরও অনেক রোগীর চিকিৎসা ঢাকায় না এনেও করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওখানে যারা দায়িত্বরত ছিলেন, তারা যদি আরেকটু যত্নশীল হতেন, তারা যদি আরেকটু কেয়ারফুল হতেন তাহলে হয়তো অনেক সমস্যা এড়ানো যেত। সব না হলেও অনেকগুলো এড়ানো যেত। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে এই দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমাদের সাহায্য করুন। সরকারকে সাহায্য করুন যেন, আমরা কাউকে ফাতেমার আত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন হবে না। যেকোনও মানুষ যাতে করে ন্যুনতম হলেও চিকিৎসা সুবিধা দিতে পারেন।’

সম্পর্কিত