স্ট্রিম প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে প্রস্তুতি শুরু করেছে ট্যানারি শিল্প। তবে লবণের বাড়তি দাম এবং সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বার্ষিক চাহিদার অর্ধেক চামড়াই সংগৃহীত হবে এই সময়ে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখের বেশি। সম্ভাব্য কোরবানির সংখ্যা ১ কোটির ওপরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা না গেলে হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ইতোমধ্যে ট্যানারিগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করেছে। শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, রাসায়নিক সংগ্রহ, লবণ মজুত, শ্রমিক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার মাধ্যমে মৌসুমি প্রস্তুতির বড় অংশই সম্পন্ন হয়েছে। ট্যানারিগুলো সোডিয়াম সালফাইড, হাইড্রেটেড লাইম ও বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেটসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহও সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি দক্ষ চামড়া সংগ্রাহক ও সংরক্ষণ দল দেশজুড়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের এবার যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারও অনেক সহায়তা করছে। আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো চামড়ার মান ঠিক রাখা। ঈদের সময় সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার ও সংরক্ষণ না হলে চামড়ার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারমূল্যের ওপর।’
চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে লবণ। এ বছর চামড়া শিল্পের চাহিদা মেটাতে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ টন বিনামূল্যের লবণ বিতরণ করছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
তবে লবণের বাজারে অস্থিরতা ইতোমধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতি ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিএইচএসএমএ) মনজুর হাসান বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আমরা এখনো বকেয়া টাকা পাইনি। তাঁদের কাছে আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাওনা আছে। ব্যাংক থেকে ট্যানারি মালিকদের টাকা ছাড়ের পর আগামী দুই-একদিনর মধ্যে আমরাও টাকা পেতে পারি। এরপর লবণ কিনে প্রস্তুতি শুরু করব। তবে এবারের লবণের দাম নিয়ে আমরা চিন্তিত।’
সাভার সিইটিপি: শিল্পের সবচেয়ে বড় সংকট
রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের মাধ্যমে সাভারের হেমায়েতপুরে গড়ে তোলা হয় সাভার ট্যানারি শিল্পনগরী। প্রায় ২০০ একর জমির ওপর নির্মিত এই শিল্পনগরীতে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ট্যানারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে ১৩৭ থেকে ১৫৫টি ট্যানারি চালু রয়েছে, যদিও পুরো প্রকল্পটি প্রায় ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ধারণক্ষমতা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ট্যানারিগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ৪০ কোটি বর্গফুট ওয়েট-ব্লু চামড়া, ৩০ কোটি বর্গফুট ক্রাস্ট লেদার এবং ১৪ কোটির বেশি বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদনের সমপরিমাণ। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিল্পখাতটি এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্ণ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
সাভার শিল্পনগরীর সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অকার্যকারিতা। প্রকল্পটি দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত হলেও বাস্তবে এটি প্রায়ই অর্ধেক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি শিল্পনগরী পরিদর্শন করে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের এই স্থানান্তরকে ‘অপরিকল্পিত ও অবহেলাজনিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক বর্জ্য শোধন ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটার। কিন্তু ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনমিটারে পৌঁছে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও ক্রোমিয়ামসমৃদ্ধ তরল বর্জ্য সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এতে নদীর পানি ও তলদেশে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ধলেশ্বরী নদীকে ‘প্রায় মৃত’ অবস্থায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার কয়েকটি অস্থায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব সিইটিপি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার চিন্তাও চলছে। ছোট ট্যানারিগুলোকে প্রাথমিকভাবে বর্জ্য ছেঁকে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ফিডার লাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান সিইটিপি আধুনিকায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চলতি মে মাসের শেষ দিকে তাঁদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র তিনটি ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশে মাত্র আটটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিইটিপির সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ ট্যানারি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উচ্চমূল্যের বাজারে সরাসরি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে কম দামে আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া চীনে রপ্তানি করছে। পরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যে পশ্চিমা বাজারে বিক্রি করছে।
দেশীয় উদ্যোক্তারা সাভারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও কার্যকর সিইটিপির অভাবে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ‘উদ্যোক্তারা সাভারে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সিইটিপি না থাকায় আমরা এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রবেশাধিকার পাচ্ছি না।’
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা পিছিয়ে পড়ছি মূলত পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে না চলায়। এ ক্ষেত্রে তিনি এলডব্লিউজি সনদের অভাবকে চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যেখানে ভারতে ১৫০টির বেশি এবং পাকিস্তানে ৮০টির ওপর এলডব্লিউজি সার্টিফাইড ট্যানারি রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো বিশ্বমানের পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্তর্জাতিক সনদের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। ফলে আমাদের কাঁচা চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম ও পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও আমাদের চামড়া খাতের রপ্তানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের আশপাশের বৃত্তে আটকে আছে। অথচ সঠিক সংস্কার ও পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা গেলে এই খাত থেকে সহজে ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব।

ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে প্রস্তুতি শুরু করেছে ট্যানারি শিল্প। তবে লবণের বাড়তি দাম এবং সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বার্ষিক চাহিদার অর্ধেক চামড়াই সংগৃহীত হবে এই সময়ে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখের বেশি। সম্ভাব্য কোরবানির সংখ্যা ১ কোটির ওপরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা না গেলে হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ইতোমধ্যে ট্যানারিগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করেছে। শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, রাসায়নিক সংগ্রহ, লবণ মজুত, শ্রমিক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার মাধ্যমে মৌসুমি প্রস্তুতির বড় অংশই সম্পন্ন হয়েছে। ট্যানারিগুলো সোডিয়াম সালফাইড, হাইড্রেটেড লাইম ও বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেটসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সংগ্রহও সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি দক্ষ চামড়া সংগ্রাহক ও সংরক্ষণ দল দেশজুড়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের এবার যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারও অনেক সহায়তা করছে। আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো চামড়ার মান ঠিক রাখা। ঈদের সময় সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার ও সংরক্ষণ না হলে চামড়ার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারমূল্যের ওপর।’
চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে লবণ। এ বছর চামড়া শিল্পের চাহিদা মেটাতে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ টন বিনামূল্যের লবণ বিতরণ করছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
তবে লবণের বাজারে অস্থিরতা ইতোমধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতি ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিএইচএসএমএ) মনজুর হাসান বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আমরা এখনো বকেয়া টাকা পাইনি। তাঁদের কাছে আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাওনা আছে। ব্যাংক থেকে ট্যানারি মালিকদের টাকা ছাড়ের পর আগামী দুই-একদিনর মধ্যে আমরাও টাকা পেতে পারি। এরপর লবণ কিনে প্রস্তুতি শুরু করব। তবে এবারের লবণের দাম নিয়ে আমরা চিন্তিত।’
সাভার সিইটিপি: শিল্পের সবচেয়ে বড় সংকট
রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের মাধ্যমে সাভারের হেমায়েতপুরে গড়ে তোলা হয় সাভার ট্যানারি শিল্পনগরী। প্রায় ২০০ একর জমির ওপর নির্মিত এই শিল্পনগরীতে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ট্যানারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এখানে ১৩৭ থেকে ১৫৫টি ট্যানারি চালু রয়েছে, যদিও পুরো প্রকল্পটি প্রায় ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ধারণক্ষমতা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের ট্যানারিগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা বছরে প্রায় ৪০ কোটি বর্গফুট ওয়েট-ব্লু চামড়া, ৩০ কোটি বর্গফুট ক্রাস্ট লেদার এবং ১৪ কোটির বেশি বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদনের সমপরিমাণ। তবে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিল্পখাতটি এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্ণ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
সাভার শিল্পনগরীর সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অকার্যকারিতা। প্রকল্পটি দৈনিক প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত হলেও বাস্তবে এটি প্রায়ই অর্ধেক সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি শিল্পনগরী পরিদর্শন করে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের এই স্থানান্তরকে ‘অপরিকল্পিত ও অবহেলাজনিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক বর্জ্য শোধন ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটার। কিন্তু ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনমিটারে পৌঁছে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও ক্রোমিয়ামসমৃদ্ধ তরল বর্জ্য সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এতে নদীর পানি ও তলদেশে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ধলেশ্বরী নদীকে ‘প্রায় মৃত’ অবস্থায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার কয়েকটি অস্থায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। বড় ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব সিইটিপি স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার চিন্তাও চলছে। ছোট ট্যানারিগুলোকে প্রাথমিকভাবে বর্জ্য ছেঁকে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ফিডার লাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি ইতালীয় প্রতিষ্ঠান সিইটিপি আধুনিকায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চলতি মে মাসের শেষ দিকে তাঁদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র তিনটি ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশে মাত্র আটটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিইটিপির সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ ট্যানারি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উচ্চমূল্যের বাজারে সরাসরি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে কম দামে আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া চীনে রপ্তানি করছে। পরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যে পশ্চিমা বাজারে বিক্রি করছে।
দেশীয় উদ্যোক্তারা সাভারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও কার্যকর সিইটিপির অভাবে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ‘উদ্যোক্তারা সাভারে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সিইটিপি না থাকায় আমরা এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রবেশাধিকার পাচ্ছি না।’
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা পিছিয়ে পড়ছি মূলত পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে না চলায়। এ ক্ষেত্রে তিনি এলডব্লিউজি সনদের অভাবকে চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যেখানে ভারতে ১৫০টির বেশি এবং পাকিস্তানে ৮০টির ওপর এলডব্লিউজি সার্টিফাইড ট্যানারি রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো বিশ্বমানের পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্তর্জাতিক সনদের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। ফলে আমাদের কাঁচা চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম ও পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও আমাদের চামড়া খাতের রপ্তানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের আশপাশের বৃত্তে আটকে আছে। অথচ সঠিক সংস্কার ও পরিবেশগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা গেলে এই খাত থেকে সহজে ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব।

বরিশালের হিজলায় মেঘনার শাখা নদীতে আকস্মিক ঝড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আতাউর রহমান খান।
১ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে ২৫ দিনের ছুটিতে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন লম্বা ছুটিতে স্তিমিত হতে দিতে চান না শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এখন অনলাইনে সরব থেকে নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
১ ঘণ্টা আগে
ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোরে কুর্দিস্তান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে