লেখা:

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। অথচ এই ছোট্ট ভূখণ্ডেই রয়েছে পাহাড়ি চিরসবুজ বন, শালবন, ম্যানগ্রোভ বন, হাওড়-বাঁওড়, নদী-খাল, বিল-ঝিল, উপকূলীয় চরাঞ্চল, তৃণভূমি, বাইদ এবং মৌসুমি জলাভূমির মতো বৈচিত্র্যময় আবাসস্থল। বসবাসের জায়গাগুলোর বৈচিত্র্যের কারণেই বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে অসাধারণ জীববৈচিত্র্য। কিন্তু বর্তমানে দেশের বন্যপ্রাণীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে আবাসস্থল ধ্বংস, জায়গাগুলোর খণ্ডিতকরণ এবং সেগুলোর গুণগত মানের অবনতি।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব প্রাণী নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর নির্ভরশীল কিংবা যাদের আবাসস্থল বিশেষায়িত, তারাই সবচেয়ে দ্রুত হারে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। কারণ এসব প্রাণীকে পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনও তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদ, নির্দিষ্ট জলজ পরিবেশ, নির্দিষ্ট ঘাসভূমি বা নির্দিষ্ট বন কাঠামোর ওপর তাদের জীবনচক্র নির্ভরশীল।
বর্তমানে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো প্রাকৃতিক বনকে গাছের সংখ্যার এবং বৃক্ষ জাতীয় মাধ্যমে মূল্যায়ন করা। ফলে বহু স্থানে প্রাকৃতিক বন উজাড় করে আকাশমণি, ইউক্যালিপ্টাসসহ বিদেশি দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
কাগজে-কলমে বনভূমির পরিমাণ হয়তো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে হারিয়ে গেছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেশ ব্যবস্থা। কারণ একটি প্রাকৃতিক বন কেবল কিছু গাছের সমষ্টি নয়; সেখানে শত শত দেশীয় বৃক্ষ, ঝোপঝাড়, লতা, গুল্ম, ঘাস, মৃত বৃক্ষ, বৃক্ষগহ্বর, ছায়াময় এলাকা এবং জলধারার সমন্বয়ে তৈরি হয় জটিল বাস্তুতন্ত্র।
বিদেশি একক প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কখনোই সেই পরিবেশের বিকল্প হতে পারে না যা বাংলাদেশে ঘটে গিয়েছে। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, অর্থায়নে, জনগণের দেওয়া করের টাকায় ধ্বংস করা হয়েছে প্রাকৃতিক বনগুলো। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছে বন্যপ্রাণীরা।
হয়তো বনকে গাছের সমাহার হিসাবেই ধরা হয়েছে—কখনো এখানকার জটিল বাস্তুতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করা হয়নি। তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত আসা তো দূরের কথা, আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রাণীদের কথা চিন্তায়ও আনা হয়নি। হ্যাঁ, অসংখ্য প্রকল্প হয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রকৃতির যে আপন গতিতে চলার নিয়ম আছে তা একেবারে উপেক্ষিত হয়েছে।
এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীর মধ্যে রয়েছে প্রজাপতি। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রজাপতির জীবনচক্র নির্দিষ্ট দেশীয় উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় লতা-গুল্ম ও বুনো উদ্ভিদ নির্মূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্রজাপতির প্রজননক্ষেত্র। একইভাবে বহু প্রজাতির মৌমাছি, বোলতা, গুবরে পোকা এবং অন্যান্য পরাগায়ণকারী পতঙ্গ দ্রুত কমে যাচ্ছে।
এদের অনেক প্রজাতির অবস্থা সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্যই নেই। বিশেষ করে শহুরে এলাকা গুলোতে প্রজাপতির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমছে। গবেষণা অনুযায়ী আট বছর আগেও ঢাকা শহরে ১৩৭ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা এখন প্রায় অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা শহর ক্রমশ হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। আর দখল-দূষণ তো আছেই।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রজাপতির দেশীয় পোষক উদ্ভিদের সংখ্যা কমে যাওয়া। বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এসব পোষক উদ্ভিদের সংখ্যা কমার বড় কারণ। এ ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ, কলকারখানার বিস্তার, বনভূমি উজাড় করে কৃষি সম্প্রসারণ, যানবাহনে অধিক চাপ, অসচেতনতা প্রভৃতি কারণে প্রজাপতি সংখ্যা আজ হুমকির মুখে।
বিজ্ঞানীদের মতে, বেশ কিছু প্রজাপতি যেমন স্পটেড ব্ল্যাক ক্রো, কমন রেভেন, লেজার ব্যাটউইং, হোয়াইট টাইগারের মতো প্রজাপতির বিস্তৃতি দেশব্যাপী কমে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা না করতে পারলে আমরা হারাব অসংখ্য প্রজাপতি, যা হুমকিস্বরূপ হবে আমাদের কৃষি অর্থনীতিতে।
জলাভূমির অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নদী, খাল, বিল, হাওড় ও ডোবাগুলোতে একসময় প্রচুর জলজ উদ্ভিদ ছিল। শাপলা, শালুক, পানিফল, নলখাগড়া, হোগলাসহ অসংখ্য দেশীয় জলজ উদ্ভিদ জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখত। বর্তমানে জলজ উদ্ভিদকে প্রায়ই ‘আগাছা’ মনে করে ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ এসব উদ্ভিদই অসংখ্য মাছ, ব্যাঙ, ফড়িং, শামুক, কচ্ছপ এবং জলচর পাখির আশ্রয়স্থল ও খাদ্যভূমি।
ফড়িং তার অন্যতম উদাহরণ। ফড়িংয়ের জীবনচক্রের বড় অংশ পানির নিচে কাটে। ফলে জলাভূমির গুণগত মান নষ্ট হলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে থাকে ফড়িং। ফড়িং কমে যাওয়ার অর্থ মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়া।
নিজের করা এক গবেষণা থেকে জেনেছি, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের দিকে ঢাকা শহরে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির ফড়িং দেখা যেত। পাশাপাশি এসব ফড়িংয়ের সংখ্যা ছিল বেশি। কিন্তু ক্রমাগত জলজ পরিবেশের দূষণ, জলাশয় ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে ফড়িং আজ হুমকির মুখে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, এই ফড়িংয়ের এখন টিকে থাকা প্রজাতির সংখ্যা ৩৭। এদের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ, যা মশাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের সংখ্যা বাড়িয়েছে। ফলে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ। সময় এখন জলাভূমিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের। না হলে ক্রমাগতই আমরা হারিয়ে ফেলব আমাদের ফড়িংদের।
একইভাবে ব্যাঙের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ব্যাঙ তার জীবদ্দশায় বিপুল পরিমাণ কৃষিক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমায়। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রজননস্থল ধ্বংস হওয়ার কারণে দেশের উভচর প্রাণীরা চরম সংকটে রয়েছে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানুষ নিজেই। ফসলের খেতে খাদ্যশস্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক। আর শহরে বাড়ছে মশাসহ ক্ষতিকর পতঙ্গ।
বাংলাদেশের কচ্ছপগুলোও আবাসস্থল সংকটের ভয়াবহ শিকার। বাংলাদেশে মোট কচ্ছপ প্রজাতির ৭০% বিলুপ্তির হুমকির মুখে। দেশের অধিকাংশ মিঠাপানির কচ্ছপ নির্ভর করে নদী, পাহাড়ি ছড়া, বিল, খাল ও জলাভূমির ওপর। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়া, দূষণ, ডিম পাড়ার স্থান ধ্বংস এবং অবৈধ শিকারের কারণে দেশের অধিকাংশ কচ্ছপ এখন হুমকির মুখে।
জলাভূমির অবক্ষয়ের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে জলচর পাখিদের মধ্যে। একসময় বাংলাদেশের হাওড়, বিল এবং নদীতীর শীতকালে লাখ লাখ পরিযায়ী পাখির আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু বর্তমানে জলাভূমির আয়তন কমে যাওয়া, জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস, মাছ চাষের জন্য আবাসস্থল পরিবর্তন, পর্যটনের চাপ এবং অবৈধ শিকারের কারণে এসব পাখির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। শুধু পরিযায়ী নয়, দেশীয় পানকৌড়ি, ডাহুক, জলমুরগি, বক, শামুকখোলসহ বহু প্রজাতির পাখিও আবাসস্থল হারাচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা শহরে দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ক্রমেই জলাভূমি ও প্লাবনভূমির এই অঞ্চলপরিণত হয়েছে কনক্রিটের আস্তরণে। আর জলাভূমিকেন্দ্রিক বন্যপ্রাণীরা ক্রমেই হারিয়েছে তার আবাসস্থল।
বাংলাদেশের তৃণভূমি ও বাইদ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে অবহেলিত আবাসস্থলের মধ্যে অন্যতম। অথচ হাতি, শিয়াল, খাটাশ, বনবিড়াল, মেছো বিড়াল, সাপ, গুইসাপ এবং অসংখ্য পাখির জন্য এসব এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অধিকাংশ ঘাসভূমি কৃষিজমি, বসতি অথবা বনায়ন প্রকল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে এসব আবাসস্থলনির্ভর প্রাণীরা দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বিশেষভাবে মেছো বিড়ালের কথা উল্লেখ করা যায়। নামেই যার পরিচয়, এই প্রাণী জলাভূমি ও জলসংলগ্ন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের জলাভূমি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেছো বিড়ালের আবাসও বিলীন হচ্ছে। একই অবস্থা বনবিড়াল ও চিতা বিড়ালের। অনেক স্থানে এদের দেখা মিললেও উপযুক্ত আবাসস্থলের অভাবে টেকসই জনসংখ্যা গড়ে উঠছে না।
শুশুক বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু নদীর দূষণ, নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত নৌযান চলাচল, জালে আটকা পড়া এবং মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার কারণে শুশুকের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। এটি মূলত নদী প্রতিবেশের অবনতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। উল্লুক, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, রেসাস বানর প্রতিটি প্রজাতিই বন ধ্বংসের কারণে খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছে। বন খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রাণীগোষ্ঠী একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জিনগত বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়।
হাতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু হাতির জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত বনাঞ্চল, ঘাসভূমি, বাইদ এবং নিরাপদ চলাচল পথ। বর্তমানে এসব আবাসস্থল দখল, বন উজাড়, বৈদ্যুতিক বেড়া, বসতি সম্প্রসারণ এবং কৃষি কার্যক্রমের কারণে হাতি-মানুষ সংঘাত বাড়ছে। বাস্তবে হাতি মানুষের এলাকায় প্রবেশ করছে না; বরং মানুষ হাতির ঐতিহাসিক বিচরণভূমিতে প্রবেশ করছে।
দুঃখজনকভাবে এখনও আমাদের সংরক্ষণ কার্যক্রমের বড় অংশ প্রজাতিকেন্দ্রিক। অথচ আধুনিক সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানের মূলনীতি হলো আবাসস্থল সংরক্ষণ। একটি সুস্থ জলাভূমি সংরক্ষণ করলে একসঙ্গে শত শত প্রজাতি রক্ষা পায়। একটি প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ করলে শুধু বাঘ বা হাতি নয়, অগণিত পাখি, সরীসৃপ, উভচর, পতঙ্গ ও অণুজীবও সংরক্ষিত হয়।
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য তাই শুধু বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি নয়, বরং দেশীয় উদ্ভিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার, ঘাসভূমি ও বাইদ সংরক্ষণ, জলাভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পুনর্বহাল, নদীর পরিবেশগত প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং আবাসস্থলের বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। নয়তো আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এর অনন্য জীববৈচিত্র্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রকল্পকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে গবেষণা কেন্দ্রিক চিন্তা করতে হবে। সংরক্ষণে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রকৃতিকে সংরক্ষণ নয়, আপন গতিতে চলতে দিতে হবে।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। অথচ এই ছোট্ট ভূখণ্ডেই রয়েছে পাহাড়ি চিরসবুজ বন, শালবন, ম্যানগ্রোভ বন, হাওড়-বাঁওড়, নদী-খাল, বিল-ঝিল, উপকূলীয় চরাঞ্চল, তৃণভূমি, বাইদ এবং মৌসুমি জলাভূমির মতো বৈচিত্র্যময় আবাসস্থল। বসবাসের জায়গাগুলোর বৈচিত্র্যের কারণেই বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে অসাধারণ জীববৈচিত্র্য। কিন্তু বর্তমানে দেশের বন্যপ্রাণীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে আবাসস্থল ধ্বংস, জায়গাগুলোর খণ্ডিতকরণ এবং সেগুলোর গুণগত মানের অবনতি।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব প্রাণী নির্দিষ্ট ধরনের আবাসস্থলের ওপর নির্ভরশীল কিংবা যাদের আবাসস্থল বিশেষায়িত, তারাই সবচেয়ে দ্রুত হারে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। কারণ এসব প্রাণীকে পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনও তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদ, নির্দিষ্ট জলজ পরিবেশ, নির্দিষ্ট ঘাসভূমি বা নির্দিষ্ট বন কাঠামোর ওপর তাদের জীবনচক্র নির্ভরশীল।
বর্তমানে বাংলাদেশের বন ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো প্রাকৃতিক বনকে গাছের সংখ্যার এবং বৃক্ষ জাতীয় মাধ্যমে মূল্যায়ন করা। ফলে বহু স্থানে প্রাকৃতিক বন উজাড় করে আকাশমণি, ইউক্যালিপ্টাসসহ বিদেশি দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
কাগজে-কলমে বনভূমির পরিমাণ হয়তো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে হারিয়ে গেছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেশ ব্যবস্থা। কারণ একটি প্রাকৃতিক বন কেবল কিছু গাছের সমষ্টি নয়; সেখানে শত শত দেশীয় বৃক্ষ, ঝোপঝাড়, লতা, গুল্ম, ঘাস, মৃত বৃক্ষ, বৃক্ষগহ্বর, ছায়াময় এলাকা এবং জলধারার সমন্বয়ে তৈরি হয় জটিল বাস্তুতন্ত্র।
বিদেশি একক প্রজাতির বৃক্ষরোপণ কখনোই সেই পরিবেশের বিকল্প হতে পারে না যা বাংলাদেশে ঘটে গিয়েছে। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, অর্থায়নে, জনগণের দেওয়া করের টাকায় ধ্বংস করা হয়েছে প্রাকৃতিক বনগুলো। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছে বন্যপ্রাণীরা।
হয়তো বনকে গাছের সমাহার হিসাবেই ধরা হয়েছে—কখনো এখানকার জটিল বাস্তুতন্ত্র নিয়ে চিন্তা করা হয়নি। তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত আসা তো দূরের কথা, আবাসস্থল বিশেষায়িত প্রাণীদের কথা চিন্তায়ও আনা হয়নি। হ্যাঁ, অসংখ্য প্রকল্প হয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রকৃতির যে আপন গতিতে চলার নিয়ম আছে তা একেবারে উপেক্ষিত হয়েছে।
এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীর মধ্যে রয়েছে প্রজাপতি। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রজাপতির জীবনচক্র নির্দিষ্ট দেশীয় উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় লতা-গুল্ম ও বুনো উদ্ভিদ নির্মূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্রজাপতির প্রজননক্ষেত্র। একইভাবে বহু প্রজাতির মৌমাছি, বোলতা, গুবরে পোকা এবং অন্যান্য পরাগায়ণকারী পতঙ্গ দ্রুত কমে যাচ্ছে।
এদের অনেক প্রজাতির অবস্থা সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্যই নেই। বিশেষ করে শহুরে এলাকা গুলোতে প্রজাপতির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমছে। গবেষণা অনুযায়ী আট বছর আগেও ঢাকা শহরে ১৩৭ প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা এখন প্রায় অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা শহর ক্রমশ হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। আর দখল-দূষণ তো আছেই।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রজাপতির দেশীয় পোষক উদ্ভিদের সংখ্যা কমে যাওয়া। বৃক্ষ নিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এসব পোষক উদ্ভিদের সংখ্যা কমার বড় কারণ। এ ছাড়া জলবায়ুর পরিবর্তন, পরিবেশদূষণ, কলকারখানার বিস্তার, বনভূমি উজাড় করে কৃষি সম্প্রসারণ, যানবাহনে অধিক চাপ, অসচেতনতা প্রভৃতি কারণে প্রজাপতি সংখ্যা আজ হুমকির মুখে।
বিজ্ঞানীদের মতে, বেশ কিছু প্রজাপতি যেমন স্পটেড ব্ল্যাক ক্রো, কমন রেভেন, লেজার ব্যাটউইং, হোয়াইট টাইগারের মতো প্রজাপতির বিস্তৃতি দেশব্যাপী কমে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা না করতে পারলে আমরা হারাব অসংখ্য প্রজাপতি, যা হুমকিস্বরূপ হবে আমাদের কৃষি অর্থনীতিতে।
জলাভূমির অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নদী, খাল, বিল, হাওড় ও ডোবাগুলোতে একসময় প্রচুর জলজ উদ্ভিদ ছিল। শাপলা, শালুক, পানিফল, নলখাগড়া, হোগলাসহ অসংখ্য দেশীয় জলজ উদ্ভিদ জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখত। বর্তমানে জলজ উদ্ভিদকে প্রায়ই ‘আগাছা’ মনে করে ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ এসব উদ্ভিদই অসংখ্য মাছ, ব্যাঙ, ফড়িং, শামুক, কচ্ছপ এবং জলচর পাখির আশ্রয়স্থল ও খাদ্যভূমি।
ফড়িং তার অন্যতম উদাহরণ। ফড়িংয়ের জীবনচক্রের বড় অংশ পানির নিচে কাটে। ফলে জলাভূমির গুণগত মান নষ্ট হলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে থাকে ফড়িং। ফড়িং কমে যাওয়ার অর্থ মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাওয়া।
নিজের করা এক গবেষণা থেকে জেনেছি, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের দিকে ঢাকা শহরে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির ফড়িং দেখা যেত। পাশাপাশি এসব ফড়িংয়ের সংখ্যা ছিল বেশি। কিন্তু ক্রমাগত জলজ পরিবেশের দূষণ, জলাশয় ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে ফড়িং আজ হুমকির মুখে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, এই ফড়িংয়ের এখন টিকে থাকা প্রজাতির সংখ্যা ৩৭। এদের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ, যা মশাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের সংখ্যা বাড়িয়েছে। ফলে বাড়ছে মশাবাহিত রোগ। সময় এখন জলাভূমিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণের। না হলে ক্রমাগতই আমরা হারিয়ে ফেলব আমাদের ফড়িংদের।
একইভাবে ব্যাঙের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ব্যাঙ তার জীবদ্দশায় বিপুল পরিমাণ কৃষিক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমায়। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রজননস্থল ধ্বংস হওয়ার কারণে দেশের উভচর প্রাণীরা চরম সংকটে রয়েছে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে মানুষ নিজেই। ফসলের খেতে খাদ্যশস্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক। আর শহরে বাড়ছে মশাসহ ক্ষতিকর পতঙ্গ।
বাংলাদেশের কচ্ছপগুলোও আবাসস্থল সংকটের ভয়াবহ শিকার। বাংলাদেশে মোট কচ্ছপ প্রজাতির ৭০% বিলুপ্তির হুমকির মুখে। দেশের অধিকাংশ মিঠাপানির কচ্ছপ নির্ভর করে নদী, পাহাড়ি ছড়া, বিল, খাল ও জলাভূমির ওপর। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়া, দূষণ, ডিম পাড়ার স্থান ধ্বংস এবং অবৈধ শিকারের কারণে দেশের অধিকাংশ কচ্ছপ এখন হুমকির মুখে।
জলাভূমির অবক্ষয়ের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে জলচর পাখিদের মধ্যে। একসময় বাংলাদেশের হাওড়, বিল এবং নদীতীর শীতকালে লাখ লাখ পরিযায়ী পাখির আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু বর্তমানে জলাভূমির আয়তন কমে যাওয়া, জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস, মাছ চাষের জন্য আবাসস্থল পরিবর্তন, পর্যটনের চাপ এবং অবৈধ শিকারের কারণে এসব পাখির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। শুধু পরিযায়ী নয়, দেশীয় পানকৌড়ি, ডাহুক, জলমুরগি, বক, শামুকখোলসহ বহু প্রজাতির পাখিও আবাসস্থল হারাচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা শহরে দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ক্রমেই জলাভূমি ও প্লাবনভূমির এই অঞ্চলপরিণত হয়েছে কনক্রিটের আস্তরণে। আর জলাভূমিকেন্দ্রিক বন্যপ্রাণীরা ক্রমেই হারিয়েছে তার আবাসস্থল।
বাংলাদেশের তৃণভূমি ও বাইদ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে অবহেলিত আবাসস্থলের মধ্যে অন্যতম। অথচ হাতি, শিয়াল, খাটাশ, বনবিড়াল, মেছো বিড়াল, সাপ, গুইসাপ এবং অসংখ্য পাখির জন্য এসব এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অধিকাংশ ঘাসভূমি কৃষিজমি, বসতি অথবা বনায়ন প্রকল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে এসব আবাসস্থলনির্ভর প্রাণীরা দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বিশেষভাবে মেছো বিড়ালের কথা উল্লেখ করা যায়। নামেই যার পরিচয়, এই প্রাণী জলাভূমি ও জলসংলগ্ন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের জলাভূমি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেছো বিড়ালের আবাসও বিলীন হচ্ছে। একই অবস্থা বনবিড়াল ও চিতা বিড়ালের। অনেক স্থানে এদের দেখা মিললেও উপযুক্ত আবাসস্থলের অভাবে টেকসই জনসংখ্যা গড়ে উঠছে না।
শুশুক বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু নদীর দূষণ, নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত নৌযান চলাচল, জালে আটকা পড়া এবং মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার কারণে শুশুকের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। এটি মূলত নদী প্রতিবেশের অবনতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। উল্লুক, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, রেসাস বানর প্রতিটি প্রজাতিই বন ধ্বংসের কারণে খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছে। বন খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রাণীগোষ্ঠী একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জিনগত বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়।
হাতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু হাতির জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত বনাঞ্চল, ঘাসভূমি, বাইদ এবং নিরাপদ চলাচল পথ। বর্তমানে এসব আবাসস্থল দখল, বন উজাড়, বৈদ্যুতিক বেড়া, বসতি সম্প্রসারণ এবং কৃষি কার্যক্রমের কারণে হাতি-মানুষ সংঘাত বাড়ছে। বাস্তবে হাতি মানুষের এলাকায় প্রবেশ করছে না; বরং মানুষ হাতির ঐতিহাসিক বিচরণভূমিতে প্রবেশ করছে।
দুঃখজনকভাবে এখনও আমাদের সংরক্ষণ কার্যক্রমের বড় অংশ প্রজাতিকেন্দ্রিক। অথচ আধুনিক সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানের মূলনীতি হলো আবাসস্থল সংরক্ষণ। একটি সুস্থ জলাভূমি সংরক্ষণ করলে একসঙ্গে শত শত প্রজাতি রক্ষা পায়। একটি প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ করলে শুধু বাঘ বা হাতি নয়, অগণিত পাখি, সরীসৃপ, উভচর, পতঙ্গ ও অণুজীবও সংরক্ষিত হয়।
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য তাই শুধু বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি নয়, বরং দেশীয় উদ্ভিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধার, ঘাসভূমি ও বাইদ সংরক্ষণ, জলাভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পুনর্বহাল, নদীর পরিবেশগত প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং আবাসস্থলের বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। নয়তো আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এর অনন্য জীববৈচিত্র্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রকল্পকেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে গবেষণা কেন্দ্রিক চিন্তা করতে হবে। সংরক্ষণে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রকৃতিকে সংরক্ষণ নয়, আপন গতিতে চলতে দিতে হবে।

ঘড়ির কাঁটা বলছে বিকেল, কিন্তু রোদের উত্তাপ বলছে খাঁ খাঁ দুপুর। গুমোট গরমে বাতাসের ভেতরে তপ্ত বারুদের ঘ্রাণ। একটু হাঁটব বলে এসেছিলাম ধানমন্ডি লেকে। এখন মনে হচ্ছে, বসতে হবে। রোদে-গরমে কুকুরের জিহ্বা বের হয়ে যাওয়ার মতো হাঁপাচ্ছি।
২ ঘণ্টা আগে
আজ আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে—পৃথিবীর অন্যতম উর্বর কৃষিভূমির অধিকারী হয়েও কেন বাংলাদেশ তার নিজস্ব দেশীয় ধানের জাতগুলো নিয়ে বিশ্ববাজারে সুপরিচিত একটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারেনি?
২ ঘণ্টা আগে
কোনো দেশে অন্য দেশের নাগরিক বেআইনিভাবে প্রবেশ বা অননুমোদিতভাবে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বৈকি। এটা ভারতের মতো বাংলাদেশের বেলায়ও সত্য। বাংলাদেশও কারও অনুপ্রবেশ কিংবা অননুমোদিত অবস্থান মেনে নেওয়ার কথা নয়।
৬ ঘণ্টা আগে
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছিল। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ গঠনের যে খবর মিলল, সেটা এমন সহায়তা নিতে আগ্রহীদের মনে স্বস্তি জোগাবে।
১ দিন আগে