মতিঝিলে ৬ ইসলামি ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ ও পাল্টা মানববন্ধন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৪
মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন। সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের ৬টি ইসলামি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। অন্যদিকে তাঁদের ‘এস আলমের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা মানববন্ধন করেছে আরেকটি পক্ষ, যারা নিজেদের এসব ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক বলে দাবি করেছেন।

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন শুরু হয়। তাঁরা সরে যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় একই স্থানে মানববন্ধন করেন শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা।

‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’ শীর্ষক মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-র চাকরিচ্যুতরা অংশ নেন। তাঁরা স্বপদে পুনর্বহালের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ বন্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিচার এবং ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ দাবি করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো কারণ ছাড়াই এই ৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ছাঁটাইকৃতদের বড় অংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের এবং তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই মানববন্ধনে অংশ নিতে তাঁরা গত রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন। পরে মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়—অব্যাহতিপ্রাপ্তদের পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে পেশাজীবীদের বৈষম্যমুক্ত রাখার আইনি নিশ্চয়তা।

অন্যদিকে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার পরিচয় দেওয়া পক্ষটি দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ৬টি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কাছে। ওই সময় ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এখন মব সৃষ্টির মাধ্যমে চাকরি পুনর্বহালের চেষ্টা করছে। এই আন্দোলনের পেছনে এস আলম গ্রুপের ইন্ধন ও অর্থ রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

শেয়ারহোল্ডার পরিচয় দেওয়া মাসুদ হেলাল বলেন, ‘এস আলম গ্রুপ অন্যায়ভাবে ব্যাংক দখল করে পটিয়ার লোকজনকে গণহারে নিয়োগ দিয়েছিল। অনেকের সনদও জাল ছিল। ৫ আগস্টের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে তাঁরা অংশ নেননি অথবা ফেল করেছেন, ফলে তাঁদের ছাঁটাই করা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর আজ তাঁরা পটিয়া থেকে এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।’

গ্রাহক পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এস আলম গ্রুপ দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। লুটপাটকারীদের গ্রেপ্তার করে পাচার হওয়া টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত