৬ শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেবে আদ-দ্বীন হাসপাতাল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২২: ২৮
রাজধানীর মগবাজার আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির।

রোববার (৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

শিশির মনির জানান, উভয় পক্ষই এই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে একমত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, সেগুলোও বহাল থাকবে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে তদারকি ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত কার্যকর ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন ‘স্বাস্থ্য আন্দোলন’। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা দাবি করে, ছয় নবজাতকের মৃত্যু কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়; বরং সুস্পষ্ট অব্যবস্থাপনা, পেশাগত গাফিলতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বহীনতারই ফল।

স্বাস্থ্য আন্দোলন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন ও প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাগত জানালেও রিপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা, রোগীর অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত ও স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগীর জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার বিচার ও স্বাস্থ্য খাতে স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এই বিবৃতিতে একাত্মতা প্রকাশ করে সমর্থন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, নারীপক্ষের সামিয়া আরেফিন এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সম্পর্কিত